কর্মব্যস্ততার ফাঁকে প্রশান্তির খোঁজে সাগর পাড়ে মানিকগঞ্জের টেলিভিশনের সাংবাদিকরা
- প্রকাশিত : শনিবার, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬। ১০:৪৯:৫৩ এএম
ঝড়-বৃষ্টি-রোদ কিংবা কনকনে শীত কিছুই থামাতে পারে না টেলিভিশনের সাংবাদিকদের। খবরের খোঁজে শহরের ব্যস্ত রাজপথ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামের আঁকাবাঁকা পথ সবখানেই তাদের অবিরাম ছুটে চলা। ক্যামেরার সামনে দৃশ্যমান গল্পের আড়ালে থেকে যায় তাদের না বলা গল্প, অব্যক্ত ক্লান্তি আর নীরব চাপ।
সেই চাপ আর ক্লান্তির মাঝেই একটু প্রশান্তির ছোঁয়া আনতে এবার ভিন্ন এক উদ্যোগ নিল মানিকগঞ্জ টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটি (টিয়ারইউ)। পেশাগত ব্যস্ততার বাইরে এসে নিজেদের জন্য কিছু সময়, এই ভাবনা থেকেই সংগঠনটি প্রথমবারের মতো আয়োজন করেছে আনন্দ-ভ্রমণের।
শনিবার ভোর ৬টা। তখনও শহর ঘুমে আচ্ছন্ন। অথচ মানিকগঞ্জের একদল টেলিভিশন সাংবাদিক ব্যাগ গুছিয়ে রওনা দিয়েছেন সাগরের ডাক শুনে। গন্তব্য বাংলাদেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজার। শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পেরিয়ে দুপুর ১২টার দিকে তারা পৌঁছান কক্সবাজারের দ্য সি প্রিন্সেস হোটেলে।
সম্পাদক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক এবং সংগঠনটির কার্যকরী সদস্য ও বাংলাভিশন টেলিভিশনের সাংবাদিক মোঃ আকরাম হোসেন তার অনুভূতি প্রকাশের সময় বলেন, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের অপূর্ব সৌন্দর্য, ঢেউয়ের ছন্দময় কলকল শব্দ আর নরম সোনালি বালুর স্পর্শ মনকে সত্যি নাড়া দিয়েছে।
এই সংগঠনের কোষাধ্যক্ষ ও দেশ টিভির সাংবাদিক আব্দুল আলিম নিজের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন, সমুদ্রের বুকে সূর্যের সোনালি ঝিলমিল আলো, আর সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের লাল-কমলা আভা যা পুরো সৈকতকে রূপ দেয় এক রোমান্টিক দৃশ্যে। ঢেউ এসে পায়ের কাছে ভেঙে আবার ফিরে যায়, এটা যেন ঠিক প্রকৃতির অবিরাম নিঃশ্বাস।
এছাড়াও চ্যানেল আই ‘এর সিনিয়র সাংবাদিক ও টিআরইউ এর উপদেষ্টা গোলাম সারোয়ার ছানুও নিজের অনুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সৈকতের পাশে সারি সারি ঝাউবন, দূরে ভাসমান মাছ ধরার নৌকা আর আকাশে উড়তে থাকা সাদা গাঙচিল দৃশ্যটিকে করে তোলে আরও জীবন্ত। বাতাসে লবণাক্ত সমুদ্রগন্ধ, ঢেউয়ের ছোঁয়া আর প্রকৃতির এই বিশালতা আমাদের ক্ষণিকের জন্য হলেও সব ক্লান্তি ভুলিয়ে দিয়েছিল।
ভ্রমণ নিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করে টেলিভিশন রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল আলম লিটন বলেন, “সারা বছর আমরা সবাই কাজের চাপে থাকি। কখন যে নিজের জন্য সময় পাওয়া যায়, তা বোঝার সুযোগই হয় না। এই ভ্রমণ আমাদের মানসিকভাবে চাঙা করবে, কাজের প্রতি নতুন উদ্দীপনা দেবে।”
ভ্রমণের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য তুলে ধরে সংগঠনের সভাপতি বি. এম. খোরশেদ বলেন, “টেলিভিশন সাংবাদিকদের কাজ অত্যন্ত চাপের এবং ঝুঁকিপূর্ণ। এই ভ্রমণের মাধ্যমে আমরা চেয়েছি একে অপরের সঙ্গে সময় কাটাতে, সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে। পাশাপাশি সংগঠনের ভেতরে ঐক্য ও সৌহার্দ্য বাড়ানোই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য।”
বিনোদন | ১৭ জানুয়ারি ২০২৬
কর্মব্যস্ততার ফাঁকে প্রশান্তির খোঁজে সাগর পাড়ে মানিকগঞ্জের টেলিভিশনের সাংবাদিকরা






















