রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভালোবেসে বিয়ে,

দেড় বছরে দুই শতাধিকবার নির্যাতনের শিকার মীম

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ১২:১৪:০৪ পিএম

ভালোবাসার সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় মীম আক্তার ও মিলন শেখের। কিন্তু সেই সংসারই দেড় বছরে পরিণত হয়েছে নির্যাতনের অন্ধকারে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার উত্তর তরা গ্রামে স্বামীর মারধরের শিকার হয়ে মীম আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
পরিবারের অভিযোগ, স্বামী মিলন শেখ (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত রোববার রাতে বেধড়ক মারধরের পর তার অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মিলন শেখ ও মীম আক্তার একই স্কুলে পড়তেন। সেখানেই গড়ে ওঠে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ২০ আগস্ট তাঁদের বিয়ে হয়।
মিলনের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে হলেও তিনি ছোটবেলা থেকে ঘিওরের উত্তর তরা গ্রামে বসবাস করছেন। মীমের বাড়ি পাশের গ্রাম বাগজান এলাকায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিয়ের কিছুদিন পরই মিলন অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই মীমকে মারধর করা হতো।
তাদের অভিযোগ, বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কারও মিলন নিয়ে নিয়েছেন।
মীমের বাবা জহিরুল ইসলাম বাবু (৩৯) বলেন,“আমার সামর্থ্য কম। তারপরও মেয়ের সুখের জন্য জামাতাকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি ঘর তোলার জন্য।
মীমের বাবা দাবি করেন, গত দেড় বছরে প্রায় ২০০ বারের মতো মীমকে মারধর করা হয়েছে। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ হয়েছে, থানায়ও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু নির্যাতন থামেনি।স্থানীয়ভাবেও অনেকবার বিচার হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমি আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মীমের মা রুমী আক্তার বলেন, রোববার রাতে মেয়েকে মারধর করে ঘরের ভেতর ফেলে রাখা হয়। সারারাত সে কাতরালেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাসপাতালে নেয়নি। সকালে ওর শাশুড়ি আমাদের খবর দিলে আমরা গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। এখনো ওর জ্ঞান ফেরেনি। আমরা অনেক সহ্য করেছি। এখন আর পারছি না। যারা আমার মেয়ের এই অবস্থা করেছে, তাদের শাস্তি চাই।”

অপরাধ | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেড় বছরে দুই শতাধিকবার নির্যাতনের শিকার মীম

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

ভালোবেসে বিয়ে,

দেড় বছরে দুই শতাধিকবার নির্যাতনের শিকার মীম

Update Time : ১২:১৪:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

ভালোবাসার সম্পর্কের পর দুই পরিবারের সম্মতিতে বিয়ে হয় মীম আক্তার ও মিলন শেখের। কিন্তু সেই সংসারই দেড় বছরে পরিণত হয়েছে নির্যাতনের অন্ধকারে। মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার উত্তর তরা গ্রামে স্বামীর মারধরের শিকার হয়ে মীম আক্তার (১৮) নামে এক তরুণী বর্তমানে মানিকগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে অচেতন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
পরিবারের অভিযোগ, স্বামী মিলন শেখ (২৩) দীর্ঘদিন ধরে তাকে শারীরিক নির্যাতন করে আসছিলেন। সর্বশেষ গত রোববার রাতে বেধড়ক মারধরের পর তার অবস্থার অবনতি হলে সোমবার সকালে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
মিলন শেখ ও মীম আক্তার একই স্কুলে পড়তেন। সেখানেই গড়ে ওঠে তাঁদের প্রেমের সম্পর্ক। বিষয়টি জানাজানি হলে দুই পরিবারের সম্মতিতে গত বছরের ২০ আগস্ট তাঁদের বিয়ে হয়।
মিলনের গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে হলেও তিনি ছোটবেলা থেকে ঘিওরের উত্তর তরা গ্রামে বসবাস করছেন। মীমের বাড়ি পাশের গ্রাম বাগজান এলাকায়।
পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, বিয়ের কিছুদিন পরই মিলন অন্য এক নারীর সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে প্রতিবাদ করলেই মীমকে মারধর করা হতো।
তাদের অভিযোগ, বিয়ের সময় দেওয়া স্বর্ণালঙ্কারও মিলন নিয়ে নিয়েছেন।
মীমের বাবা জহিরুল ইসলাম বাবু (৩৯) বলেন,“আমার সামর্থ্য কম। তারপরও মেয়ের সুখের জন্য জামাতাকে দেড় লাখ টাকা দিয়েছি ঘর তোলার জন্য।
মীমের বাবা দাবি করেন, গত দেড় বছরে প্রায় ২০০ বারের মতো মীমকে মারধর করা হয়েছে। একাধিকবার স্থানীয়ভাবে বিচার-সালিশ হয়েছে, থানায়ও যোগাযোগ করা হয়েছে। কিন্তু নির্যাতন থামেনি।স্থানীয়ভাবেও অনেকবার বিচার হয়েছে। কিন্তু কোনো লাভ হয়নি। আমি আমার মেয়ের ওপর নির্যাতনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
মীমের মা রুমী আক্তার বলেন, রোববার রাতে মেয়েকে মারধর করে ঘরের ভেতর ফেলে রাখা হয়। সারারাত সে কাতরালেও শ্বশুরবাড়ির লোকজন হাসপাতালে নেয়নি। সকালে ওর শাশুড়ি আমাদের খবর দিলে আমরা গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করি। এখনো ওর জ্ঞান ফেরেনি। আমরা অনেক সহ্য করেছি। এখন আর পারছি না। যারা আমার মেয়ের এই অবস্থা করেছে, তাদের শাস্তি চাই।”

অপরাধ | ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

দেড় বছরে দুই শতাধিকবার নির্যাতনের শিকার মীম

বিস্তারিত | dainikamarnews.com