শহরের পাশেই উন্নয়নবঞ্চিত দীঘি ইউনিয়ন,
দলের সমর্থন আদায়ে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ
- প্রকাশিত : সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬। ১০:৪২:৩২ এএম
মানিকগঞ্জ জেলা শহরের একেবারে গা ঘেঁষে অবস্থান হলেও দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ দীঘি ইউনিয়নের বাসিন্দাদের। প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাসরত এই ইউনিয়নে সড়ক, ড্রেনেজ, পানি নিষ্কাশন, নাগরিক সেবা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘাটতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সেই ক্ষোভ এখন পরিবর্তনের প্রত্যাশায় রূপ নিয়েছে।
সম্প্রতি ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে স্থানীয় কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব ও নেতৃত্বের সমন্বয়হীনতার কারণে ইউনিয়নের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছে। তাদের দাবি, অতীতে সরকার যে দলেরই থাকুক না কেন, এই ইউনিয়নে প্রায়ই বিপরীত রাজনৈতিক মতাদর্শের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছেন। আবার সরকারি দলের চেয়ারম্যান থাকলেও সংশ্লিষ্ট এমপি বা মন্ত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক না থাকায় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে পিছিয়ে পড়েছে দীঘি ইউনিয়ন।
স্থানীয় ভোটাররা জানান, এবার তারা যোগ্য, সৎ ও জনবান্ধব প্রার্থীকে বেছে নিতে চান। এমন একজন চেয়ারম্যান চান, যিনি সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে ইউনিয়নের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পারবেন।
এদিকে নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের তৎপরতায় সরগরম হয়ে উঠেছে পুরো ইউনিয়ন। বিএনপির একাধিক নেতা ইতোমধ্যেই গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় শুরু করেছেন।
সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সদর উপজেলা কৃষক দলের সভাপতি আরিফ মোল্লা, সাধারণ সম্পাদক মতিয়ার রহমান মতি, জেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আনিসুর রহমান ফরহাদ, জেলা কৃষক দলের সাবেক ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুল হক, সদর উপজেলা তাঁতীদলের সভাপতি আমজাদ হোসেন, জেলা এনজিও ফেডারেশনের সভাপতি ও বিএনপি নেতা ফরিদ খান এবং জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম। দলীয় সমর্থন নিশ্চিত করতে প্রত্যেকেই কেন্দ্রীয় ও জেলা নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
অন্যদিকে, বিএনপির বাইরে খেলাফত মজলিসের অন্যতম নেতা আশিকুল ইসলাম ছানোয়ারও নিয়মিত গণসংযোগ করে ভোটারদের সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন।
আরিফ মোল্লা বলেন, “দীঘি ইউনিয়নের মানুষ দীর্ঘদিন উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। জনগণ সুযোগ দিলে সরকারের সহযোগিতা নিয়ে আধুনিক ও পরিকল্পিত ইউনিয়ন গড়ে তুলব।”
মতিয়ার রহমান মতি বলেন, “রাজনীতি নয়, মানুষের সেবাই হবে আমার অঙ্গীকার। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে ইউনিয়নের প্রতিটি ওয়ার্ডে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।”
আনিসুর রহমান ফরহাদ বলেন, “তরুণদের কর্মসংস্থান, মাদকমুক্ত সমাজ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করতে চাই।”
শামসুল হক বলেন, “দীঘি ইউনিয়নের যে উন্নয়ন ঘাটতি রয়েছে, তা দূর করতে অভিজ্ঞতা ও সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাই।”
আমজাদ হোসেন বলেন, “জনগণের আস্থা অর্জনই আমার লক্ষ্য। নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের প্রতিটি সমস্যার সমাধানে আন্তরিকভাবে কাজ করব।”
ফরিদ খান বলেন, “দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিক সুবিধাসম্পন্ন ইউনিয়ন গড়ে তোলাই আমার লক্ষ্য।”
আমিনুল ইসলাম বলেন, “যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে উন্নয়নের নতুন ধারা সৃষ্টি করতে চাই। জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”
আশিকুল ইসলাম ছানোয়ার বলেন, “দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের সেবা করাই আমার উদ্দেশ্য। নির্বাচিত হলে সবার অংশগ্রহণে একটি জবাবদিহিমূলক ও উন্নয়নবান্ধব ইউনিয়ন পরিষদ গড়ে তুলব।”
স্থানীয়দের ধারণা, এবার দীঘি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন হবে অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ। উন্নয়ন, যোগ্য নেতৃত্ব এবং সরকারের সঙ্গে কার্যকর সমন্বয়;এই তিন বিষয়ই ভোটের মাঠে সবচেয়ে বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ভোটারদের প্রত্যাশা, নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে এবং শহরের পাশের এই ইউনিয়নও পাবে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া।
রাজনীতি | ২০ জুলাই ২০২৬
দলের সমর্থন আদায়ে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীরা শুরু করেছেন দৌড়ঝাঁপ

























