শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে মিঠু রবিদাস, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শুভেচ্ছা বিনিময়কে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন 

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ৪:৩৭:২৬ এএম

জীবনের প্রায় ২৫টি বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মিঠু রবিদাস। মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকার বাসিন্দা এই মানুষটি রাজনীতির পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ করেন জুতা মেরামতের কাজ করে। শহরে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সামনের ব্রীজসংলগ্ন টং দোকান জুতা মেরামতের ছোট্ট দোকানই ছিল তার পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা ও পুলিশের ধরপাকড়ের মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানান মিঠু রবিদাস। তবুও বিএনপির রাজনীতি থেকে কখনো সরে যাননি। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও ত্যাগের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ।

মিঠু রবিদাসের রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য, জেলা শ্রমিকদলের সদস্য এবং মানিকগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক।

রাজনীতির পাশাপাশি তার জীবনযুদ্ধও কম কঠিন নয়। জুতা মেরামতের কাজ করেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার পরিচালনা করেন তিনি। তার রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

মিঠু রবিদাস জানান, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সামনে ব্রীজসংলগ্ন টং দোকানে জুতা মেরামতের সময়ও নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। দোকানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি টাঙিয়ে রাখতেন তিনি। এ কারণেও বিভিন্ন সময়ে তাকে নানা চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি তার।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি স্মরণ করে মিঠু রবিদাস বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে তার ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আমন্ত্রণ পাওয়া এবং সেখানে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে থেকেই কাজ করে যেতে চাই।

তবে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও মানিকগঞ্জ থেকে প্রত্যাশিতভাবে পদ-পদবি কিংবা রাজনৈতিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় কিছুটা ক্ষোভও রয়েছে তার মনে। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনায় তাকে আরও বেশি মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।

তবে হতাশ নন মিঠু রবিদাস। তিনি আশাবাদী, মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা আপা তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও শ্রমের বিষয়টি বিবেচনা করে অবশ্যই তাকে মূল্যায়ন করবেন।

রাজনীতিতে পদ-পদবির চেয়ে দলের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের পাশে থাকাকেই বড় করে দেখেন মিঠু রবিদাস। জুতা মেরামতের ছোট্ট টং দোকান থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা—তার কাছে বিএনপির রাজনীতি যেন জীবনেরই একটি অংশ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের প্রতি তার এই দীর্ঘদিনের আনুগত্যই তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

 

রাজনীতি | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে মিঠু রবিদাস, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শুভেচ্ছা বিনিময়কে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন 

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে মিঠু রবিদাস, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শুভেচ্ছা বিনিময়কে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন 

Update Time : ০৪:৩৭:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জীবনের প্রায় ২৫টি বছর বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত মিঠু রবিদাস। মানিকগঞ্জ শহরের বেউথা এলাকার বাসিন্দা এই মানুষটি রাজনীতির পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহ করেন জুতা মেরামতের কাজ করে। শহরে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সামনের ব্রীজসংলগ্ন টং দোকান জুতা মেরামতের ছোট্ট দোকানই ছিল তার পরিবারের আয়ের অন্যতম প্রধান অবলম্বন।

রাজনৈতিক জীবনে নানা প্রতিকূলতা, মামলা, হামলা ও পুলিশের ধরপাকড়ের মুখোমুখি হয়েছেন বলে জানান মিঠু রবিদাস। তবুও বিএনপির রাজনীতি থেকে কখনো সরে যাননি। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্য ও ত্যাগের কারণে বিএনপির নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে তিনি পরিচিত মুখ।

মিঠু রবিদাসের রাজনৈতিক পরিচয়ের মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক সদস্য, পৌর বিএনপির সাবেক সদস্য, জেলা শ্রমিকদলের সদস্য এবং মানিকগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যাণ ফ্রন্টের যুগ্ম আহ্বায়ক।

রাজনীতির পাশাপাশি তার জীবনযুদ্ধও কম কঠিন নয়। জুতা মেরামতের কাজ করেই স্ত্রী-সন্তান নিয়ে সংসার পরিচালনা করেন তিনি। তার রয়েছে এক ছেলে ও এক মেয়ে। সীমিত আয়ের মধ্যেও সন্তানদের ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

মিঠু রবিদাস জানান, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে শহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি দেবেন্দ্র কলেজের সামনে ব্রীজসংলগ্ন টং দোকানে জুতা মেরামতের সময়ও নানা হয়রানির শিকার হতে হয়েছে তাকে। দোকানে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি টাঙিয়ে রাখতেন তিনি। এ কারণেও বিভিন্ন সময়ে তাকে নানা চাপ ও হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে বলে দাবি তার।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের নানা স্মৃতি স্মরণ করে মিঠু রবিদাস বলেন, গত ৩ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে তার ভবনে শুভেচ্ছা বিনিময়ের আমন্ত্রণ পাওয়া এবং সেখানে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করতে পারা তার জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন। এ প্রসঙ্গ বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতি করেছি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বিএনপির সঙ্গে থেকেই কাজ করে যেতে চাই।

তবে দীর্ঘদিন রাজনীতি করেও মানিকগঞ্জ থেকে প্রত্যাশিতভাবে পদ-পদবি কিংবা রাজনৈতিক মূল্যায়ন না পাওয়ায় কিছুটা ক্ষোভও রয়েছে তার মনে। তিনি মনে করেন, দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও দলের প্রতি আনুগত্য বিবেচনায় তাকে আরও বেশি মূল্যায়ন করা উচিত ছিল।

তবে হতাশ নন মিঠু রবিদাস। তিনি আশাবাদী, মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা আপা তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ত্যাগ ও শ্রমের বিষয়টি বিবেচনা করে অবশ্যই তাকে মূল্যায়ন করবেন।

রাজনীতিতে পদ-পদবির চেয়ে দলের প্রতি ভালোবাসা ও মানুষের পাশে থাকাকেই বড় করে দেখেন মিঠু রবিদাস। জুতা মেরামতের ছোট্ট টং দোকান থেকে শুরু করে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা—তার কাছে বিএনপির রাজনীতি যেন জীবনেরই একটি অংশ। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের প্রতি তার এই দীর্ঘদিনের আনুগত্যই তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে মানিকগঞ্জের রাজনৈতিক অঙ্গনে।

 

রাজনীতি | ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২৫ বছর ধরে বিএনপির রাজনীতিতে মিঠু রবিদাস, প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে শুভেচ্ছা বিনিময়কে জীবনের শ্রেষ্ঠ অর্জন 

বিস্তারিত | dainikamarnews.com