কলকাতার আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত
সংবাদের খোঁজে ছুটতেন যিনি, তিনিই এখন সংবাদের শিরোনাম
- প্রকাশিত : শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬। ৯:২৭:০৭ এএম
কুষ্টিয়া শহরের আলো ভবনের সিঁড়ির নিচে ছোট্ট কাঁচঘেরা কক্ষ। টেবিলের ওপর পড়ে আছে ল্যাপটপ, চশমা, চ্যানেলের লোগো আর সাংবাদিকতার বই। দেয়ালে ঝুলছে সম্মাননা স্মারক, পাশে নিজের সম্পাদনায় প্রকাশিত পত্রিকার আর্কাইভ। কর্মব্যস্ত সেই ঘরে সবই আছে, নেই শুধু মানুষটি, সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত।
দুই কক্ষের ভাড়া বাসাটিতে এখন শুধুই শোকের মাতম। নির্বাক বাবা দিলীপ দত্ত, মা স্বপ্না দত্ত। বাবার-মায়ের একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান ছিলেন দেবাশীষ। তাকে হারিয়ে শোকাহত পরিবারটির সামনে এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
মফস্বলের নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও মাটি ও মানুষের কথা বলেছেন সাংবাদিক দেবাশীষ। পেশার প্রতি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে নিজের পরিবারের অভাব-অনটনকে কখনো সামনে আনেননি। মাস শেষে সাংবাদিকতা থেকে পাওয়া সামান্য আয়েই চলতো সংসার। নিজের কোনো স্থায়ী মাথা গোঁজার ঠাঁইও ছিলো না তার।
গত ১৯ আগষ্ট কলকাতার মির্জা গালিব স্ট্রিটের আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত হন কুষ্টিয়ার সাংবাদিক দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছরের ছেলে স্বর্ণশীষ দত্ত ও শ্বশুর আকরাম হোসেন।
দেবাশীষের মৃত্যুর পরই যেন সামনে এলো তার জীবনের আড়ালে থাকা নির্মম বাস্তবতা। মৃত্যুর পর দেবাশীষ যেন প্রমাণ করে গেলেন, মফস্বলের একজন সাংবাদিকের নীরব সংগ্রাম কতোটা গভীর হতে পারে।
একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব শুধু সংবাদ পৌঁছে দেওয়া নয়, নিজের পরিবারকেও টিকিয়ে রাখাও তার অন্তর্গত। অথচ দেবাশীষের চলে যাওয়ার পর সেই পরিবারটিই এখন সবচেয়ে বেশি অসহায়। একদিকে প্রিয়জন হারানোর শোক, অন্যদিকে সামনে অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে দেবাশীষ চলে গেছেন, রেখে গেছেন অসহায় বাবা-মা আর ছোট্ট শিশু কন্যা মোহিমাকে। স্বজন হারানোর শোক কাটিয়ে ওঠার আগেই তাদের সামনে এখন নতুন করে বেঁচে থাকার লড়াই। তাই দেবাশীষের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করার কার্যকর উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন জেলার সাংবাদিক ও সুধীজন।
সারাদেশ | ২১ আগস্ট ২০২৬
সংবাদের খোঁজে ছুটতেন যিনি, তিনিই এখন সংবাদের শিরোনাম






















