রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন ট্রাম্প
- প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬। ১০:৪৯:৫৩ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প
রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হওয়ার দুই দিন আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেগুলো আটকে দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বিরোধ তীব্র হওয়ার প্রেক্ষাপটে তিনি এ পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে শনিবার জানিয়েছে বিবিসি।
এই নিষেধাজ্ঞাগুলো মার্কিন কংগ্রেসে পাস হয়েছিল এবং সেপ্টেম্বর মাসে ট্রাম্প নিজেই সেগুলোতে স্বাক্ষর করে আইনে পরিণত করেছিলেন।
তবে শুক্রবার রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে জানান, কিছু নিষেধাজ্ঞা স্থগিত রাখা যুক্তরাষ্ট্রের ‘জাতীয় স্বার্থের’ অনুকূলে। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেছেন, এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে যুক্তরাষ্ট্র এই নিষেধাজ্ঞাগুলোকে ‘সম্পূর্ণ উপেক্ষা’ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিতর্কিত চুক্তির পর ওয়াশিংটন ও কিয়েভের মধ্যকার সম্পর্কে ফাটল ধরে। এরপর ইউক্রেন অভিযোগ তোলে, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সহায়তা প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
ট্রাম্প ও জেলেনস্কি একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন। ট্রাম্প বলেছিলেন যে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের তুলনায় জেলেনস্কির সঙ্গে কাজ করা ‘অনেক বেশি কঠিন।’ এর জবাবে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের একটি সম্মেলনে জেলেনস্কি মন্তব্য করেন, ‘প্রকৃত নেতাদের’ মাঝে থাকতে পেরে তিনি আনন্দিত।
যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এই নিষেধাজ্ঞা আইনের লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার অর্থনীতি। এই আইনে ট্রাম্পকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল, যার মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার তেল ও গ্যাস আমদানিকারক শীর্ষ পাঁচটি দেশের (যার মধ্যে চীন ও ভারত অন্যতম) পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করতে পারতেন।
এছাড়া, এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিলেন রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা (পুতিনসহ), বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং মস্কোর তথাকথিত ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা গোপন জাহাজবহর—যা বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞাগুলো এড়িয়ে চলতে ব্যবহৃত হতো।
ট্রাম্প এখন এই বিধানগুলোর অনেকগুলোই শিথিল বা বাতিল করে দিয়েছেন।
রাশিয়ার প্রতিনিধি কিরিল দিমিত্রিয়েভ এই সিদ্ধান্তকে ‘একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সত্যিই ঐতিহাসিক মুহূর্ত’ বলে অভিহিত করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ তিনি লিখেছেন, এই নিষেধাজ্ঞাগুলো কার্যকর হলে তা মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও বিশ্ববাজারের ওপর ‘মারাত্মক ক্ষতি’ বয়ে আনত। অর্থনৈতিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্যই লাভজনক।
ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান ডন বেয়ারসহ অনেক ডেমোক্র্যাট নেতা এই পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প মস্কোর কাছে নতি স্বীকার করেছেন এবং ইউক্রেন ও জেলেনস্কির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
‘এক্স’-এ ডন বেয়ার লিখেছেন, “পুতিনের কাছে ট্রাম্পের এই নতুন আত্মসমর্পণ আমাদের ইউক্রেনীয় অংশীদারদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। এটি কংগ্রেসের সেই স্পষ্ট উদ্দেশ্যকেও অস্বীকার করে, যার লক্ষ্য ছিল রাশিয়ার অবৈধ আগ্রাসী যুদ্ধের জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া।”
ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ ইউক্রেনে আরো ক্ষোভের জন্ম দিতে পারে। জেলেনস্কি দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর নিষেধাজ্ঞার ওপর জোর দিয়ে আসছেন, যাতে রাশিয়া তাদের যুদ্ধ প্রচেষ্টায় অর্থায়ন করার সুযোগ না পায়। জেলেনস্কি শনিবার সকালে বলেছেন, নিষেধাজ্ঞাগুলো ‘অত্যন্ত সহায়ক হতে পারত’ এবং এই আইনটির উদ্দেশ্য ছিল ‘এই যুদ্ধ শেষ করার লক্ষ্যে রাশিয়ার ওপর সত্যিই কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা।’
বিশ্ব | ১৭ অক্টোবর ২০২৬
রাশিয়ার ওপর আরোপিত কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছেন ট্রাম্প






















