রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
পূজা উদযাপনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা

আওয়ামীলীগের পদধারী ২০ নেতা নিয়ে মানিকগঞ্জে নবগঠিত পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি, সনাতনী সংগঠনের মাঝে সমালোচনার ঝড়

বিশেষ প্রতিনিধি:
  • প্রকাশিত : সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬। ৩:১৯:৩৯ পিএম

আফরোজা খানম রিতা - 1

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার নবগঠিত কমিটি ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে মানিকগঞ্জের বিএনপির সমর্থিত সনাতনী ৪টি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে।  কেউ কেউ মনে করছে নেপথ্যে বিএনপির কতিপয় নেতা গোপনে আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিষ্টকে পুর্নবাসনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে করে বিএনপির সনাতনী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ২৭ জুন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মানিকগঞ্জ জেলা শাখা সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রী পণব কুমার শিকদার দুলালকে সভাপতি ও ডা: রুহিদাস তরফদারকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়। পরবতির্তে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সহ ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কায্যকরী কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারন সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
এই কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন ২০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে এই পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

তারা হলেন কমিটির (১নং) সহ সভাপতি রথিন সাহা (শিবালয় উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক), কমিটির (২নং) সহ সভাপতি শ্রী অর্নিবান কুমার পাল (পৌর আওয়ামীলীগের ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক), কমিটির (৫নং) সহ সভাপতি ভোলানাথ হালদার (মানিকগঞ্জ জেলা মৎসজীবী লীগের সভাপতি), কমিটির (১৯নং) সহ সাধারন সম্পাদক এ্যাড: ইতি রানী সাহা (সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক),কমিটির (১৭নং) দপ্তর সম্পাদক মানিক দাস রুদ্র (দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক), কমিটির (২৬নং) সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিদিতা চক্রবর্তী (মহিলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নারী নেত্রী), কমিটির (২৯নং) গণসংযোগ সম্পাদক রঘুনাথ সাহা (সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ), কমিটির (৩৯নং) সদস্য এ্যাড: অসীম কুমার বিশ্বাস (জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক), কমিটির (৪১নং) সদস্য অধ্যাপক সমরেন্দু সাহা লাহোর (সাটুারিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪২) সদস্য শচিন মিত্র (জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি), কমিটির (৪৩নং) সদস্য রতন মজুমদার (পৌর আওয়ামীলীগের ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি), কমিটির (৪৪নং) সদস্য মনোরঞ্জন ঘোষ (জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪৫নং) সদস্য সুদীপ ঘোষ বাসু (জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪৬ নং) সদস্য দিলীপ ফৌজদার (দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), কমিটির (৪৭নং) সদস্য পিয়াস চৌধুরী (হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪৮নং) সদস্য প্রদেসৎ কুমার ঘোষ এপোলো (সাটুরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি) কমিটির (৫০নং) সদস্য আনন্দ কুমার সাহা (ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি), কমিটির (৫২ নং) সদস্য এ্যাড: সুকুমার সরকার (শিবালয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৫৫নং) সদস্য প্রদীপ বাকালী( সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৫৬নং) সদস্য সুব্রত শীল গোবিন্দ (ঘিওর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। এছাড়া গুরুত্বপূর্ন পদ ছাড়া আওয়ামীলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে অর্ন্তভূক্ত থাকা আরোও কয়েকজন এই পূজা উদযাপন কমিটিতে স্থান পেয়েছে। নবগঠিত এই কমিটির গঠনের পর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আর্শিরবাদ নিতে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে যাচ্ছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্টান কল্যান ফ্রন্ট মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক রঞ্জিত কুমার দে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা বিএনপি সমর্থিত সনাতনীরা তাদের প্রভাবে এই এই কালিবাড়ী ঢুকতে পারি নাই। ২৪ জুলাই আন্দোলনের পর থেকে তার সকলেই পলাতক ছিলেন। এখন নতুন পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটির নামে তারা আবার আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে গোপনে যোগযোগ করে বিএনপির কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমারা এটা কখনও মেনে নিতে পারি না। এব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়ার আসনের এমপি ও খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ী কমিটির সাধারন সম্পাদক ও জেলা হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফন্টের সদস্য সচিব গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি বিএনপি করার কারনে বিগত সময়ে আমি সহ অনেকেই অনেক জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য আমাকে ও আমাদের বিএনপির শিশির কুমার দাসকে কোন কিছু না বলে পূজা উদযাপনের কমিটিতে সদস্য হিসেবে নাম অন্তভূক্ত করেছে। আমরা সাথে সাথে প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমারা আওয়ামীলীগের কমিটিতে কোন ভাবেই থাকতে পারি না। উক্ত সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার করেছি।
কতিপয় বিএনপি নেতার যোগসাজশে এখন পূজা উদযাপনের ব্যানারে তারা জাতীয়তাবাদী সনাতনী ধর্মের সংগঠনকে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে তাদের পূজা উদযাপনের ব্যানারে আমাদের প্রোগ্রাম করতে বলে। এর চেয়ে আর দু:খজনক আর কি হতে পারে। এধরনের কাজ ভবিষ্যতে করলে তাদের কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে।

জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফ্রন্টের যুগ্ম আহবায়ক মিঠু রবিদাস বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ হলো আওয়ামীলীগের সংগঠন। তাই আওয়ামীলীগের ২৬ জনের অধিক নেতাকর্মী এই কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে আছে। আমাদের বিএনপির কোন কোন নেতাকর্মী গোপনে তাদের সাথে সখ্যতা রেখে চলছে। যার কারনে তারা দিনদিন সক্রিয় হচ্ছে এবং প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।আগামী জন্মাষ্টমী ঘিরে কোন ষড়যন্ত্র করলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড: সুনীল মন্ডল বলেন, তাদের আওয়ামীলীগের দাপটে এই কালিবাড়ী মন্দিরে আমারা প্রোগ্রাম করতে পারি নাই। তারা এত সাহত কিভাবে পায়, এখন আমাদের তাদের সাথে প্রোগ্রাম করতে বলে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভা রবিদাস নৃ-তাত্তিকগষ্ঠি সমবায় সমিতির সভাপতি দশরথ রবিদাস বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ হলো সরাসরি আওয়ামীলীগের পারপার্স সাভ করে বা দিকর্নিদেশনা অনুযায়ী চলে। বিগত সময়ে তাদের অনেক জুলুম নির্যাতন সহ করতে হয়েছে। এখন তারা অর্থের বিনিময়ে কতিপয় বিএনপির নেতাদের ম্যানেজ করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি ফেডারেশন মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক শিশির কুমার দাস বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রী আমাদের নেত্রী সনাতনী ধর্মের প্রত্যেক নিরাপত্তা দিয়েছে। সকল সনাতনীর মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। পূজা উদযাপনের নতুন কমিটি গঠন ঘিরে অনেক সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে।এতে করে সনাতনীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এবিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নবগঠিত মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শ্রী প্রনব কুমার সিকদার দুলাল বলেন, এই কমিটিতে যারা আছে তারা রাজনীতি করে কিনা আমি জানি না। তারা যদি এখানে রাজনীতি করে তাহলে তো তাদের ঠাই নাই। আমি নিজে কোনদিন পলিটিক্স করি নাই, তাই আমার এখানেও কোন পলিটিক্স্রের স্থান নাই, সে আওয়ামী লীগ, বিএনপি যাই করুক। তিনি আরো বলেন, আমাদের সেন্ট্রালের সেক্রেটারী সন্তোষ শর্মা সাহেব আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে কেউ রাজনীতি করলে তাদের কমিটিতে রাখা যাবে না।

যেসব আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এই কমিটিতে আছে তাদের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ যদি কমিটিতে আওয়ামী লীগের থেকে থাকে, তবে আমি ব্যাপারটা দেখব এবং তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইবো, ব্যাখ্যা যদি সেটিসফাই হয় তাহলে থাকবে, নইলে না।

রাজনীতি | ২৪ আগস্ট ২০২৬

আওয়ামীলীগের পদধারী ২০ নেতা নিয়ে মানিকগঞ্জে নবগঠিত পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি, সনাতনী সংগঠনের মাঝে সমালোচনার ঝড়

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

পূজা উদযাপনের মাধ্যমে আওয়ামীলীগ সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা

আওয়ামীলীগের পদধারী ২০ নেতা নিয়ে মানিকগঞ্জে নবগঠিত পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি, সনাতনী সংগঠনের মাঝে সমালোচনার ঝড়

Update Time : ০৩:১৯:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মানিকগঞ্জ জেলা শাখার নবগঠিত কমিটি ঘিরে সমালোচনার ঝড় বইছে মানিকগঞ্জের বিএনপির সমর্থিত সনাতনী ৪টি সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে সমালোচনার ঝড় বইছে।  কেউ কেউ মনে করছে নেপথ্যে বিএনপির কতিপয় নেতা গোপনে আর্থিকভাবে সুবিধা নিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিষ্টকে পুর্নবাসনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এতে করে বিএনপির সনাতনী নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষত সৃষ্টি হচ্ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, চলতি বছর ২৭ জুন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ মানিকগঞ্জ জেলা শাখা সম্মেলনের মাধ্যমে শ্রী পণব কুমার শিকদার দুলালকে সভাপতি ও ডা: রুহিদাস তরফদারকে সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হয়। পরবতির্তে সভাপতি ও সাধারন সম্পাদক সহ ৮১ সদস্য বিশিষ্ট কায্যকরী কমিটি অনুমোদন দেয় কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি বাসুদেব ধর ও সাধারন সম্পাদক সন্তোষ শর্মা।
এই কমিটি পর্যালোচনা করে দেখা যায়, মানিকগঞ্জ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আওয়ামীলীগের গুরুত্বপূর্ন ২০ জনের বেশি নেতা-কর্মীকে এই পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়।

তারা হলেন কমিটির (১নং) সহ সভাপতি রথিন সাহা (শিবালয় উপজেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক), কমিটির (২নং) সহ সভাপতি শ্রী অর্নিবান কুমার পাল (পৌর আওয়ামীলীগের ৫ নং ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক), কমিটির (৫নং) সহ সভাপতি ভোলানাথ হালদার (মানিকগঞ্জ জেলা মৎসজীবী লীগের সভাপতি), কমিটির (১৯নং) সহ সাধারন সম্পাদক এ্যাড: ইতি রানী সাহা (সিংগাইর উপজেলা আওয়ামীলীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক),কমিটির (১৭নং) দপ্তর সম্পাদক মানিক দাস রুদ্র (দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক), কমিটির (২৬নং) সহ সাংস্কৃতিক সম্পাদক বিদিতা চক্রবর্তী (মহিলা আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নারী নেত্রী), কমিটির (২৯নং) গণসংযোগ সম্পাদক রঘুনাথ সাহা (সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের কোষাধ্যক্ষ), কমিটির (৩৯নং) সদস্য এ্যাড: অসীম কুমার বিশ্বাস (জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক), কমিটির (৪১নং) সদস্য অধ্যাপক সমরেন্দু সাহা লাহোর (সাটুারিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪২) সদস্য শচিন মিত্র (জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি), কমিটির (৪৩নং) সদস্য রতন মজুমদার (পৌর আওয়ামীলীগের ৩নং ওয়ার্ডের সভাপতি), কমিটির (৪৪নং) সদস্য মনোরঞ্জন ঘোষ (জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪৫নং) সদস্য সুদীপ ঘোষ বাসু (জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪৬ নং) সদস্য দিলীপ ফৌজদার (দৌলতপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক), কমিটির (৪৭নং) সদস্য পিয়াস চৌধুরী (হরিরামপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৪৮নং) সদস্য প্রদেসৎ কুমার ঘোষ এপোলো (সাটুরিয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সভাপতি) কমিটির (৫০নং) সদস্য আনন্দ কুমার সাহা (ভাড়ারিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি), কমিটির (৫২ নং) সদস্য এ্যাড: সুকুমার সরকার (শিবালয় উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৫৫নং) সদস্য প্রদীপ বাকালী( সাটুরিয়া উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য), কমিটির (৫৬নং) সদস্য সুব্রত শীল গোবিন্দ (ঘিওর উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য। এছাড়া গুরুত্বপূর্ন পদ ছাড়া আওয়ামীলীগের সাথে সক্রিয়ভাবে অর্ন্তভূক্ত থাকা আরোও কয়েকজন এই পূজা উদযাপন কমিটিতে স্থান পেয়েছে। নবগঠিত এই কমিটির গঠনের পর বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের আর্শিরবাদ নিতে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ করে যাচ্ছে।

এবিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্টান কল্যান ফ্রন্ট মানিকগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক রঞ্জিত কুমার দে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর আমরা বিএনপি সমর্থিত সনাতনীরা তাদের প্রভাবে এই এই কালিবাড়ী ঢুকতে পারি নাই। ২৪ জুলাই আন্দোলনের পর থেকে তার সকলেই পলাতক ছিলেন। এখন নতুন পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটির নামে তারা আবার আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের সাথে গোপনে যোগযোগ করে বিএনপির কতিপয় নেতাকে ম্যানেজ করে তারা আবার সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। আমারা এটা কখনও মেনে নিতে পারি না। এব্যাপারে মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়ার আসনের এমপি ও খাদ্য মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

শ্রী শ্রী আনন্দময়ী কালিবাড়ী কমিটির সাধারন সম্পাদক ও জেলা হিন্দু বোদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফন্টের সদস্য সচিব গৌরাঙ্গ চন্দ্র সরকার বলেন, আমি বিএনপি করার কারনে বিগত সময়ে আমি সহ অনেকেই অনেক জুলুম নির্যাতনের স্বীকার হয়েছি। তাদের অপকর্ম ঢাকার জন্য আমাকে ও আমাদের বিএনপির শিশির কুমার দাসকে কোন কিছু না বলে পূজা উদযাপনের কমিটিতে সদস্য হিসেবে নাম অন্তভূক্ত করেছে। আমরা সাথে সাথে প্রতিবাদ জানিয়েছি। আমারা আওয়ামীলীগের কমিটিতে কোন ভাবেই থাকতে পারি না। উক্ত সদস্য পদ থেকে প্রত্যাহার করেছি।
কতিপয় বিএনপি নেতার যোগসাজশে এখন পূজা উদযাপনের ব্যানারে তারা জাতীয়তাবাদী সনাতনী ধর্মের সংগঠনকে বৃদ্ধাআঙ্গুলি দেখিয়ে আমাদের সাথে পাল্লা দিয়ে তাদের পূজা উদযাপনের ব্যানারে আমাদের প্রোগ্রাম করতে বলে। এর চেয়ে আর দু:খজনক আর কি হতে পারে। এধরনের কাজ ভবিষ্যতে করলে তাদের কঠোর হাতে প্রতিহত করা হবে।

জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান কল্যান ফ্রন্টের যুগ্ম আহবায়ক মিঠু রবিদাস বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ হলো আওয়ামীলীগের সংগঠন। তাই আওয়ামীলীগের ২৬ জনের অধিক নেতাকর্মী এই কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন পদে আছে। আমাদের বিএনপির কোন কোন নেতাকর্মী গোপনে তাদের সাথে সখ্যতা রেখে চলছে। যার কারনে তারা দিনদিন সক্রিয় হচ্ছে এবং প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা করছে।আগামী জন্মাষ্টমী ঘিরে কোন ষড়যন্ত্র করলে কঠিন জবাব দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ হিন্দু মহাজোট মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি এ্যাড: সুনীল মন্ডল বলেন, তাদের আওয়ামীলীগের দাপটে এই কালিবাড়ী মন্দিরে আমারা প্রোগ্রাম করতে পারি নাই। তারা এত সাহত কিভাবে পায়, এখন আমাদের তাদের সাথে প্রোগ্রাম করতে বলে।

মানিকগঞ্জ পৌরসভা রবিদাস নৃ-তাত্তিকগষ্ঠি সমবায় সমিতির সভাপতি দশরথ রবিদাস বলেন, পূজা উদযাপন পরিষদ হলো সরাসরি আওয়ামীলীগের পারপার্স সাভ করে বা দিকর্নিদেশনা অনুযায়ী চলে। বিগত সময়ে তাদের অনেক জুলুম নির্যাতন সহ করতে হয়েছে। এখন তারা অর্থের বিনিময়ে কতিপয় বিএনপির নেতাদের ম্যানেজ করে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে।

 

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি ফেডারেশন মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সাধারন সম্পাদক শিশির কুমার দাস বলেন, জুলাই আন্দোলনের পরে (মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও খাদ্য মন্ত্রী আমাদের নেত্রী সনাতনী ধর্মের প্রত্যেক নিরাপত্তা দিয়েছে। সকল সনাতনীর মিলেমিশে বসবাস করে আসছে। পূজা উদযাপনের নতুন কমিটি গঠন ঘিরে অনেক সমালোচনার সৃষ্টি হচ্ছে।এতে করে সনাতনীদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে মাননীয় মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতার দৃষ্টি আকর্ষন করছি।

এবিষয়ে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নবগঠিত মানিকগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি শ্রী প্রনব কুমার সিকদার দুলাল বলেন, এই কমিটিতে যারা আছে তারা রাজনীতি করে কিনা আমি জানি না। তারা যদি এখানে রাজনীতি করে তাহলে তো তাদের ঠাই নাই। আমি নিজে কোনদিন পলিটিক্স করি নাই, তাই আমার এখানেও কোন পলিটিক্স্রের স্থান নাই, সে আওয়ামী লীগ, বিএনপি যাই করুক। তিনি আরো বলেন, আমাদের সেন্ট্রালের সেক্রেটারী সন্তোষ শর্মা সাহেব আমাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছেন আওয়ামী লীগ বা বিএনপিতে কেউ রাজনীতি করলে তাদের কমিটিতে রাখা যাবে না।

যেসব আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা এই কমিটিতে আছে তাদের বিষয়ে কি সিদ্ধান্ত নেয়া হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ যদি কমিটিতে আওয়ামী লীগের থেকে থাকে, তবে আমি ব্যাপারটা দেখব এবং তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাইবো, ব্যাখ্যা যদি সেটিসফাই হয় তাহলে থাকবে, নইলে না।

রাজনীতি | ২৪ আগস্ট ২০২৬

আওয়ামীলীগের পদধারী ২০ নেতা নিয়ে মানিকগঞ্জে নবগঠিত পূজা উদযাপন পরিষদের কমিটি, সনাতনী সংগঠনের মাঝে সমালোচনার ঝড়

বিস্তারিত | dainikamarnews.com