বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সর্বকালের সেরাই থাকবেন মেসি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬। ৪:০০:৩১ এএম

লিওনেল মেসির চোখে আবার অশ্রু। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় ম্যাচ শেষে তাকে চোখের জলে দেখা যায়, কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর তার কান্না ছিল ভিন্ন রকম—হয়তো বিদায়ের অশ্রু।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যদি রোববার হয় মেসির “লাস্ট ড্যান্স,” তবে সেই সমাপ্তিটা ছিল হোঁচট খাওয়া। ৩৯ বছর বয়সে অবিশ্বাস্যভাবে ৮ গোল করে চারটি করিয়ে আর্জেন্টিনাকে বলতে গেলে একাই ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ছিলেন প্রায় অদৃশ্য। পুরো ১২০ মিনিটে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেছেন, কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি, আর একমাত্র শটটি নিয়েছেন ১১৭তম মিনিটে।

কিন্তু সময়ের কাছে তিনি অবশেষে হার মানলেন ফাইনালে এসে। আর্জেন্টিনা যখন সবচেয়ে বেশি তার জাদু চাইছিল, তখন তিনি ছিলেন নিস্তেজ।

তবু যদি এটি হয় মেসির শেষ ম্যাচ, তার কান্নাই শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে না। ২০৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮ অ্যাসিস্ট দিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লাউতারো মার্তিনেজকে গোল করানো ছিল তার শেষ অ্যাসিস্ট—সেই ম্যাচ শেষে আনন্দের অশ্রু ঝরেছিল তার চোখে।

পেলে, মারাদোনা, রোনালদো—সবাইকে ছাড়িয়ে মেসি এখন সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি সাধারণ একটা দলকে গ্রেট করে তুলতে পারেন, আর সেটিই প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয়।

ফাইনালের পর ফিফা গোল্ডেন বল পেলেন স্পেনের রদ্রি, কিন্তু দর্শকরা গাইছিলেন “মেসি, মেসি, মেসি।” রদ্রির হাতে ট্রফি থাকলেও স্মৃতিগুলো মেসির। অনেকে এবারও গোল্ডেন বল দেখছিলেন মেসির হাতে। তিনি আগেই অবশ্য দুইবার গোল্ডেন বল ও একটি বিশ্বকাপ জিতেছেন, এ নিয়ে তিনবার খেললেন ফাইনাল— সুতরাংতার আর কিছুই প্রমাণ করার নেই।

সম্ভবত ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ৪৩ বছর বয়সে তাকে আবার দেখা যাবে না। তাই এই ফাইনালই হয়তো তার বিদায়। ফলাফল যাই হোক, এটি ছিল এক কিংবদন্তির এক মহিমান্বিত সমাপ্তি। ৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে সিলভার বল ও সিলভার বুট জেতাও তো সাধারণ কোনো অর্জন নয়।

খেলা | ২১ জুলাই ২০২৬

সর্বকালের সেরাই থাকবেন মেসি

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

সর্বকালের সেরাই থাকবেন মেসি

Update Time : ০৪:০০:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

লিওনেল মেসির চোখে আবার অশ্রু। সাম্প্রতিক সময়ে আর্জেন্টিনার প্রতিটি বড় ম্যাচ শেষে তাকে চোখের জলে দেখা যায়, কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের পর তার কান্না ছিল ভিন্ন রকম—হয়তো বিদায়ের অশ্রু।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে যদি রোববার হয় মেসির “লাস্ট ড্যান্স,” তবে সেই সমাপ্তিটা ছিল হোঁচট খাওয়া। ৩৯ বছর বয়সে অবিশ্বাস্যভাবে ৮ গোল করে চারটি করিয়ে আর্জেন্টিনাকে বলতে গেলে একাই ফাইনালে তুলেছিলেন তিনি, কিন্তু স্পেনের বিপক্ষে ছিলেন প্রায় অদৃশ্য। পুরো ১২০ মিনিটে মাত্র ৫৪ বার বল স্পর্শ করেছেন, কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেননি, আর একমাত্র শটটি নিয়েছেন ১১৭তম মিনিটে।

কিন্তু সময়ের কাছে তিনি অবশেষে হার মানলেন ফাইনালে এসে। আর্জেন্টিনা যখন সবচেয়ে বেশি তার জাদু চাইছিল, তখন তিনি ছিলেন নিস্তেজ।

তবু যদি এটি হয় মেসির শেষ ম্যাচ, তার কান্নাই শেষ স্মৃতি হয়ে থাকবে না। ২০৭ আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২৫ গোল ও ৬৮ অ্যাসিস্ট দিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে লাউতারো মার্তিনেজকে গোল করানো ছিল তার শেষ অ্যাসিস্ট—সেই ম্যাচ শেষে আনন্দের অশ্রু ঝরেছিল তার চোখে।

পেলে, মারাদোনা, রোনালদো—সবাইকে ছাড়িয়ে মেসি এখন সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। তিনি সাধারণ একটা দলকে গ্রেট করে তুলতে পারেন, আর সেটিই প্রকৃত মহত্ত্বের পরিচয়।

ফাইনালের পর ফিফা গোল্ডেন বল পেলেন স্পেনের রদ্রি, কিন্তু দর্শকরা গাইছিলেন “মেসি, মেসি, মেসি।” রদ্রির হাতে ট্রফি থাকলেও স্মৃতিগুলো মেসির। অনেকে এবারও গোল্ডেন বল দেখছিলেন মেসির হাতে। তিনি আগেই অবশ্য দুইবার গোল্ডেন বল ও একটি বিশ্বকাপ জিতেছেন, এ নিয়ে তিনবার খেললেন ফাইনাল— সুতরাংতার আর কিছুই প্রমাণ করার নেই।

সম্ভবত ২০৩০ সালের বিশ্বকাপে ৪৩ বছর বয়সে তাকে আবার দেখা যাবে না। তাই এই ফাইনালই হয়তো তার বিদায়। ফলাফল যাই হোক, এটি ছিল এক কিংবদন্তির এক মহিমান্বিত সমাপ্তি। ৩৯ বছর বয়সে এসেও বিশ্বকাপে আলো ছড়িয়ে সিলভার বল ও সিলভার বুট জেতাও তো সাধারণ কোনো অর্জন নয়।

খেলা | ২১ জুলাই ২০২৬

সর্বকালের সেরাই থাকবেন মেসি

বিস্তারিত | dainikamarnews.com