১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ
- প্রকাশিত : রবিবার, ৯ আগস্ট ২০২৬। ৯:২০:৫৬ এএম
জাতীয় সংসদে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট প্রবীণ রাজনৈতিক কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে তাদের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী করেছে।
অলি আহমদ লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান। এলডিপি ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শরিফ দল।
রোববার (৯ আগস্ট) রাজধানীর মিন্টু রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের শরিকদের সঙ্গে বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক পরবর্তী সংবাদ বিফ্রিংয়ে এ তথ্য জানান জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘১১ দলের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আমরা অংশ নেবো। ১১ দলের পক্ষ থেকে একজন প্রার্থী দেওয়া হবে। সংসদে ও সংসদের বাইরে আমাদের ১১ দলের নেতারা রয়েছেন। তাই আমাদের পক্ষ থেকে একজন দলীয় প্রধান রাষ্ট্রপতি প্রার্থী থাকবেন।’’
এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘‘১১ দলের জোটের শরিক দল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’’
তিনি বলেন, ‘‘অলি আহমদ বাংলাদেশের একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। তিনি রণাঙ্গনে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি একাধিকবার জাতীয় সংসদের সদস্য ছিলেন। আমরা মনে করি, দেশের বর্তমান সংকটের সময়ে তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে পারবেন। তার নেতৃত্বে সরকারও সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে বলে আমরা মনে করি।’’
রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে ১১–দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক হয়। এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান, দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারওয়ার, ১১ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ, এমডিপির কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, জাগপার রাশেদ প্রধান, খেলাফত মজলিসের মামুনুল হক, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দিন পাটোয়ারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রেস বিফ্রিংয়ে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে এর আগে আলোচনা হয়েছিল, যাতে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য একজনকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া এবং ক্ষমতার ভারসাম্য তৈরিতে রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা কীভাবে বাড়ানো যায়, এ সব বিষয় নিয়েও সংসদে প্রস্তাব এসেছিল। আমাদের প্রত্যাশা ছিল, নির্বাচন শেষে নতুনভাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংবিধান অনুসারে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুযোগ তৈরি হবে, এমনটাই আমরা আশা করেছিলাম।’’
নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন বলেন, ‘‘সরকার সংস্কার প্রক্রিয়া যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করেনি। যারা জুলাই-পরবর্তী সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়েছেন তাদের নিয়ে কার্যকরভাবে অধিবেশনও ডাকেনি সরকার। একইসঙ্গে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনকেও দলীয়করণ করা হচ্ছে। অথচ গত ১৬ বছর বিএনপির যে আন্দোলন ছিল তার অন্যতম দাবি ছিল, শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন নিশ্চিত করা।’’
এনসিপি’র আহ্বায়ক বলেন, ‘‘আমরা প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিনেই বলেছিলাম, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে পরিচিত রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করে জুলাই সনদ অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি দিতে হবে। কিন্তু সেই রাষ্ট্রপতিকে আরও ছয় মাস রেখে দেওয়া হয়। তাকে এখন কোনো ধরনের প্রি-এক্সিট (আগাম অব্যাহতি) দেওয়া হয়েছে কি-না, বিচার বা জবাবদিহির আওতায় আনা হবে কি-না, এ নিয়েও আমাদের সন্দেহ রয়েছে। এ ছয় মাস সময় বাড়ানোর পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনা বা পাঁয়তারা রয়েছে, সেটিও প্রশ্নের বিষয়।’’
অতীতের রাজনৈতিক সংকটের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘‘আমরা জানি, পরবর্তী পাঁচ বছর যে সময় অতিক্রম হবে সেই সময়ে এই (নতুন) রাষ্ট্রপতি থাকবেন। তখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির ভূমিকা কী হবে, রাষ্ট্রপতি নিজে কী ভূমিকা পালন করবেন- এসব বিষয় জাতির সামনে একটি বড় প্রশ্ন তৈরি করছে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতা নিজেদের হাতে ধরে রাখার চেষ্টা দেখা গেছে। এ বিষয়গুলো নিয়ে ১১ দলের বৈঠকেও আলোচনা হয়েছে।’’
রাজনীতি | ৯ আগস্ট ২০২৬
১১ দলের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী অলি আহমদ

























