বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতা’র জামানত বাজেয়াপ্ত
জনগণের দাবির কথা বললেও ভোটে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ভোটাররা
- প্রকাশিত : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ৫:৪৮:৪৪ এএম
“জনগণের দাবির মুখে নির্বাচন করছি”-এমন বক্তব্য দিয়েই জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন বিএনপির বিদ্রোহী নেতা আতাউর রহমান আতা। তবে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সেই ‘জনগণ’ই যেন তার পাশ থেকে সরে দাঁড়ালেন। কাঙ্ক্ষিত সমর্থন তো দূরের কথা, জামানত রক্ষার জন্য যে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ ভোটের প্রয়োজন, তাও অর্জন করতে পারেননি তিনি। ফলে এবারের নির্বাচনে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা-সমালোচনা।
বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে আতাউর রহমান আতা’কে বহিষ্কার করা হয়। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টি শুরু থেকেই বিতর্কের জন্ম দেয়। দলের একটি অংশ মনে করেছিল, এ ধরনের পদক্ষেপ মূল দলের ভোটব্যাংকে বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
এছাড়া নির্বাচনী প্রচারণায় এই আতা বিভিন্ন সময় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতাকে ঘিরে বেফাঁস ও বিতর্কিত বক্তব্য দেওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
নির্বাচনী সভা, পথসভা ও স্থানীয় বৈঠকে আতা কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক মন্তব্য, কখনো বিভ্রান্তিকর তথ্য উপস্থাপন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব বক্তব্যে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রশ্নও তুলছেন বিভিন্ন মহল।
কিন্তু এই বিষয়ে আফরোজা খানম রিতা কখনও প্রতিবাদ কিংবা আলোচনাও না করায় এলাকার ভোটার ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে। আফরোজা খানম রিতা সবদিক বিবেচনায় ভালো মানুষ হওয়ায় মানিকগঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে। অনেকে মনে করেন তাকে নিয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় জনগন মুখ ফিরিয়ে নেওয়ায় ভরাডুবি হয়েছে।
অপরদিকে নির্বাচনের আগে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন আতা। সেখানে না মঞ্জুর হওয়ায় তিনি হাইকোর্টেও রিট আবেদন করেন। তবে আদালত তার আবেদন খারিজ করে দেন। ফলে আইনি প্রক্রিয়ায়ও তিনি কোনো অনৈতিক সুবিধা আদায় করতে পারেননি।
এবিষয়ে আতার সাবেক ভাতিজা হিসেবে পরিচিত মিঠু রবিদাস বলেন, দলের নির্দেশ অমান্য করা মোটেও ঠিক হয়নি। সে বিএনপি করে অথচ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশ মানে না, এধরণের লোককে দলের আশে পাশেও রাখাও যাবে না, এরা দলের জন্য ভাইরাস। এখন হারে হারে বুঝবে দলের বাহিরে থাকলে কি হয়।
স্থানীয়দের অনেকে বলছেন, এ ফলাফল শুধু একটি ব্যক্তির পরাজয় নয়, বরং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার একটি স্পষ্ট বার্তা। জনগণের দাবি ও সমর্থনের যে কথা বলে আতা মাঠে নেমেছিলেন, ভোটের ফলাফল তা সমর্থন করেননি ।অন্যদিকে, বিএনপি মনোনীত প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ায় দলীয় অবস্থানই যে ভোটারদের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়েছে এমন ব্যাখ্যাও দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা
রাজনীতি | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
জনগণের দাবির কথা বললেও ভোটে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ভোটাররা






















