জাগীর ইউনিয়নে উন্নয়ন বঞ্চনার ক্ষোভ, নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা
- প্রকাশিত : সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬। ৩:২৬:৫৭ এএম
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জাগীর ইউনিয়ন। প্রায় ২৭ হাজার ভোটারের এ ইউনিয়নে রয়েছে বেশ কয়েকটি ছোট-বড় শিল্পকারখানা। জেলা শহরের খুব নিকটে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। সামনে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়নে অসংখ্য শিল্পকারখানা থাকলেও স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়নি। এছাড়া ইউনিয়নের ৯টি ওয়ার্ডের অধিকাংশ সড়ক দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় রয়েছে। নাগরিক সেবা, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, বিভিন্ন সনদ প্রদানসহ ইউনিয়ন পরিষদের সেবার মান নিয়েও রয়েছে নানা অভিযোগ। এসব সমস্যার জন্য স্থানীয়রা সাবেক চেয়ারম্যানদের দায়ী করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, নির্বাচনের সময় উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্বাচনের পর সেগুলোর বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে শিক্ষা, যোগাযোগ ব্যবস্থা, ড্রেনেজ, কর্মসংস্থান ও নাগরিক সেবার মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখনো অবহেলিত।
এদিকে ইউনিয়নের দীর্ঘ দিনের এসব সমস্যা সমাধানে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান পদে সম্ভাব্য প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচারণা জোরদার করেছেন। সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন মানিকগঞ্জ জেলা শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ. মালেক, সদর উপজেলা শ্রমিকদলের সভাপতি জিয়াউর রহমান জিয়া, স্থানীয় বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান খান শ্যামল, ফেরদৌস আলী, সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন এবং সদর উপজেলা হেফাজতে ইসলামের সাংগঠনিক সম্পাদক রমজান মাহমুদ।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আ. মালেক বলেন, “জাগীর ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন বঞ্চিত। জনগণ সুযোগ দিলে সবার আগে ভাঙাচোরা সড়ক সংস্কার, স্বচ্ছ নাগরিক সেবা নিশ্চিত এবং স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের বিষয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করবো।”
জিয়াউর রহমান জিয়া বলেন, “জনগণের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে একটি দুর্নীতিমুক্ত ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।”
মিজানুর রহমান খান শ্যামল বলেন, “দীর্ঘদিনের অবহেলায় ইউনিয়নের অবকাঠামো পিছিয়ে পড়েছে। নির্বাচিত হলে রাস্তা, ড্রেনেজ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবো।”
ফেরদৌস আলী বলেন, “ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হবে। সেবাপ্রার্থীদের হয়রানিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য।”
অ্যাডভোকেট সালাহউদ্দিন বলেন, “সততা, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ইউনিয়ন পরিচালনা করতে চাই। মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবো।”
রমজান মাহমুদ বলেন, “একটি বৈষম্যহীন ও কল্যাণমুখী ইউনিয়ন গঠনই আমার লক্ষ্য। যুবসমাজের কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।”
এদিকে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায় জাগীর ইউনিয়নের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার—সবখানেই সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে চলছে আলোচনা। ভোটারদের প্রত্যাশা, এবার তারা এমন একজন জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করতে চান, যিনি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটাবেন।
রাজনীতি | ২৭ জুলাই ২০২৬
জাগীর ইউনিয়নে উন্নয়ন বঞ্চনার ক্ষোভ, নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা























