মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মানিকগঞ্জে মেডিকেল কলেজে ডোপ টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের ‘স্বাক্ষর জাল’ করার অভিযোগ উঠেছে টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে

মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ :
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬। ২:৪৮:৫৬ পিএম

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি ল্যাব থেকে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে ডোপ টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ল্যাব টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে।

২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকালে একটি ডোপ টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর দেখে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়। এরপর সরকারি দপ্তরে ঘুরে একাধিক রিপোর্ট সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই স্বাক্ষর নিজের নয় বলে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে প্যাথলজি ল্যাব থেকে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি রিপোর্টের এক পাশে বর্তমান ল্যাব ইনচার্জ মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্বাক্ষর এবং অপর পাশে ডা. তাহমিনা নাজনীনকে বায়োকেমিস্ট বিভাগের প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করে তার স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ডা. তাহমিনা নাজনীন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে ডা. তাহমিনা নাজনীন এক লিখিত বক্তব্যে জানান, ‘আমি ডা. তাহমিনা নাজনীন, সহকারী অধ্যাপক (ফিজিওলজি) ইন-সিটু। গত ১০/১২/২০২৫ ইং হতে সহকারী অধ্যাপক পদে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে কর্মরত। এর আগে লেকচারার পদে কর্মরত ছিলাম। আমি কখনোই মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের ডোপ টেস্টের কোনো রিপোর্টে সাইন করিনি। কারণ এটা আমার বিভাগের কোনো কাজ নয়। যারা আমার ভুল এবং ভুয়া সিল, সাইন জালিয়াতি করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব শিগগিরই।’

বর্তমানে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে ল্যাব টেকনোলজিস্ট হিসেবে আজমেরী আক্তার এবং ল্যাব ইনচার্জ হিসেবে মো. আব্দুল কুদ্দুস কর্মরত আছেন।

ডোপ টেস্টের রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে ল্যাব টেকনোলজিস্ট আজমেরী মুঠোফোনে জানান, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না। আপনি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

ল্যাব ইনচার্জ মো. আব্দুল কুদ্দুসের বক্তব্য জানতে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করাতে বিভিন্নভাবে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজের চেষ্টা করেন তিনি।

প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মৃদুল কুমার সাহা বলেন, ‘প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসক নিজে স্বাক্ষর করার কথা। তবে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোনো রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নেব।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো কিছু আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য, ডোপ টেস্ট সরকারি চাকরিতে যোগদান, পেশাদার গাড়িচালকের লাইসেন্স গ্রহণ, বিদেশগমনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কত বছর ধরে এবং কতগুলো রিপোর্টে চিকিৎসকের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, এসব রিপোর্টের ভিত্তিতে কারা সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা পেশাদার গাড়িচালকের লাইসেন্স নিয়েছেন, তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।

অপরাধ | ২২ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জে মেডিকেল কলেজে ডোপ টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের ‘স্বাক্ষর জাল’ করার অভিযোগ উঠেছে টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

মানিকগঞ্জে মেডিকেল কলেজে ডোপ টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের ‘স্বাক্ষর জাল’ করার অভিযোগ উঠেছে টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে

Update Time : ০২:৪৮:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি ল্যাব থেকে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে ডোপ টেস্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল রিপোর্ট দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ল্যাব টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে।

২৭ সেপ্টেম্বর (রবিবার) সকালে একটি ডোপ টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর দেখে সন্দেহ দেখা দিলে বিষয়টি অনুসন্ধান করা হয়। এরপর সরকারি দপ্তরে ঘুরে একাধিক রিপোর্ট সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ওই স্বাক্ষর নিজের নয় বলে জানান।

অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে একইভাবে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে প্যাথলজি ল্যাব থেকে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি রিপোর্টের এক পাশে বর্তমান ল্যাব ইনচার্জ মো. আব্দুল কুদ্দুসের স্বাক্ষর এবং অপর পাশে ডা. তাহমিনা নাজনীনকে বায়োকেমিস্ট বিভাগের প্রভাষক হিসেবে উল্লেখ করে তার স্বাক্ষর ও সিল ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ডা. তাহমিনা নাজনীন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।

এ বিষয়ে ডা. তাহমিনা নাজনীন এক লিখিত বক্তব্যে জানান, ‘আমি ডা. তাহমিনা নাজনীন, সহকারী অধ্যাপক (ফিজিওলজি) ইন-সিটু। গত ১০/১২/২০২৫ ইং হতে সহকারী অধ্যাপক পদে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজে কর্মরত। এর আগে লেকচারার পদে কর্মরত ছিলাম। আমি কখনোই মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগের ডোপ টেস্টের কোনো রিপোর্টে সাইন করিনি। কারণ এটা আমার বিভাগের কোনো কাজ নয়। যারা আমার ভুল এবং ভুয়া সিল, সাইন জালিয়াতি করে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ থেকে ডোপ টেস্টের রিপোর্ট দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব শিগগিরই।’

বর্তমানে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের প্যাথলজি বিভাগে ল্যাব টেকনোলজিস্ট হিসেবে আজমেরী আক্তার এবং ল্যাব ইনচার্জ হিসেবে মো. আব্দুল কুদ্দুস কর্মরত আছেন।

ডোপ টেস্টের রিপোর্টে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করার বিষয়ে ল্যাব টেকনোলজিস্ট আজমেরী মুঠোফোনে জানান, ‘এ বিষয়ে আমি জানি না। আপনি আমার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন।’

ল্যাব ইনচার্জ মো. আব্দুল কুদ্দুসের বক্তব্য জানতে বারবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে বিষয়টি সামনে আসার পর থেকে একাধিক ব্যক্তিকে দিয়ে সংবাদ প্রকাশ না করাতে বিভিন্নভাবে এই প্রতিবেদককে ম্যানেজের চেষ্টা করেন তিনি।

প্যাথলজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ডা. মৃদুল কুমার সাহা বলেন, ‘প্যাথলজি রিপোর্টে চিকিৎসক নিজে স্বাক্ষর করার কথা। তবে স্বাক্ষর জালিয়াতি করে কোনো রিপোর্ট দেওয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। আপনার কাছেই প্রথম শুনলাম। এ বিষয়ে আমি খোঁজ নেব।’

এ বিষয়ে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এমন কোনো কিছু আমার জানা নেই। এ বিষয়ে আমি খোঁজখবর নিয়ে দেখব। অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেব।’

উল্লেখ্য, ডোপ টেস্ট সরকারি চাকরিতে যোগদান, পেশাদার গাড়িচালকের লাইসেন্স গ্রহণ, বিদেশগমনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যবহৃত হয়। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কত বছর ধরে এবং কতগুলো রিপোর্টে চিকিৎসকের জাল স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে, এসব রিপোর্টের ভিত্তিতে কারা সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন বা পেশাদার গাড়িচালকের লাইসেন্স নিয়েছেন, তাও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে এ ঘটনায় আর কারা জড়িত, তা সঠিক তদন্তের মাধ্যমে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহলের অনেকে।

অপরাধ | ২২ অক্টোবর ২০২৬

মানিকগঞ্জে মেডিকেল কলেজে ডোপ টেস্ট রিপোর্টে চিকিৎসকের ‘স্বাক্ষর জাল’ করার অভিযোগ উঠেছে টেকনোলজিস্টের বিরুদ্ধে

বিস্তারিত | dainikamarnews.com