হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের পরিকল্পিত: রিজভী
- প্রকাশিত : শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬। ৬:০৯:৫৯ এএম
গ্লোবাল জার্নালিস্ট ক্লাব অব সাউথ এশিয়ার প্রোগ্রামে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার বিষয়টি ভারতের নীতি নির্ধারকদের পরিকল্পিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপি সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
সকালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রিজভী বলেন, “শেখ হাসিনা বাংলাদেশ থেকে পলাতক একজন আসামি। তার মৃত্যুদণ্ড হয়েছে, তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে, নানা খুনের মামলা ও দুর্নীতির মামলায় তার বিচার চলছে। সে একটি দেশে পালিয়ে গেছে। আমাদের ২০১৩ সালের এক্সট্রাডিশন আইনের মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে ফেরত দেওয়া যায়। এজন্য সরকার চিঠি দিয়েছে, কিন্তু সেই চিঠির কোনো জবাব দেওয়া হয়নি। একজন পলাতক আসামিকে প্রত্যাবাসনের জন্য, তাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য যে আইন, সেই আইনে দুই দেশ সই করেছে, এগ্রিমেন্ট করেছে। অথচ তারপরও তাকে ফিরিয়ে না দিয়ে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। এটা আমি মনে করি আমাদের জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি একটা অপমান। একজন পলাতক আসামিকে তার রাজনৈতিক বক্তব্য তুলে ধরার জন্য সুযোগ করে দেওয়া হলো, তার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায়।এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। আমরা মনে করি, আমাদের মিউচুয়াল ট্রাস্ট, মিউচুয়াল রেসপেক্ট সম্পূর্ণরূপে উপেক্ষিত হয়েছে। আমাদের ইন্টারনাল অ্যাফেয়ার্সেও এটা এক ধরনের হস্তক্ষেপ বা ইন্টারফারেন্স।”
তিনি বলেন, অত্যন্ত উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ও পরিকল্পিতভাবে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অথচ এই সংবাদ যখন আমরা পেলাম, বাংলাদেশ সরকার পেয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি অবহিত করেছে ভারতের সরকারকে। কিন্তু সেটিতে সাড়া না দিয়ে ভারত সরকার ৫ আগস্ট—যেদিন তার পতনের দিন, যেদিন এই দেশে গণতন্ত্রের জন্য, অবাধে আমাদের রাজনীতি করার সুযোগের জন্য, জনগণের কথা বলার জন্য, আমাদের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব সুরক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে যে গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সম্পন্ন হলো এবং তিনি পালিয়ে গেলেন—সেই দিনেই এই প্রোগ্রামটি দিল্লিতে হচ্ছে আর সেখানে শেখ হাসিনাকে বক্তৃতা করতে দেওয়া হচ্ছে! এটা সম্পূর্ণরূপে ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের পরিকল্পিত একটি বিষয়।”
রিজভী বলেন, “যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীদের জীবন চলে গেল, তাদের রক্ত ঝরল রাজপথে, বাংলাদেশে এক ভয়ংকর বিয়োগান্তক ঘটনার মধ্য দিয়ে পালাতে বাধ্য হলো এক ভয়ংকর রক্তপিপাসু স্বৈরাচার ফ্যাসিস্ট—তাকে পার্শ্ববর্তী একটি দেশ, যেটি পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র বলে তারা নিজেরা দাবি করে, সেই দেশে তাকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে, কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে! অর্থাৎ, ওই শহীদদের প্রতি, যাদের রক্ত ঝরিয়েছে শেখ হাসিনা, তাদের অপমান করার জন্যই এই সুযোগটা করে দেওয়া হয়েছে।”
বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, “বাংলাদেশে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর যখন উদ্যোগ নেওয়া হয়, ঠিক ওই সময় আন্তর্জাতিক নানা চক্রান্ত শুরু হয়। জিয়াউর রহমান যখন এই জাতিকে ক্ষুধামুক্ত করেছেন, এই জাতিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছেন খাদ্যে এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র এনেছেন, তখন তাকে দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক চক্রান্তে হত্যা করা হয়েছে। ঠিক এখনো নানা পরিকল্পনা চলছে।”
জাতীয় | ৮ আগস্ট ২০২৬
হাসিনাকে বক্তব্য দেয়ার সুযোগ ভারতীয় নীতি নির্ধারকদের পরিকল্পিত: রিজভী























