সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
নিজেকে ‘বৈধ’ সভাপতি দাবি করে আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা বুলবুলের

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তামিম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬। ৫:০৪:১২ এএম

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রথম সভা করে ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত সেখানে হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সিদ্ধান্ত, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভা ও কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বোর্ড প্রধানই। পাশাপাশি আইসিসির পরামর্শক্রমে রাখা হয়েছে বিসিবির প্রধান নির্বাহীকেও।
বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ছোট বক্তব্যে নিজের তাৎক্ষণিক ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা জানান তামিম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এই বোর্ডের সদস্যরা ইচ্ছেমতো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না। বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন তানজিল চৌধুরি। অ্যাডহক কমিটির এই সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের প্রথম দফার দায়িত্বে ছিলেন বোর্ড পরিচালক। পরে পাপনের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতিবাদে বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এদিন সভা শেষে বিসিবি মুখপাত্র হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইসিসি ও এসিসিতে তামিমকে প্রতিনিধি করার ব্যাপারটিও তুলে ধরেন তানজিল, ‘আইসিসি এবং এসিসিতে আমাদের একটা রিপ্রেজেন্টেশন থাকে, ক্রিকেট বোর্ড থেকে। সেটা মূলত বাই ট্রেডিশন এন্ড অলসো বাই ডিজাইন এবং কন্ডাক্ট, ওটা প্রেসিডেন্ট মহোদয় অ্যাটেন্ড করেন। আমাদের ক্ষেত্রে আমাদের সভাপতি তামিম ইকবালকে আমরা মনোনীত করেছি। পাশাপাশি যেহেতু আমরা একটা অ্যাডহক কমিটি, আমরা নির্বাচিত কমিটি নই বা বোর্ড নই, আইসিসি আমাদেরকে গাইড করেছে যে, এখানে সিইও থাকলে ভালো হয় পদাধিকার বলে। সেটাও আমরা অনুমোদন করেছি।’

তানজিলের এই কথা থেকে আরেকটি ব্যাপারও পরিষ্কার হয়ে গেছে। আইসিসি যেহেতু এখানে পরামর্শ দিয়েছে তাদেরকে, এই অ্যাডহক কমিটি নিয়েও তাদের আপত্তির থাকার কথা নয়। তবে রাতে আপত্তি তুলেছে বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেয়া একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। তাতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কমিটির প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করেন বুলবুল। তার মতে, নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাড-হক কমিটি গঠন একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান।’ পাশাপাশি আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনাও করেন তিনি। আমিনুল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেকে ‘যথাযথভাবে’ নির্বাচিত বিসিবি সভাপতি দাবি করেন এবং এনএসসির কমিটির তদন্তকে ‘বিদ্বেষপ্রসূত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তথাকথিত “তদন্ত প্রতিবেদন” প্রত্যাখ্যান এবং ৬ অক্টোবর,২০২৫-এর বিসিবি নির্বাচনে কোনো অনিয়মের কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি যে, ২০২৬ সালের ৫ই এপ্রিল দাখিল করা প্রতিবেদনটি একটি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য দলিল, যার আইন বা বিসিবির গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিতে কোনো ভিত্তি নেই।’
এনএসসির কমিটির প্রতিবেদনকে বাতিল দাবি করে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে, ‘বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ফেডারেশনের একটি সমাপ্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এনএসসির এই তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়। এখতিয়ার বহির্ভুত হওয়ায় প্রতিবেদনটি বাতিল।’

এই পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং দেশের ক্রিকেটে আঁধার ঘনিয়ে আসবে বলে মনে করেন আমিনুল। এমনকি বাইরের দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, সরকার আমাদের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরে রেখেছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ‘উপসংহারে’ তিনি আবার আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন ও অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আমাদের নির্বাচিত বোর্ডের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ‘অ্যাড-হক কমিটি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনটিও অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং একজন ঊর্ধ্বতন সিআইডি কর্মকর্তাসহ একটি নিরপেক্ষ তিন সদস্যের কমিশন দ্বারা পরিচালিত ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে না।’
সবশেষে নিজের স্বাক্ষরের ওপরে নিজেই মোটা অক্ষরে লেখায় (ফুট নোট) সাবেক এই অধিনায়ক দাবি করেছেন, ‘হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।’

খেলা | ৯ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তামিম

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

নিজেকে ‘বৈধ’ সভাপতি দাবি করে আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা বুলবুলের

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তামিম

Update Time : ০৫:০৪:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

তামিম ইকবালের নেতৃত্বে বিসিবির অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই প্রথম সভা করে ফেলেছে। গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সিদ্ধান্ত সেখানে হয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি সিদ্ধান্ত, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভা ও কার্যক্রমে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন বোর্ড প্রধানই। পাশাপাশি আইসিসির পরামর্শক্রমে রাখা হয়েছে বিসিবির প্রধান নির্বাহীকেও।
বোর্ড সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে ছোট বক্তব্যে নিজের তাৎক্ষণিক ভাবনা ও পরিকল্পনার কথা জানান তামিম। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, এই বোর্ডের সদস্যরা ইচ্ছেমতো সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলবেন না। বোর্ডের মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবেন তানজিল চৌধুরি। অ্যাডহক কমিটির এই সদস্য নাজমুল হাসান পাপনের প্রথম দফার দায়িত্বে ছিলেন বোর্ড পরিচালক। পরে পাপনের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতিবাদে বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। এদিন সভা শেষে বিসিবি মুখপাত্র হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইসিসি ও এসিসিতে তামিমকে প্রতিনিধি করার ব্যাপারটিও তুলে ধরেন তানজিল, ‘আইসিসি এবং এসিসিতে আমাদের একটা রিপ্রেজেন্টেশন থাকে, ক্রিকেট বোর্ড থেকে। সেটা মূলত বাই ট্রেডিশন এন্ড অলসো বাই ডিজাইন এবং কন্ডাক্ট, ওটা প্রেসিডেন্ট মহোদয় অ্যাটেন্ড করেন। আমাদের ক্ষেত্রে আমাদের সভাপতি তামিম ইকবালকে আমরা মনোনীত করেছি। পাশাপাশি যেহেতু আমরা একটা অ্যাডহক কমিটি, আমরা নির্বাচিত কমিটি নই বা বোর্ড নই, আইসিসি আমাদেরকে গাইড করেছে যে, এখানে সিইও থাকলে ভালো হয় পদাধিকার বলে। সেটাও আমরা অনুমোদন করেছি।’

তানজিলের এই কথা থেকে আরেকটি ব্যাপারও পরিষ্কার হয়ে গেছে। আইসিসি যেহেতু এখানে পরামর্শ দিয়েছে তাদেরকে, এই অ্যাডহক কমিটি নিয়েও তাদের আপত্তির থাকার কথা নয়। তবে রাতে আপত্তি তুলেছে বিদায়ী সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের দেয়া একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি। তাতে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কমিটির প্রতিবেদনকে ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য উল্লেখ করে নিজেকেই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি দাবি করেন বুলবুল। তার মতে, নির্বাচিত পরিচালক পর্ষদের বিলুপ্তি এবং তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ‘অ্যাড-হক কমিটি গঠন একটি ‘সাংবিধানিক অভ্যুত্থান।’ পাশাপাশি আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনাও করেন তিনি। আমিনুল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে নিজেকে ‘যথাযথভাবে’ নির্বাচিত বিসিবি সভাপতি দাবি করেন এবং এনএসসির কমিটির তদন্তকে ‘বিদ্বেষপ্রসূত’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তথাকথিত “তদন্ত প্রতিবেদন” প্রত্যাখ্যান এবং ৬ অক্টোবর,২০২৫-এর বিসিবি নির্বাচনে কোনো অনিয়মের কথা দ্ব্যর্থহীনভাবে অস্বীকার। আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলছি যে, ২০২৬ সালের ৫ই এপ্রিল দাখিল করা প্রতিবেদনটি একটি ত্রুটিপূর্ণ, খামখেয়ালী এবং আইনত অগ্রহণযোগ্য দলিল, যার আইন বা বিসিবির গঠনতন্ত্রের দৃষ্টিতে কোনো ভিত্তি নেই।’
এনএসসির কমিটির প্রতিবেদনকে বাতিল দাবি করে তিনি কাঠগড়ায় দাঁড় করার যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হককে, ‘বিসিবির মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত ও স্বশাসিত ফেডারেশনের একটি সমাপ্ত নির্বাচনী প্রক্রিয়া তদন্ত করার কোনো এখতিয়ার জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নেই। আইসিসির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, সদস্য বোর্ডগুলোকে অবশ্যই সরকারি হস্তক্ষেপমুক্তভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের উদ্যোগে শুরু হওয়া এনএসসির এই তদন্ত একটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ, কোনো আইনি প্রক্রিয়া নয়। এখতিয়ার বহির্ভুত হওয়ায় প্রতিবেদনটি বাতিল।’

এই পদক্ষেপের কারণে বাংলাদেশের ক্রিকেট অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে এবং দেশের ক্রিকেটে আঁধার ঘনিয়ে আসবে বলে মনে করেন আমিনুল। এমনকি বাইরের দেশগুলোর দিকে তাকিয়ে তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্যই বুঝতে হবে যে, সরকার আমাদের ক্রিকেটীয় স্বায়ত্তশাসনের গলায় ছুরি ধরে রেখেছে।’ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির ‘উপসংহারে’ তিনি আবার আইসিসির হস্তক্ষেপ কামনা করেন ও অ্যাডহক কমিটিকে অবৈধ দাবি করেন, ‘আমরা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আমাদের নির্বাচিত বোর্ডের পবিত্রতা রক্ষায় অবিলম্বে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানাচ্ছি। ‘অ্যাড-হক কমিটি অবৈধ। তদন্ত প্রতিবেদনটিও অবৈধ। সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী এবং একজন ঊর্ধ্বতন সিআইডি কর্মকর্তাসহ একটি নিরপেক্ষ তিন সদস্যের কমিশন দ্বারা পরিচালিত ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবরের নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে পরবর্তীতে কোনো সরকারি সংস্থা প্রশ্ন তুলতে পারে না।’
সবশেষে নিজের স্বাক্ষরের ওপরে নিজেই মোটা অক্ষরে লেখায় (ফুট নোট) সাবেক এই অধিনায়ক দাবি করেছেন, ‘হাইকোর্ট অন্য কোনো রায় না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলাম বুলবুলই বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি থাকবেন।’

খেলা | ৯ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রতিনিধি তামিম

বিস্তারিত | dainikamarnews.com