বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু দুপুর ২টায়

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬। ৫:৩৬:৫০ এএম

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করবেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট শেষে একই কক্ষে ব্যালট গণনা করে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন তিনি। পরে নির্বাচন কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯ জন। আদালতের নির্দেশে একটি আসনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ৩৫০ আসনের সংসদের পরিবর্তে বর্তমানে ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছেন।

১৯৯১ সালের পর আবারো ভোট:

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল হলেও একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।

ফলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বিধান থাকলেও প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে বাস্তবে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। এবার দুই প্রার্থী থাকায় সেই প্রক্রিয়ায় ফিরছে দেশ।

ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। ফলে সংখ্যার হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদের পক্ষে রয়েছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।

তবে, এবারের নির্বাচনে ফলাফলের পাশাপাশি কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন, সেটিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দলীয় সংখ্যার বাইরে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যদের ভোট কোন দিকে যায়, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট:

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে গোপন ব্যালটে নয়, প্রকাশ্য ব্যালটে। সংসদ সদস্যদের ব্যালটে নিজেদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে এবং পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করতে হবে।

সংসদ কক্ষে তিনটি ভোট কাউন্টারে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। ভোট দেওয়া শেষে কাছের ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা দেবেন তারা। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। এরপর নির্বাচনি কর্তা ফল ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচন কমিশন তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হওয়ায় এবারের নির্বাচন শুধু নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষীও হতে যাচ্ছে।

রাজনীতি | ২০ আগস্ট ২০২৬

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু দুপুর ২টায়

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু দুপুর ২টায়

Update Time : ০৫:৩৬:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ভোট দেবেন ৩৪৯ সংসদ সদস্য। দুপুর ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত চলবে ভোটগ্রহণ।

এবার রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করবেন নির্বাচনি কর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। ভোট শেষে একই কক্ষে ব্যালট গণনা করে প্রাথমিক ফল ঘোষণা করবেন তিনি। পরে নির্বাচন কমিশন ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করবে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এবারের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য সংসদ সদস্যের সংখ্যা ৩৪৯ জন। আদালতের নির্দেশে একটি আসনের প্রার্থিতা বাতিল হওয়ায় ৩৫০ আসনের সংসদের পরিবর্তে বর্তমানে ৩৪৯ জন ভোটার রয়েছেন।

১৯৯১ সালের পর আবারো ভোট:

১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর সর্বশেষ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হয়েছিল। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের প্রার্থী বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী পেয়েছিলেন ৯২ ভোট। এরপর ১৯৯৬, ২০০১, ২০০২, ২০০৯, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল হলেও একাধিক প্রার্থী না থাকায় ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয়নি।

ফলে সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বিধান থাকলেও প্রায় সাড়ে তিন দশক ধরে বাস্তবে ভোটাভুটির প্রয়োজন পড়েনি। এবার দুই প্রার্থী থাকায় সেই প্রক্রিয়ায় ফিরছে দেশ।

ফখরুলের জয় অনেকটাই নিশ্চিত:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির ২৪৭ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। ফলে সংখ্যার হিসাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জয় অনেকটাই নিশ্চিত। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদের পক্ষে রয়েছে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।

তবে, এবারের নির্বাচনে ফলাফলের পাশাপাশি কোন প্রার্থী কত ভোট পেলেন, সেটিও রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে দলীয় সংখ্যার বাইরে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের সংসদ সদস্যদের ভোট কোন দিকে যায়, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

প্রকাশ্য ব্যালটে ভোট:

এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট হবে গোপন ব্যালটে নয়, প্রকাশ্য ব্যালটে। সংসদ সদস্যদের ব্যালটে নিজেদের পরিচয়-সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে এবং পছন্দের প্রার্থীর নামের পাশে স্বাক্ষর করতে হবে।

সংসদ কক্ষে তিনটি ভোট কাউন্টারে তিনটি ব্যালট বাক্স রাখা হবে। সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে অবস্থান করবেন এবং নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা তাদের কাছে ব্যালট পেপার পৌঁছে দেবেন। ভোট দেওয়া শেষে কাছের ব্যালট বাক্সে ব্যালট জমা দেবেন তারা। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর সংসদ কক্ষেই ব্যালট গণনা করা হবে। এরপর নির্বাচনি কর্তা ফল ঘোষণা করবেন এবং নির্বাচন কমিশন তা গেজেট আকারে প্রকাশ করবে।

দীর্ঘ ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হওয়ায় এবারের নির্বাচন শুধু নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিকতা নয়, বাংলাদেশের সংসদীয় রাজনীতিতে দীর্ঘদিন পর একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনার সাক্ষীও হতে যাচ্ছে।

রাজনীতি | ২০ আগস্ট ২০২৬

৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ভোটগ্রহণ শুরু দুপুর ২টায়

বিস্তারিত | dainikamarnews.com