৫০% পেনশন সমর্পণকারীদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি-
- প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬। ৯:৫৯:২৯ এএম
এ চিঠি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর গোচরীভূত হবে কি-না জানি না। তবুও একটি ভরসায় লিখছি। কোনো ভাবেই যদি তিনি বিষয়টি জানতে পারেন তবে অবশ্যই ত্বরিত একটি ব্যবস্থা নেবেন বলে আমরা বিশ্বাস করি।
বিষয়টি নিয়ে সচিব কিংবা মন্ত্রী পর্যায়ে আলোচনা করা যেতো। কিন্তু সেখানে কেবল বিলম্বিত করণ ছাড়া আর তেমন কিছু অগ্রগতি কখনোই দৃশ্যমান হয় না। পক্ষান্তরে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ইদানিং বেশ কিছু বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং নিচ্ছেন। আর বিষয়টির সাথে বেশ বড় আর্থিক সংশ্লেষ রয়েছে বিধায় প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ছাড়া কেউ সিদ্ধান্ত দিতে সাহস করবে না।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
২০১৭ সালের পূর্বে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের গ্রাচুইটির বিষয়ে দুটি অপশন ছিল। কেউ পুরো গ্রাচুইটির টাকা ইচ্ছে করলে তুলে নিতে পারতেন। সেক্ষেত্রে ঐ কর্মকর্তা মাসিক পেনশন পেতেন না। আর যাঁরা অর্ধেক টাকা তুলতেন এবং বাকী অর্ধেক সরকারের কাছে সমর্পণ করতেন তাঁরা জমাকৃত অর্ধেকের জন্য মাসিক পেনশন পেতেন।
কিন্তু ২০১৭ সালে সরকার বাধ্যতামূলক ভাবে ৫০% সমর্পণের আইন করে। ফলে ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসের পর হতে যতো কর্মকর্তা কর্মচারী অবসরে গেছেন সকলকেই ৫০% টাকা সমর্পণ করতে হয়েছে এবং হচ্ছে। তাঁরা অবশ্য নিয়মিত পেনশন পাচ্ছেন।
ইতোমধ্যে সরকার আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যাঁরা ২০১৭ সালের আগে শতভাগ গ্রাচুইটির টাকা তুলে নিয়েছেন তাঁদের আর্থিক অস্বচ্ছলতার কথা বিবেচনা করে অবসরের বয়স ১৫ বছর হওয়া সাপেক্ষে তাঁদেরকেও পেনশনের আওতায এনেছেন। তাঁরাও এখন নিয়মিত পেনশন পাচ্ছেন। এটি নি: সন্দেহে একটি মানবিক পদক্ষেপ।
কিন্তু পেনশনের ক্ষেত্রে এই দৈত্ব নীতি প্রয়োগের ফলে অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের একটি অংশের উপর আপেক্ষিক ভাবে অনিয়ম চাপিয়ে দেয়া হয়েছে বলে মনে করি। কেননা ১০০% সমর্পণকারী এবং ৫০% সমর্পণকারী এঁরা সকলেই সমান সুযোগ পাচ্ছেন। ১০০% সমর্পণকারী কর্মকর্তাদের এই সুযোগ প্রদানে আমাদের কোনোই আপত্তি নেই। কারণ আমরা বুঝতে পারি অবসর জীবনের নানা বঞ্চনার কথা।
আমাদের দাবী এটুকুই সকল পেনশনারদের ক্ষেত্রে একই নিয়ম চালু করা হোক এবং বিগত সরকারের এই বৈষম্য নীতির অবসান ঘটানো হোক। সেক্ষেত্রে ৫০% সমর্পণকারীদের বাকী ৫০% টাকা ফেরত দেয়া হোক। অথবা একটি যুক্তিসম্মত পদ্ধতির মাধ্যমে ঐ সমর্পিত ৫০% টাকার সুবিধা প্রদান করা হোক।
এ ক্ষেত্রে ৫০% সমর্পণকারী সমস্ত কর্মচারীর টাকা একসঙ্গে ফেরত দেয়ার প্রয়োজন নেই। শতভাগ সমর্পণকারীদের যেমন ১৫ বছর পর পেনশন চালু করা হচ্ছে ঠিক একই যুক্তিতে ৫০% সমর্পণকারীদের সাড়ে ৭ বছর পূর্ণ হওয়া সাপেক্ষে জমাকৃত অর্ধেক টাকা ফেরত দিলে যথার্থ ন্যায় বিচার হবে বলে আমরা মনে করি।
বিষটি গুরুতর মানবিক বিবেচনার দাবী রাখে বলেই আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর শরণাপন্ন হচ্ছি এবং আমরা এটাও বিশ্বাস করি বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর কাছে যথাযথভাবে উপস্থাপিত হলে তিনি এ বিষয়ে দ্রুত একটি ইতিবাচক সিদ্ধান্ত দেবেন বলে আশা করি।
এ বিষয়ে সদাশয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে কথা বলার সুযোগ পেলে আমরা কৃতার্থ হবো।
সারাদেশ | ২০ অক্টোবর ২০২৬
৫০% পেনশন সমর্পণকারীদের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি খোলা চিঠি-





















