সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া ই-রিকশা চার্জে জরিমানা, নিবন্ধন-নবায়ন হবে না
- প্রকাশিত : সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬। ৭:৫৩:২৭ এএম
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ও অটোরিকশা সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ দিয়ে চার্জ দিলে জরিমানার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার না করলে এসব যানবাহনের নিবন্ধন দেওয়া হবে না এবং নিবন্ধনের পর একই নিয়ম ভঙ্গ করলে নবায়নও করা হবে না।
মীর শাহে আলম বলেন, ব্যাটারিচালিত ই-রিকশাগুলোকে স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। নিবন্ধনের সময়ই শর্ত দেওয়া হবে যে, এসব যানবাহনের ব্যাটারি সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে চার্জ করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতের পরিবর্তে অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ই-রিকশা চার্জ করা হলে সংশ্লিষ্ট যানবাহনের নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নিবন্ধিত হওয়ার পর নিয়ম ভঙ্গ করলে নবায়নও করা হবে না। পাশাপাশি বিধিমালায় এ ধরনের অনিয়মের জন্য জরিমানার বিধান রাখা হচ্ছে।
তিনি জানান, ই-রিকশার নিবন্ধনের দায়িত্ব এখন আর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) ওপর থাকবে না। সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এসব যানবাহনের নিবন্ধন দেবে। এ বিষয়ে জাতীয় সংসদে আইন পাস হয়েছে এবং সেই আইনের ভিত্তিতে বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। বিধিমালায় নিবন্ধন ও নবায়ন ফিসহ অন্যান্য শর্ত নির্ধারণ করা হবে।
ই-রিকশার ফিটনেসের বিষয়ে মীর শাহে আলম বলেন, নিবন্ধন ও নবায়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অথবা জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখা থেকে ফিটনেস সনদ নিতে হবে। ফিটনেস সনদের পর ট্রাফিক পুলিশের প্রতিস্বাক্ষর নিয়ে তা সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভায় জমা দিতে হবে।
ঢাকায় ই-রিকশার জন্য আট জোন
রাজধানীতে ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা শহরকে আটটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় চারটি জোন থাকবে।
তিনি বলেন, প্রতিটি জোনের ই-রিকশার জন্য পৃথক রং নির্ধারণ করা হবে। এক জোনের ই-রিকশা যাতে অন্য জোনে প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য জিও-ফেন্সিং প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
কোন কোন সড়কে ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে এবং কোন সড়কে পারবে না, তা বিধিমালায় নির্ধারণ করা হবে। জিও ফেন্সিংসহ বিধিমালার বিভিন্ন শর্ত অমান্য করলে জরিমানার ব্যবস্থা থাকবে এবং ট্রাফিক পুলিশের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ কার্যক্রম বাস্তবায়নে পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। জিও-ফেন্সিং ও এর তদারকির ক্ষেত্রেও ট্রাফিক পুলিশ যুক্ত থাকবে।
নিবন্ধনের সময় ই-রিকশায় কিউআর কোড সংযুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বিধিমালা প্রণয়নের প্রাথমিক বৈঠক ইতোমধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে বুয়েটের বিশেষজ্ঞ, ঢাকা মহানগর ট্রাফিক পুলিশ এবং দুই সিটি করপোরেশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কবে নাগাদ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে জানতে চাইলে মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন এবং আইন মন্ত্রণালয়ের ভেটিং সম্পন্ন করে বিধিমালা জারি করা হলে এর বাস্তবায়ন শুরু হবে।
তিনি জানান, শুধু রাজধানী নয়, সারাদেশে একই ব্যবস্থার আওতায় ই-রিকশা আনা হবে। দেশের ১৩টি সিটি করপোরেশন, ৩৩০টি পৌরসভা এবং সব উপজেলায় ই-রিকশার নিবন্ধন, চলাচল ও নবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইন ও বিধিমালা কার্যকর করা হবে।
জাতীয় | ১৭ আগস্ট ২০২৬
সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া ই-রিকশা চার্জে জরিমানা, নিবন্ধন-নবায়ন হবে না























