মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামানের উদ্যোগে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে পরিবর্তনের ছোঁয়া

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ৮:৩৫:৩৬ এএম

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও গৌরবময় ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা এ বিদ্যাপীঠ নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর, যখন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর মো. শহীদুজ্জামান।
এই কলেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু প্রশাসনিক নয়, আত্মিকও বটে। কারণ তিনি নিজেই এই কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, শিক্ষকদের সান্নিধ্য আর শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তাকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষভাবে আবেগী করে তোলে। আর সেই আবেগ থেকেই শুরু হয় উন্নয়নের এক ধারাবাহিক উদ্যোগ।
অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন
অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার উদ্যোগে কলেজের সামনে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক, যা এখন কলেজের নতুন পরিচয়ের প্রতীক।
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১০০০ কেভিএ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। কাজ সম্পন্ন হলে কলেজের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া কলেজ সংলগ্ন পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য-দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বাসের ব্যবস্থা করেছেন অধ্যক্ষ। একইসঙ্গে শিক্ষক ও অধ্যক্ষের যাতায়াতের জন্য মাইক্রোবাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।
সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে কলেজের ১০ তলা ভবনের সামনে পদ্মপুকুর নির্মাণ। এই নান্দনিক উদ্যোগ শুধু কলেজ প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, অন্যান্য জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়াও কলেজের রাবেয়া তাপসী মহিলা হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের নামাজের ব্যবস্থা, নতুন ফ্রিজ ও শ্রেণিকক্ষে নতুন ৬৯ টি ফ্যান স্থাপন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ নানা মানবিক ও প্রয়োজনভিত্তিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন তিনি। যা এখন দৃশ্যমান।
শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব
অধ্যক্ষের এসব উদ্যোগ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর কলেজে একটি সুপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম চোখে পড়ছে। এমন নানা উদ্যোগের ফলে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার গৌরব অর্জনও করেন তিনি।
শেষ কর্মদিবসে আলাপকালে প্রফেসর মো. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘‘দেবেন্দ্র কলেজ আমার নিজের প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছি। তাই এই কলেজের প্রতি আমার আলাদা টান ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি চেয়েছি শিক্ষার্থীরা যেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পায়। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

শিক্ষা | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামানের উদ্যোগে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে পরিবর্তনের ছোঁয়া

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামানের উদ্যোগে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে পরিবর্তনের ছোঁয়া

Update Time : ০৮:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজ জেলার একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। দীর্ঘদিনের ইতিহাস ও গৌরবময় ঐতিহ্য বুকে ধারণ করে দাঁড়িয়ে থাকা এ বিদ্যাপীঠ নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর, যখন অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন প্রফেসর মো. শহীদুজ্জামান।
এই কলেজের সঙ্গে তার সম্পর্ক শুধু প্রশাসনিক নয়, আত্মিকও বটে। কারণ তিনি নিজেই এই কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেছেন। শৈশব-কৈশোরের স্মৃতি, শিক্ষকদের সান্নিধ্য আর শিক্ষাজীবনের অভিজ্ঞতা তাকে এই প্রতিষ্ঠানের প্রতি বিশেষভাবে আবেগী করে তোলে। আর সেই আবেগ থেকেই শুরু হয় উন্নয়নের এক ধারাবাহিক উদ্যোগ।
অবকাঠামো উন্নয়নে দৃশ্যমান পরিবর্তন
অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তিনি শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি অবকাঠামোগত উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তার উদ্যোগে কলেজের সামনে নির্মিত হয়েছে দৃষ্টিনন্দন প্রধান ফটক, যা এখন কলেজের নতুন পরিচয়ের প্রতীক।
নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১০০০ কেভিএ বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র স্থাপনের কাজ চলছে। কাজ সম্পন্ন হলে কলেজের বিদ্যুৎ সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া কলেজ সংলগ্ন পুকুরে গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা নিরাপত্তা ও সৌন্দর্য-দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ
শিক্ষার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বাসের ব্যবস্থা করেছেন অধ্যক্ষ। একইসঙ্গে শিক্ষক ও অধ্যক্ষের যাতায়াতের জন্য মাইক্রোবাসের ব্যবস্থাও করা হয়েছে। ফলে শিক্ষকদের উপস্থিতি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।
সবচেয়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে কলেজের ১০ তলা ভবনের সামনে পদ্মপুকুর নির্মাণ। এই নান্দনিক উদ্যোগ শুধু কলেজ প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যই বাড়ায়নি, অন্যান্য জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষের কাছেও প্রশংসিত হয়েছে।
এছাড়াও কলেজের রাবেয়া তাপসী মহিলা হোস্টেলে শিক্ষার্থীদের নামাজের ব্যবস্থা, নতুন ফ্রিজ ও শ্রেণিকক্ষে নতুন ৬৯ টি ফ্যান স্থাপন, সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণসহ নানা মানবিক ও প্রয়োজনভিত্তিক উদ্যোগ হাতে নিয়েছেন তিনি। যা এখন দৃশ্যমান।
শিক্ষার পরিবেশে ইতিবাচক প্রভাব
অধ্যক্ষের এসব উদ্যোগ কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিন পর কলেজে একটি সুপরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম চোখে পড়ছে। এমন নানা উদ্যোগের ফলে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ-২০২৬ জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি কলেজ প্রতিষ্ঠান প্রধান হওয়ার গৌরব অর্জনও করেন তিনি।
শেষ কর্মদিবসে আলাপকালে প্রফেসর মো. শহীদুজ্জামান বলেন, ‘‘দেবেন্দ্র কলেজ আমার নিজের প্রতিষ্ঠান। এখান থেকেই আমি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেছি। তাই এই কলেজের প্রতি আমার আলাদা টান ও দায়বদ্ধতা রয়েছে। আমি চেয়েছি শিক্ষার্থীরা যেন একটি সুন্দর, নিরাপদ ও আধুনিক পরিবেশে পড়াশোনার সুযোগ পায়। উন্নয়নের এই ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”

শিক্ষা | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

অধ্যক্ষ শহীদুজ্জামানের উদ্যোগে মানিকগঞ্জ সরকারি দেবেন্দ্র কলেজে পরিবর্তনের ছোঁয়া

বিস্তারিত | dainikamarnews.com