শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মানিকগঞ্জে বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উৎসব:

পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬। ৫:২৭:০৯ এএম

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী যেন স্মৃতির এক উজ্জ্বল মেলায় পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আবেগে ভেসেছেন বিভিন্ন প্রজন্মের শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

শুক্রবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও বেলুনে সাজানো হয় ক্যাম্পাস। বিদ্যালয়ের মাটির একপাশে অনুষ্ঠানের জন্য স্থাপিত আকর্ষণীয় মঞ্চে চলে আয়োজন। সকালেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পরে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।
পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সবার মুখে ছিল উচ্ছ্বাস, চোখে ছিল শৈশবের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার আনন্দ। কেউ গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন, কেউ উৎসবের আনন্দ স্মৃতি এই মুঠোফোনে ধারণ করেন।

অনুষ্ঠান শুরুর পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং স্কুলজীবনের স্মৃতি তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাভানা গ্রুপের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহিদুল হক মিনু, ঢাকার মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক রাজা, ব্যবসায়ী মাজেদুল হক হাবু, ইয়াকুব আলী বাচ্চু এবং ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো. ফারুক হোসেন।

বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মৃত মো. কছিমুদ্দিন এবং জমিদাতা মৃত নয়া মিয়া, নুরুল হক শাজাহান ও শামসুল হক ধলা মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পারন করেন। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মানিকগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তাঁরা নিজেদের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান এবং শৈশবের নানা ঘটনা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল হক মিনু বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ই আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। আজ এত বছর পর আবার এখানে ফিরে এসে মনে হচ্ছে, যেন ছোটবেলায় ফিরে গেছি।’

আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রফেসর ফজলুল হক বলেন, ‘শৈশবের বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এটা ভাবতেই পারিনি। এই আয়োজন আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

বিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের প্রথম ছাত্র ছিলেন মাজেদুল হক হাবু। তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের প্রথম ছাত্র হিসেবে নিজেকে আজ খুবই গর্বিত মনে হচ্ছে। স্কুলের সেই সব দিনের স্মৃতিগুলো আজও মনের দৃশ্যপটে ভেসে বেড়ায়।’

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকা সুলতানা। বক্তব্য দেন পূর্তি উৎসব আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বিপ্লব, সদস্য সচিব সাজ্জাদ চৌধুরী হ্যাপী এবং যুগরন আহ্বায়ক শফিকুল হক মিঠু প্রমুখ।

বক্তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।

দিনব্যাপী এই আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সংগীত ও আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে। সন্ধ্যায় ব্যান্ড দল অভয় এবং ধূমকেতু ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে।

আয়োজকেরা জানান, ৬০ বছরের পথচলায় বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মের আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতির ধারক হয়ে উঠেছে—পুনর্মিলনী আয়োজন যেন সেই বন্ধনকেই নতুন করে স্মরণ কর দেয়।

শিক্ষা | ১১ এপ্রিল ২০২৬

পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

মানিকগঞ্জে বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উৎসব:

পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

Update Time : ০৫:২৭:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী যেন স্মৃতির এক উজ্জ্বল মেলায় পরিণত হয়েছিল। দীর্ঘদিন পর পুরোনো বন্ধু, সহপাঠী ও শিক্ষকদের সঙ্গে মিলিত হয়ে আবেগে ভেসেছেন বিভিন্ন প্রজন্মের শত শত প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

শুক্রবার বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে দিনব্যাপী এই আয়োজন ঘিরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রঙিন ব্যানার, ফেস্টুন ও বেলুনে সাজানো হয় ক্যাম্পাস। বিদ্যালয়ের মাটির একপাশে অনুষ্ঠানের জন্য স্থাপিত আকর্ষণীয় মঞ্চে চলে আয়োজন। সকালেই জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনুষ্ঠান। পরে বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়, যা আশপাশের সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বিদ্যালয়ে এসে শেষ হয়।
পুনর্মিলনীতে অংশ নিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা। সবার মুখে ছিল উচ্ছ্বাস, চোখে ছিল শৈশবের স্মৃতি ফিরে পাওয়ার আনন্দ। কেউ গল্প-আড্ডায় মেতে ওঠেন, কেউ উৎসবের আনন্দ স্মৃতি এই মুঠোফোনে ধারণ করেন।

অনুষ্ঠান শুরুর পর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং স্কুলজীবনের স্মৃতি তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী নাভানা গ্রুপের প্রধান হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহিদুল হক মিনু, ঢাকার মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ফজলুল হক রাজা, ব্যবসায়ী মাজেদুল হক হাবু, ইয়াকুব আলী বাচ্চু এবং ন্যাশনাল পলিটেকনিক ইন্সটিটিউটের পরিচালক মো. ফারুক হোসেন।

বিদ্যালয়ে প্রতিষ্ঠাকালীন শিক্ষক মৃত মো. কছিমুদ্দিন এবং জমিদাতা মৃত নয়া মিয়া, নুরুল হক শাজাহান ও শামসুল হক ধলা মিয়া বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পারন করেন। ১৯৬৬ সালে প্রতিষ্ঠিত বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি মানিকগঞ্জের শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। এই বিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে বহু শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে তাঁরা নিজেদের স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে তুলে ধরেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অবদান এবং শৈশবের নানা ঘটনা।

প্রাক্তন শিক্ষার্থী জাহিদুল হক মিনু বলেন, ‘এই বিদ্যালয়ই আমাদের স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছে। আজ এত বছর পর আবার এখানে ফিরে এসে মনে হচ্ছে, যেন ছোটবেলায় ফিরে গেছি।’

আরেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রফেসর ফজলুল হক বলেন, ‘শৈশবের বন্ধুদের সঙ্গে আবার দেখা হবে, এটা ভাবতেই পারিনি। এই আয়োজন আমাদের জীবনের অন্যতম সেরা স্মৃতি হয়ে থাকবে।’

বিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের প্রথম ছাত্র ছিলেন মাজেদুল হক হাবু। তিনি বলেন, ‘এই স্কুলের প্রথম ছাত্র হিসেবে নিজেকে আজ খুবই গর্বিত মনে হচ্ছে। স্কুলের সেই সব দিনের স্মৃতিগুলো আজও মনের দৃশ্যপটে ভেসে বেড়ায়।’

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আলোচনা সভা। এতে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকা সুলতানা। বক্তব্য দেন পূর্তি উৎসব আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম বিপ্লব, সদস্য সচিব সাজ্জাদ চৌধুরী হ্যাপী এবং যুগরন আহ্বায়ক শফিকুল হক মিঠু প্রমুখ।

বক্তারা বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে মতামত তুলে ধরেন। তাঁরা বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার ভিত্তি মজবুত করতে এমন প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।

দিনব্যাপী এই আয়োজনের আরেকটি আকর্ষণ ছিল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সংগীত ও আবৃত্তি দর্শকদের মুগ্ধ করে। সন্ধ্যায় ব্যান্ড দল অভয় এবং ধূমকেতু ব্যান্ড সংগীত পরিবেশন করে।

আয়োজকেরা জানান, ৬০ বছরের পথচলায় বর্ণমালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মের আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতির ধারক হয়ে উঠেছে—পুনর্মিলনী আয়োজন যেন সেই বন্ধনকেই নতুন করে স্মরণ কর দেয়।

শিক্ষা | ১১ এপ্রিল ২০২৬

পুরোনো সহপাঠীদের পেয়ে আনন্দে উচ্ছ্বাসিত প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com