হাদি হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে ‘চুপ থাকতে’ বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: মমতা
- প্রকাশিত : বুধবার, ৩ জুন ২০২৬। ৪:০১:২১ এএম
বিজেপির কাছে ক্ষমতা হারানোর প্রায় এক মাস পর বাংলাদেশে আগের বছরের বড় একটি হত্যাকাণ্ডের আসামিদের পশ্চিমবঙ্গে গ্রেপ্তারের পর এ বিষয়ে তাকে ‘চুপ থাকতে বলেছিলেন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ’ বলে দাবি করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
মঙ্গলবার কলকাতার ধর্মতলার ‘ওয়াই চ্যানেল’ এলাকায় এক প্রতিবাদী অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তৃতায় রাজ্য ও কেন্দ্রে ক্ষমতায় থাকা বিজেপির কড়া সমালোচনা করার সময় তিনি এমন দাবি করেন।
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত এক ভিডিওতে তার এ বক্তব্য প্রচার করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের দিকে ইঙ্গিত করে মমতা বলেন, “বাংলাদেশ থেকে একটা বড় খুনিকে রাজ্য পুলিশের এসটিএফ গ্রেপ্তার করেছিল; যা নিয়ে বাংলাদেশে অনেক আন্দোলন হয়েছিল। অন্য দেশের কথা আমি বলছি না, আমার অধিকারও নেই বলার। কিন্তু আমি যেটা বলতে চাইছি তা হল ওই হত্যাকারীরা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চলে আসে। বাংলায় আসার পর আমাদের এসটিএফ তাদের ধরে। এইটা তাদের কৃতিত্ব।
“আমার হৃদয়টাই একটা কথার ভাণ্ডার, তথ্য ভাণ্ডার। এতদিন আমি বলিনি। কিন্তু আজকে অত্যাচারে শেষ সীমায় গেছে বলে আমাকে মুখ খুলতে হয়েছে। আমি সেই নামটা বলতে চাইছি না, বললে বাংলাদেশ উত্তাল হয়ে যাবে। আমি বাংলাদেশকে ভালোবাসি। দেশের স্বার্থে ওই নাম আমি বলব না।”
বাংলাদেশ বড় ওই হত্যাকাণ্ডের শিকার কে হয়েছিলেন, সে বিষয়ে কারও নাম না নিলেও ঘটনার ধারাবাহিকতা বলছে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ২০২৫ ডিসেম্বরে রাজধানী ঢাকায় হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়েই কথা বলেছেন।
বাংলাদেশে সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানী ঢাকার বিজয়নগর পানির ট্যাংকির সামনে গুলিবিদ্ধি হন ওসমান হাদি। পরে ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় হাদি মারা যাওয়ার পর বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
তখন বাংলাদেশে থাকা ভারতীয় হাই কমিশন ও সহকারী হাই কমিশনের সামনে এবং ভারতে বাংলাদেশের হাই কমিশন ও উপ হাই কমিশনের সামনে বিক্ষোভ এবং সংঘাতের ঘটনা ঘটে।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ১৬ দিন পর ২৮ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) দাবি করে, হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিমের সঙ্গে তার সহযোগী মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন ভারতের মেঘালয়ে থাকছেন এবং তাদের দুজন সহায়তাকারীকে (ভারতীয়) গ্রেপ্তারও করা হয়েছে। তবে ভারত সেসময় তাদের গ্রেপ্তারের কথা শিকার করেনি।
পরে মামলার দুই প্রধান সন্দেহভাজন ফয়সাল করিম ও আলমগীরকে গত ৮ মার্চ গ্রেপ্তারের কথা স্বীকার করে ভারতের পুলিশ। এরপর থেকে এখনও তারা দেশটির কারাগারে রয়েছেন।
বিশ্ব | ৩ জুন ২০২৬
হাদি হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার নিয়ে ‘চুপ থাকতে’ বলেছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: মমতা


























