বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬। ৪:৩৮:২৮ এএম

ম্যাচের আগের দিন প্রেসিং ফুটবলের কৌশল বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। তার সেই কৌশল কাজে দিচ্ছিল দারুণ। ব্রেল এমবোলোর লাল কার্ড উল্টে দিল ম্যাচের গতিপথ। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে সুইজদের বিদায় করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। বিজয়ী দলের হয়ে গোল করেছেন অ্যালিক্সিস ম্যাক আলিস্তার, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজ।

ম্যাচের দশম মিনিটে লিওনেল মেসির মাপা কর্নার থেকে হেডে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন ম্যাক আলিস্তার। এই গোলে এগিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতি থেকে ফিরে চাপ বাড়ায় সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠে খেলতেই দেয়নি তারা আর্জেন্টিনাকে। চাপ বাড়িয়ে গোলও আদায় করে নেয় তারা। বাম প্রান্ত দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ভিতরে ঢুকে কাছ থেকে লক্ষ্যভেদন করেন ড্যান এনদোয়ে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ায়।

এর পাঁচ মিনিট পরই ডাইভ দিয়ে পেনাল্টি আদায় করতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। এর আগে ম্যাক আলিস্তারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। এরপরই মূলত নিজেদের চেনা খেলায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এর আগে বল দখলে এমনি আক্রমণে আধিপত্য ছিল সুইজারল্যান্ডের।

সুইসরা এরপর নেয় পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল। মনে হচ্ছিল তাদের লক্ষ্য ম্যাচ টাইব্রেকারে নেওয়া। তাদের দশ খেলোয়াড়ই সামলেছে রক্ষণ। চাপ বাড়িয়েও আর্জেন্টিনা গোল পাচ্ছিল না। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

রক্ষণ দেয়াল ভেদ করতে না পারায় অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা কৌশল নেয় ডি বক্সে ক্রস দিয়ে গোল আদায় করার। বার বার ব্যর্থ হচ্ছিল সেই কৌশলও। এরপর আলভারেজের সেই দূরপাল্লার উঁচু কোনাকুনি শট এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাঁধন হারা উল্লাস।

ছন্দে না থাকায় দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আলভারেজের। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ২৫ গজ দূর থেকে কোনাকুনি উঁচু শটে সব প্রশ্ন উড়িয়ে দেন এই নাম্বার নাইন। লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি সুইস গোলরক্ষক। দূরহ কোন দিয়ে বল জয়ড়ায় জালে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-১ গোলে।

এরপর গোলের জন্য মরিয়া সুইজারল্যান্ডের রক্ষণ হয়ে যায় আলগা। সেই সুযোগে দারুণ পাল্টা আক্রমণে সব শঙ্কা কাটিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এদিন জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারায় ইংলিশরা।

খেলা | ১২ জুলাই ২০২৬

সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা

Update Time : ০৪:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

ম্যাচের আগের দিন প্রেসিং ফুটবলের কৌশল বেছে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন সুইজারল্যান্ড কোচ মুরাত ইয়াকিন। তার সেই কৌশল কাজে দিচ্ছিল দারুণ। ব্রেল এমবোলোর লাল কার্ড উল্টে দিল ম্যাচের গতিপথ। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ম্যাচে সুইজদের বিদায় করে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে গেল আর্জেন্টিনা।

কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচটি ৩-১ গোলে জিতেছে লিওনেল স্কালোনির দল। বিজয়ী দলের হয়ে গোল করেছেন অ্যালিক্সিস ম্যাক আলিস্তার, হুলিয়ান আলভারেজ ও লাওতারো মার্তিনেজ।

ম্যাচের দশম মিনিটে লিওনেল মেসির মাপা কর্নার থেকে হেডে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে নেন ম্যাক আলিস্তার। এই গোলে এগিয়েই বিরতিতে যায় দুই দল। বিরতি থেকে ফিরে চাপ বাড়ায় সুইজারল্যান্ড। মাঝমাঠে খেলতেই দেয়নি তারা আর্জেন্টিনাকে। চাপ বাড়িয়ে গোলও আদায় করে নেয় তারা। বাম প্রান্ত দিয়ে দারুণ ক্ষিপ্রতায় ভিতরে ঢুকে কাছ থেকে লক্ষ্যভেদন করেন ড্যান এনদোয়ে। গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেসের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে জড়ায়।

এর পাঁচ মিনিট পরই ডাইভ দিয়ে পেনাল্টি আদায় করতে গিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এমবোলো। এর আগে ম্যাক আলিস্তারকে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেছিলেন এই ফরোয়ার্ড। এরপরই মূলত নিজেদের চেনা খেলায় ফেরে আর্জেন্টিনা। এর আগে বল দখলে এমনি আক্রমণে আধিপত্য ছিল সুইজারল্যান্ডের।

সুইসরা এরপর নেয় পুরোপুরি রক্ষণাত্মক কৌশল। মনে হচ্ছিল তাদের লক্ষ্য ম্যাচ টাইব্রেকারে নেওয়া। তাদের দশ খেলোয়াড়ই সামলেছে রক্ষণ। চাপ বাড়িয়েও আর্জেন্টিনা গোল পাচ্ছিল না। ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

রক্ষণ দেয়াল ভেদ করতে না পারায় অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা কৌশল নেয় ডি বক্সে ক্রস দিয়ে গোল আদায় করার। বার বার ব্যর্থ হচ্ছিল সেই কৌশলও। এরপর আলভারেজের সেই দূরপাল্লার উঁচু কোনাকুনি শট এবং আর্জেন্টিনা সমর্থকদের বাঁধন হারা উল্লাস।

ছন্দে না থাকায় দলে জায়গা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল আলভারেজের। বাম প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে ২৫ গজ দূর থেকে কোনাকুনি উঁচু শটে সব প্রশ্ন উড়িয়ে দেন এই নাম্বার নাইন। লাফিয়েও বলের নাগাল পাননি সুইস গোলরক্ষক। দূরহ কোন দিয়ে বল জয়ড়ায় জালে। আর্জেন্টিনা এগিয়ে যায় ২-১ গোলে।

এরপর গোলের জন্য মরিয়া সুইজারল্যান্ডের রক্ষণ হয়ে যায় আলগা। সেই সুযোগে দারুণ পাল্টা আক্রমণে সব শঙ্কা কাটিয়ে দেন লাওতারো মার্তিনেজ। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে বুধবার রাতে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এদিন জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে নরওয়েকে ২-১ গোলে হারায় ইংলিশরা।

খেলা | ১২ জুলাই ২০২৬

সুইজারল্যান্ডকে বিদায় করে সেমি-ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com