গড়পাড়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সরব
- প্রকাশিত : শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬। ৮:২৯:০২ এএম
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মধ্যে গড়পাড়া ইউনিয়নটি বরাবরই আলোচনায় থাকে। এর অন্যতম কারণ, এ ইউনিয়নেই সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও মানিকগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য জাহিদ মালেক স্বপনের বাড়ি। রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই ইউনিয়নের মানুষের প্রত্যাশাও ছিল তুলনামূলক বেশি। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকের দাবি, প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়পাড়ায় কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি।
এবার সেই কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মাঠে সরব হতে শুরু করেছেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়েছেন তারা। উঠান বৈঠক, মতবিনিময় ও গণসংযোগের পাশাপাশি ইউনিয়নের উন্নয়ন নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।
সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন গড়পাড়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক দেওয়ান মাসুদ রানা, জেলা বিএনপির সাবেক শ্রমবিষয়ক সম্পাদক মো. শামসুর রহমান শামসুদ্দিন, সদর উপজেলা কৃষকদলের সহসভাপতি আব্দুল হালিম খান, সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি, যুবদল নেতা সাইদুর রহমান এবং জেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিষদ ও শূরা সদস্য মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, দলীয় পরিচয়ের পাশাপাশি এবার তারা প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সততা, মানুষের পাশে থাকার মানসিকতা এবং বাস্তব উন্নয়ন পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিতে চান। বিশেষ করে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, রাস্তাঘাট সংস্কার, জলাবদ্ধতা নিরসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নাগরিক সেবা সহজীকরণকে তারা অগ্রাধিকার দিতে চান।
দেওয়ান মাসুদ রানা বলেন, “গড়পাড়া ইউনিয়নের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে আমি কাজ করতে চাই। ইউনিয়নের রাস্তাঘাট, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি নিষ্কাশন ও নাগরিক সেবার উন্নয়নে অগ্রাধিকার দেব। জনগণের মতামত নিয়ে উন্নয়নের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করাই হবে আমার লক্ষ্য।”
মো. শামসুর রহমান শামসুদ্দিন বলেন, “গড়পাড়ার মানুষ অনেক সম্ভাবনা নিয়ে বসবাস করলেও কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে তারা এখনো পিছিয়ে আছে। আমি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চাই। উন্নয়নকাজে স্বচ্ছতা ও সুষম বণ্টন নিশ্চিত করার চেষ্টা থাকবে।”
আব্দুল হালিম খান বলেন, “কৃষিনির্ভর এই ইউনিয়নের কৃষক ও সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানকে গুরুত্ব দিতে হবে। নির্বাচিত হলে কৃষকদের সুবিধা বৃদ্ধি, রাস্তা-ঘাট উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং দরিদ্র মানুষের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করব।”
ওসমান গনি বলেন, “গড়পাড়ার তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা জরুরি। আমি নির্বাচিত হলে তরুণদের সম্পৃক্ত করে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলতে চাই। পাশাপাশি প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের উদ্যোগ নেব।”
সাইদুর রহমান বলেন, “গড়পাড়া ইউনিয়নের প্রতিটি এলাকার মানুষের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ রয়েছে। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে উন্নয়নকে কোনো নির্দিষ্ট এলাকা বা গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে পুরো ইউনিয়নে সমভাবে পৌঁছে দিতে চাই।”
মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “জনগণের আমানত হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্ব পালন করতে চাই। দুর্নীতি ও অনিয়মমুক্ত সেবা নিশ্চিত করা, রাস্তাঘাট ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব দেওয়া এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো হবে আমার প্রধান অগ্রাধিকার।”
এদিকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী আমেজ তৈরি হতে শুরু করেছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে হাট-বাজার ও পাড়া-মহল্লায় চলছে প্রার্থীদের নিয়ে আলোচনা। কে পাচ্ছেন দলীয় সমর্থন, কার রয়েছে বেশি জনসম্পৃক্ততা এবং শেষ পর্যন্ত কে ভোটারদের আস্থা অর্জন করতে পারবেন—তা নিয়েই চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
তবে গড়পাড়া ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা একটাই—নির্বাচনের পর প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। তাদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে যিনি মানুষের পাশে থাকবেন এবং ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন, ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত তিনিই এগিয়ে থাকবেন।
রাজনীতি | ৮ আগস্ট ২০২৬
গড়পাড়ায় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সরব


























