মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাংবাদিক জালাল উদ্দিন আহমেদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬। ৩:৫৪:২৮ এএম

বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজহিতৈষী জালাল উদ্দিন আহমেদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে এবং জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শ্রদ্ধা, স্মরণসভা, দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক মহল তাকে স্মরণ করছে।
জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন মানিকগঞ্জের সাংবাদিকতার অঙ্গনে একজন পথিকৃৎ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, পেশাগত দক্ষতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছে শ্রদ্ধার আসনে ছিলেন।

জালাল আহমেদ ১৯৪৪ সালের ১ মে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার পিপুলিয়া গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সন্দ্বীপের স্বাধীন রাজা দিলওয়ার খানের নবম বংশধর। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঢাকা জেলার সাভার থানার গেন্ডা গ্রামে। তাঁর বাবা শামসুদ্দিন আহমেদ খান ছিলেন সরকারি চিকিৎসক এবং মায়ের নাম রিজিয়া বেগম।
১৯৬১ সালে সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন জালাল আহমেদ। ১৯৬৫-৬৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা শহর শাখার সিনিয়র সহসভাপতি এবং জগন্নাথ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বন্যার সময় গঠিত জগন্নাথ কলেজের ত্রাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

১৯৬৮ সালের ১১ দফা গণআন্দোলনের সময় সাভার ও ধামরাই থানার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জালাল আহমেদ। একই বছর ভাসানী ন্যাপের সাভার থানা শাখার আহ্বায়ক হন। ১৯৬৯ সালে তিনি ভাসানী ন্যাপের মানিকগঞ্জ পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং মহকুমা কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
সাংবাদিকতায় তাঁর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে। ওই সময় তিনি দৈনিক পাকিস্তান, পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা-এর মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছর ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (এনা)-এর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় চাকরি করেন তিনি। এরপর ১৯৭৫ সালে পুনরায় দৈনিক বাংলার মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় ফেরেন। দৈনিক বাংলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা সংবাদদাতার দায়িত্ব নেন। বৃহত্তর ঢাকা জেলা পরিষদের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘পদক্ষেপ’-এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পদোন্নতি পান জালাল আহমেদ। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যকরী পরিষদের নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সহকারী সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদদাতা সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং দৈনিক বাংলার নিজস্ব সংবাদদাতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মানিকগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাভার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত সহসভাপতি এবং মানিকগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে জালাল আহমেদ ছিলেন বিবাহিত। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে সিংগাইর পৌরসভার বকচর মহল্লায় শিপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী খানের কন্যা রাফিয়া জালালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে—কামরুদ্দিন আহমেদ জাকির, লুবনা ফরিদা নিশাত ও ফাতেমা জিন্নাত নিপা। ছেলে কামরুদ্দিন আহমেদ জাকির বর্তমানে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ‘ধলেশ্বরী হাউজিং লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট জালাল উদ্দিন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এক যুগ পরও মানিকগঞ্জের সাংবাদিকতা অঙ্গনে তাঁর অবদান, পেশাগত নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার, সহকর্মী ও সাংবাদিক সমাজ তাঁর কর্মময় জীবনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

সারাদেশ | ১৮ আগস্ট ২০২৬

সাংবাদিক জালাল উদ্দিন আহমেদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

সাংবাদিক জালাল উদ্দিন আহমেদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Update Time : ০৩:৫৪:২৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

বিশিষ্ট সাংবাদিক, সংগঠক ও সমাজহিতৈষী জালাল উদ্দিন আহমেদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে পরিবারের পক্ষ থেকে এবং জেলার বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শ্রদ্ধা, স্মরণসভা, দোয়া ও আলোচনা অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে সাংবাদিক মহল তাকে স্মরণ করছে।
জালাল উদ্দিন আহমেদ ছিলেন মানিকগঞ্জের সাংবাদিকতার অঙ্গনে একজন পথিকৃৎ। বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন, পেশাগত দক্ষতা এবং সাংবাদিকদের অধিকার ও কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার জন্য তিনি সহকর্মীদের কাছে শ্রদ্ধার আসনে ছিলেন।

জালাল আহমেদ ১৯৪৪ সালের ১ মে মানিকগঞ্জ জেলার হরিরামপুর থানার পিপুলিয়া গ্রামে এক ঐতিহ্যবাহী পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সন্দ্বীপের স্বাধীন রাজা দিলওয়ার খানের নবম বংশধর। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঢাকা জেলার সাভার থানার গেন্ডা গ্রামে। তাঁর বাবা শামসুদ্দিন আহমেদ খান ছিলেন সরকারি চিকিৎসক এবং মায়ের নাম রিজিয়া বেগম।
১৯৬১ সালে সাভার অধর চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন জালাল আহমেদ। ১৯৬৫-৬৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি জগন্নাথ কলেজ ছাত্র সংসদের অতিরিক্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। একই সময়ে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়নের ঢাকা শহর শাখার সিনিয়র সহসভাপতি এবং জগন্নাথ কলেজ শাখার প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৬৬ সালে পূর্ব পাকিস্তানের বন্যার সময় গঠিত জগন্নাথ কলেজের ত্রাণ কমিটির সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন তিনি।

১৯৬৮ সালের ১১ দফা গণআন্দোলনের সময় সাভার ও ধামরাই থানার ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন জালাল আহমেদ। একই বছর ভাসানী ন্যাপের সাভার থানা শাখার আহ্বায়ক হন। ১৯৬৯ সালে তিনি ভাসানী ন্যাপের মানিকগঞ্জ পৌর কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং মহকুমা কমিটির কার্যকরী পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হন।
সাংবাদিকতায় তাঁর আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু হয় ১৯৬৯ সালের মার্চ মাসে। ওই সময় তিনি দৈনিক পাকিস্তান, পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা-এর মানিকগঞ্জ সংবাদদাতা হিসেবে নিয়োগ পান। একই বছর ইস্টার্ন নিউজ এজেন্সি (এনা)-এর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব লাভ করেন।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ থেকে ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংস্থাপন শাখায় চাকরি করেন তিনি। এরপর ১৯৭৫ সালে পুনরায় দৈনিক বাংলার মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে সাংবাদিকতায় ফেরেন। দৈনিক বাংলার দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ টেলিভিশনের জেলা সংবাদদাতার দায়িত্ব নেন। বৃহত্তর ঢাকা জেলা পরিষদের মুখপত্র সাপ্তাহিক ‘পদক্ষেপ’-এর সঙ্গেও তিনি যুক্ত ছিলেন।
বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনে দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ ১৯৮৭ সালে দৈনিক বাংলায় স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে পদোন্নতি পান জালাল আহমেদ। দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে তিনি নানা প্রতিকূলতা ও ঝুঁকির মধ্যেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি সাংবাদিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সংগঠিত করার ক্ষেত্রেও রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

তিনি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যকরী পরিষদের নির্বাহী সদস্য, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ও সহকারী সম্পাদক, বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র সহসভাপতি, বাংলাদেশ টেলিভিশনের সংবাদদাতা সমিতির কোষাধ্যক্ষ এবং দৈনিক বাংলার নিজস্ব সংবাদদাতা সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মানিকগঞ্জ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং সাভার প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তিনি মানিকগঞ্জ জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাচিত সহসভাপতি এবং মানিকগঞ্জ জেলা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সহসভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে জালাল আহমেদ ছিলেন বিবাহিত। ১৯৭০ সালের নভেম্বরে সিংগাইর পৌরসভার বকচর মহল্লায় শিপ ক্যাপ্টেন মোহাম্মদ ওয়াজেদ আলী খানের কন্যা রাফিয়া জালালের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। তাঁদের এক ছেলে ও দুই মেয়ে—কামরুদ্দিন আহমেদ জাকির, লুবনা ফরিদা নিশাত ও ফাতেমা জিন্নাত নিপা। ছেলে কামরুদ্দিন আহমেদ জাকির বর্তমানে ডেভেলপার প্রতিষ্ঠান ‘ধলেশ্বরী হাউজিং লিমিটেড’-এর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

২০১৪ সালের ১৮ আগস্ট জালাল উদ্দিন আহমেদ মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর এক যুগ পরও মানিকগঞ্জের সাংবাদিকতা অঙ্গনে তাঁর অবদান, পেশাগত নিষ্ঠা ও সাংগঠনিক ভূমিকা স্মরণীয় হয়ে আছে। তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে পরিবার, সহকর্মী ও সাংবাদিক সমাজ তাঁর কর্মময় জীবনকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে।

সারাদেশ | ১৮ আগস্ট ২০২৬

সাংবাদিক জালাল উদ্দিন আহমেদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

বিস্তারিত | dainikamarnews.com