বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ে আসেনা চিকিৎসক-কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা, এতে ভোগান্তিতে রোগীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬। ৯:৩৬:১৭ এএম

দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত অফিস করেন, সেখানে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই কর্মস্থলে। ফলে দূর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯ টার মধ্যে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ২১৫ নম্বর কক্ষে কর্মরত তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে দুইজনই অনুপস্থিত। কক্ষে অপেক্ষমাণ রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকের জন্য বসে থাকলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
একই চিত্র দেখা যায় ২০৩ ও ২০৪ নম্বর কক্ষে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ চেম্বারেই তালা ঝুলতে বা ফাঁকা চেয়ার-টেবিল পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাসপাতালের প্রশাসনিক অংশেও ছিল একই অব্যবস্থাপনা। সকাল ১০টার দিকে তথ্য ডেস্ক সম্পূর্ণ খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য বা নির্দেশনা না পেয়ে এদিক-সেদিক ঘুরছিলেন।
এছাড়া একাউন্টস অফিসার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের কক্ষেও কাউকে পাওয়া যায়নি। কোন কোন কক্ষে তালা এবং কিছু কক্ষে দরজা খোলা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি স্পষ্ট ছিল।

মানিকগঞ্জ জেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রতিদিন শত শত রোগীকে সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি জনসাধারণের আস্থা ও সেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, “সরকার স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেও মাঠপর্যায়ে যদি জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।”

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, “ভোরে রওনা দিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছেছি। কিন্তু ডাক্তার নেই। গরিব মানুষ, প্রাইভেটে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। আমরা সময়মতো আসি, কিন্তু ডাক্তাররা যদি না থাকেন তাহলে সরকারি হাসপাতালের দরকার কী?”
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লিখিতভাবে যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আশা করি অতি দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য | ৫ মার্চ ২০২৬

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ে আসেনা চিকিৎসক-কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা, এতে ভোগান্তিতে রোগীরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ে আসেনা চিকিৎসক-কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা, এতে ভোগান্তিতে রোগীরা

Update Time : ০৯:৩৬:১৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ ২০২৬

দেশের প্রধানমন্ত্রী যেখানে নির্ধারিত সময়ে নিয়মিত অফিস করেন, সেখানে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে দেখা গেছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও অধিকাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর উপস্থিতি নেই কর্মস্থলে। ফলে দূর-দুরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের পড়তে হচ্ছে চরম ভোগান্তিতে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সকাল ৯ টার মধ্যে হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। কিন্তু বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পর সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, ২১৫ নম্বর কক্ষে কর্মরত তিনজন চিকিৎসকের মধ্যে দুইজনই অনুপস্থিত। কক্ষে অপেক্ষমাণ রোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকের জন্য বসে থাকলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
একই চিত্র দেখা যায় ২০৩ ও ২০৪ নম্বর কক্ষে। সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো চিকিৎসকের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। অধিকাংশ চেম্বারেই তালা ঝুলতে বা ফাঁকা চেয়ার-টেবিল পড়ে থাকতে দেখা গেছে।

চিকিৎসকদের পাশাপাশি হাসপাতালের প্রশাসনিক অংশেও ছিল একই অব্যবস্থাপনা। সকাল ১০টার দিকে তথ্য ডেস্ক সম্পূর্ণ খালি পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগীরা প্রয়োজনীয় তথ্য বা নির্দেশনা না পেয়ে এদিক-সেদিক ঘুরছিলেন।
এছাড়া একাউন্টস অফিসার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরের কক্ষেও কাউকে পাওয়া যায়নি। কোন কোন কক্ষে তালা এবং কিছু কক্ষে দরজা খোলা থাকলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি স্পষ্ট ছিল।

মানিকগঞ্জ জেলার প্রধান সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা হাসপাতাল প্রতিদিন শত শত রোগীকে সেবা দিয়ে থাকে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি জনসাধারণের আস্থা ও সেবার মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, “সরকার স্বাস্থ্যখাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেও মাঠপর্যায়ে যদি জবাবদিহিতা না থাকে, তাহলে সেই উন্নয়নের সুফল সাধারণ মানুষ পাবে না।”

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা জানান, “ভোরে রওনা দিয়ে সকাল ৯টার মধ্যে হাসপাতালে পৌঁছেছি। কিন্তু ডাক্তার নেই। গরিব মানুষ, প্রাইভেটে যাওয়ার সামর্থ্য নেই। আমরা সময়মতো আসি, কিন্তু ডাক্তাররা যদি না থাকেন তাহলে সরকারি হাসপাতালের দরকার কী?”
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মোহাম্মদ বাহাউদ্দিন বলেন, ইতিমধ্যেই আমরা হাসপাতালের ডাক্তার ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের লিখিতভাবে যথাসময়ে হাসপাতালে উপস্থিত থাকার জন্য লিখিত ভাবে জানিয়েছি। আশা করি অতি দ্রুতই এর সমাধান হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্য | ৫ মার্চ ২০২৬

মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালে নির্ধারিত সময়ে আসেনা চিকিৎসক-কর্মকর্তারা ও কর্মচারীরা, এতে ভোগান্তিতে রোগীরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com