শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে নির্বাচনী ব্যয়ে এগিয়ে বিএনপি, পিছিয়ে জামায়াতসহ অন্য দলের প্রার্থীরা

নুসরাত জাহান
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬। ২:২০:২৮ পিএম

নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও দিতে হয়। সেখানে প্রার্থীরা সম্ভাব্য কোন উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য কত টাকা পেতে পারেন, তার বর্ণনা থাকে।

একজন প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ কত টাকা ব্যয় করতে পারবেন, তা নির্বাচনী আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। আগে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। এবার এখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাতে ব্যয়সীমা বেড়েছে। বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় হবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে অথবা মোট ২৫ লাখ টাকা-এ দুটির মধ্যে যেটি বেশি হয়। সে হিসাবে এবার প্রার্থীরা আসনভেদে ২৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাব্য ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। সম্ভাব্য ব্যয়ের উৎস হিসেবে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ লাখ টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে আরও ২৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। জিন্নাহ কবীর পেশায় একজন ব্যবসায়ী। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে নিজের বেতন ও পেশা থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে ১৩ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থী পেশায় চিকিৎসক। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

অপরদিকে বিএনপি’র স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী মো. তোজাম্মেল হক সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। কৃষি ও নিজস্ব ব্যবসা থেকে ১০ লাখ এবং পিতার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও কৃষি খাত থেকে ৮৫ হাজার টাকা ও ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা তার বার্ষিক আয়ের হিসাব দেখিয়েছেন তিনি।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান এই নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন। তার হলফনামা অনুযায়ী বেতন, লভ্যাংশ, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মুনাফা এবং কৃষি আয় থেকে এই অর্থ আসবে। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা।

এই আসনে জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চাকরির বেতন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে ১৪ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে ২৫ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। শেয়ার মার্কেট ও সম্মানী থেকে এই অর্থ আসবে বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। রিতার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সম্মানী, কৃষিখাত ও জমি বিক্রি থেকে ২ লাখ টাকা এবং আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে ১৮ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন।

জেলার সচেতন নাগরিকদের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের এই চিত্র প্রচারণা ও মাঠের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। যা ভোটের সমীকরণকে বদলে দিতে পারে।

 

মানিকগঞ্জ | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

মানিকগঞ্জে নির্বাচনী ব্যয়ে এগিয়ে বিএনপি, পিছিয়ে জামায়াতসহ অন্য দলের প্রার্থীরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

মানিকগঞ্জে নির্বাচনী ব্যয়ে এগিয়ে বিএনপি, পিছিয়ে জামায়াতসহ অন্য দলের প্রার্থীরা

Update Time : ০২:২০:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে প্রার্থী হতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় নির্বাচনী ব্যয় মেটানোর জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণও দিতে হয়। সেখানে প্রার্থীরা সম্ভাব্য কোন উৎস থেকে নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য কত টাকা পেতে পারেন, তার বর্ণনা থাকে।

একজন প্রার্থী নির্বাচনে সর্বোচ্চ কত টাকা ব্যয় করতে পারবেন, তা নির্বাচনী আইনে নির্দিষ্ট করে দেওয়া আছে। আগে প্রার্থীদের সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ছিল ২৫ লাখ টাকা। এবার এখানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। তাতে ব্যয়সীমা বেড়েছে। বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, একজন প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয় হবে তাঁর নির্বাচনী এলাকার ভোটারপ্রতি ১০ টাকা হারে অথবা মোট ২৫ লাখ টাকা-এ দুটির মধ্যে যেটি বেশি হয়। সে হিসাবে এবার প্রার্থীরা আসনভেদে ২৫ লাখ টাকা থেকে শুরু করে ৮০ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করার সুযোগ পাবেন।

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে জমা দেওয়া হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সম্ভাব্য নির্বাচনী ব্যয়ের দিক থেকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জামায়াত জোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সম্ভাব্য ব্যয় তুলনামূলকভাবে কম।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, মানিকগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এস এ জিন্নাহ কবীর এই নির্বাচনে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করেছেন। সম্ভাব্য ব্যয়ের উৎস হিসেবে নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে ২৫ লাখ টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে আরও ২৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। জিন্নাহ কবীর পেশায় একজন ব্যবসায়ী। হলফনামা অনুযায়ী তার বার্ষিক আয় ৭ লাখ টাকা।

এ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিক সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে নিজের বেতন ও পেশা থেকে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে ১৩ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন। জামায়াতে ইসলামীর এই প্রার্থী পেশায় চিকিৎসক। তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৬৯ হাজার টাকা।

অপরদিকে বিএনপি’র স্বতন্ত্র বিদ্রোহী প্রার্থী মো. তোজাম্মেল হক সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ টাকা। কৃষি ও নিজস্ব ব্যবসা থেকে ১০ লাখ এবং পিতার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা পাওয়ার কথা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। এছাড়াও কৃষি খাত থেকে ৮৫ হাজার টাকা ও ব্যবসা থেকে ৩ লাখ ৬৪ হাজার টাকা তার বার্ষিক আয়ের হিসাব দেখিয়েছেন তিনি।

মানিকগঞ্জ-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মঈনুল ইসলাম খান এই নির্বাচনে ২৫ লাখ টাকা সম্ভাব্য ব্যয়ের কথা জানিয়েছেন। তার হলফনামা অনুযায়ী বেতন, লভ্যাংশ, ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত মুনাফা এবং কৃষি আয় থেকে এই অর্থ আসবে। তিনি বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ১ কোটি ৫১ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩০ টাকা।

এই আসনে জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. সালাউদ্দিন সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। চাকরির বেতন থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে ১৪ লাখ টাকা সংগ্রহের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।

তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৩৭ হাজার টাকা।

মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা সম্ভাব্য ব্যয় হিসেবে ২৫ লাখ টাকা দেখিয়েছেন। শেয়ার মার্কেট ও সম্মানী থেকে এই অর্থ আসবে বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে। রিতার বার্ষিক আয় ১ কোটি ৬০ লাখ ৯৮ হাজার টাকা।

অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মুহাম্মদ দেলওয়ার হোসাইন সম্ভাব্য ব্যয় দেখিয়েছেন ২০ লাখ টাকা। এর মধ্যে সম্মানী, কৃষিখাত ও জমি বিক্রি থেকে ২ লাখ টাকা এবং আত্মীয়-স্বজন ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছ থেকে ধার ও দান হিসেবে ১৮ লাখ টাকা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ৩ লাখ ১১ হাজার টাকা বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন।

জেলার সচেতন নাগরিকদের মতে, নির্বাচনী ব্যয়ের এই চিত্র প্রচারণা ও মাঠের কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলতে পারে। যা ভোটের সমীকরণকে বদলে দিতে পারে।

 

মানিকগঞ্জ | ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

মানিকগঞ্জে নির্বাচনী ব্যয়ে এগিয়ে বিএনপি, পিছিয়ে জামায়াতসহ অন্য দলের প্রার্থীরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com