দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল দিল্লি, বাধা ডিঙিয়ে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী
- প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬। ১২:২০:০৩ পিএম
রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) ‘সংসদ চলো’ অভিযানকে কেন্দ্র করে সহিংস সংঘর্ষের পর মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিনের মতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। সোমবার পুলিশের টিয়ারগ্যাস ও বেধড়ক লাঠিচার্জে রক্তক্ষয়ী পরিস্থিতির পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই কড়া নিরাপত্তার বলয় ভেদ করে আবারও যন্তর মন্তরে জড়ো হতে শুরু করেছেন হাজার হাজার আন্দোলনকারী।
গতকালের এই বর্বরোচিত পুলিশি হামলার তীব্র প্রতিক্রিয়া ছড়িয়ে পড়েছে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও; দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিকেলে হায়দরাবাদে জোড়া প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে একাধিক ছাত্র ও নাগরিক সংগঠন।
মঙ্গলবার সকালে সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপকে রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের দেখতে যান। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, পুলিশ সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে আন্দোলনকারীদের ওপর হিংস্র বলপ্রয়োগ করেছে। সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’-এ এক বার্তায় তিনি জানান, পুলিশের লাঠিচার্জে মারাত্মক আঘাত পেয়ে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং এক তরুণী মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
মঙ্গলবার সকালে হালকা বৃষ্টির বাধা এড়িয়ে সিজেপি মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা ও অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বে যন্তর মন্তরে পুনরায় সমাবেশ ও স্লোগান শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে র্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স (আরএএফ) মোতায়েন করা হয়েছে এবং সংসদ ভবনের অভিমুখে অতিরিক্ত ব্যারিকেড ও টিয়ারগ্যাস ছোঁড়ার গাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশ লাঠিচার্জের পক্ষে সাফাই দিয়ে দাবি করেছে যে, বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠে এবং সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর করে। পুলিশের দাবি অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের হামলায় অন্তত ১১৮ জন পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য, “বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে নিষিদ্ধ এলাকায় ঢোকার চেষ্টা করে এবং সুরক্ষাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়, যার ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।”
দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের প্রতিবাদে মঙ্গলবার ২১ জুলাই হায়দরাবাদে দুটি পৃথক বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেওয়া হয়েছে। দিশা স্টুডেন্টস অর্গানাইজেশন ও নওজোয়ান ভারত সভার উদ্যোগে বিকেল ৫:৩০টায় নেকলেস রোডের ‘পিপলস প্লাজা’-য় নাগরিক প্রতিবাদ। সোমাজিগুগা প্রেস ক্লাবে দুপুর ৩টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে যোগ দিচ্ছেন প্রাক্তন আইএএস অফিসার আকুনুরি মুরালি।
সোমবারের প্রায় ৫০ হাজার ছাত্রের ‘সংসদ চলো’ মিছিলটি শুরুতে অত্যন্ত শান্তিপূর্ণ ছিল। শিক্ষার্থীরা পুলিশের হাতে ফুল তুলে দিয়ে ‘গান্ধীগিরি’র নজির গড়েছিলেন। কিন্তু বিকেলে পুলিশ যন্তর মন্তরের মূল মঞ্চটি ভেঙে দিলে এবং শিক্ষার্থীরা ব্যারিকেড পেরিয়ে এগোতে চাইলে কাঁদানে গ্যাস ও লাঠিচার্জ শুরু হয়।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং নিট পরীক্ষার জালিয়াতি বন্ধের দাবিতে ক্ষুব্ধ তরুণেরা এখন রাজপথে অনড়। পরপর দু’বার নিট দেওয়া এক কলেজ শিক্ষার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা একের পর এক দুর্নীতি ও কেলেঙ্কারিতে অতিষ্ঠ, এই সরকারের পদত্যাগ ছাড়া আমরা রাজপথ ছাড়ব না।”
দিল্লি ছাড়িয়ে দেশটির বিভিন্ন শহর ও বিদেশেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় স্পষ্ট যে, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার ও ছাত্র অধিকারের এই লড়াই সহজে থামছে না।
বিশ্ব | ২১ জুলাই ২০২৬
দ্বিতীয় দিনেও উত্তাল দিল্লি, বাধা ডিঙিয়ে জড়ো হচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী

























