বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাটুরিয়ায় রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৭

স্টাফ রিপোর্টার:
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ১:৪৮:৩৬ পিএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কামতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন জোনাব আলী (১০৫), তাঁর ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৬৫), নাতি আনোয়ার হোসেন (৪০), দেলোয়ার হোসেন (২৭) ও পুত্রবধূ রাশেদা বেগম (৫৫)। অপর পক্ষের মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেম (৫০)। আহতদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামতা মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে জোনাব আলী ও মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে।

সম্প্রতি ওই জমির পাশ দিয়ে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি রাস্তা বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা। এতে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের লোকজন আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বর ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের কাছে অভিযোগও করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই পক্ষকে বসিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলেও সে বিষয়ে সাড়া দেন না জোনাব আলীল পরিবারের সদস্যরা।

আজ বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে মোহাম্মদ আলী, তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেমসহ কয়েকজন স্থানিয় লোকজন ছাপড়া ঘরটি ভেঙে দিয়ে চলাচলে রাস্তাটি খুলে দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হন।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোনাব আলীর নাতি সুজন হোসাইন বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীর পরিবার ওই জমির মালিকানা দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।

সুজনের দাবি আমাদের জমিতে আমারা ঘর তুলেছি। তারা ঘরভেঙে দিয়ে আমার চাচা আব্দুল মোন্নাফ, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, চাচি রাশেদা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন আহত হন।

অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ আলী ও আবুল হাশেম বলেন, জমিটি তাঁদের পরিবারের। জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন জমি দখল করে এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন। এ নিয়ে তাঁরা স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বসার প্রস্তাবে জোনাব আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই মঙ্গলবার সকালে তাঁরা গিয়ে ঘরটি ভেঙে দেন। এ সময় জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে তাঁরা দাবি করেন।

সরেজমিনে পশ্চিম কামতা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আলীম উদ্দিনের বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। ওই জমির মালিকানা নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ। জমির দক্ষিণ পাশে জিন্নাহ দেওয়ান নামে এক ব্যক্তির পেয়ারা বাগান রয়েছে। ধানখেত ও পেয়ারা বাগানের মাঝ দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামবাসী মিলে রাস্তাটি তৈরি করেছে। রাস্তার পশ্চিম দিকে প্রায় ১০টি পরিবারের বসতি রয়েছে। সম্প্রতি ওই রাস্তার প্রবেশপথ বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৭০ বছর বয়সী বাবুল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বলেন, ‘আমি চোখে দেখি না। এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতাম। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেক ঘুরে খেতের আইল দিয়ে কষ্ট করে যেতে হয়। সে জন্য বাড়ি থেকে বেশি বেড় হইনা। কারন খেতের আইল দিয়ে চলাচলে সময় পরে যায়। একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজন।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, কামতা গ্রামে রাস্তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করছেন। আমরা অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেব।

অপরাধ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাটুরিয়ায় রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৭

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

সাটুরিয়ায় রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৭

Update Time : ০১:৪৮:৩৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একটি চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরের দিকে উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কামতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

আহত ব্যক্তিরা হলেন জোনাব আলী (১০৫), তাঁর ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৬৫), নাতি আনোয়ার হোসেন (৪০), দেলোয়ার হোসেন (২৭) ও পুত্রবধূ রাশেদা বেগম (৫৫)। অপর পক্ষের মোহাম্মদ আলী (৬০) ও তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেম (৫০)। আহতদের মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কামতা মৌজার একটি জমির মালিকানা নিয়ে জোনাব আলী ও মোহাম্মদ আলীর পরিবারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। উভয় পক্ষই জমিটি নিজেদের বলে দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলাও হয়েছে।

সম্প্রতি ওই জমির পাশ দিয়ে এলাকাবাসীর চলাচলের জন্য ব্যবহৃত একটি রাস্তা বন্ধ করে টিনের ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন জোনাব আলীর পরিবারের সদস্যরা। এতে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের লোকজন আপত্তি জানান। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় মাতব্বর ও ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যের কাছে অভিযোগও করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই পক্ষকে বসিয়ে বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নিলেও সে বিষয়ে সাড়া দেন না জোনাব আলীল পরিবারের সদস্যরা।

আজ বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১ টার দিকে মোহাম্মদ আলী, তাঁর ভাতিজা আবুল হাশেমসহ কয়েকজন স্থানিয় লোকজন ছাপড়া ঘরটি ভেঙে দিয়ে চলাচলে রাস্তাটি খুলে দেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের সাতজন আহত হন।

মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জোনাব আলীর নাতি সুজন হোসাইন বলেন, প্রায় ৪০ বছর আগে মোহাম্মদ আলীর পরিবারের কাছ থেকে ৩৫ শতাংশ জমি কেনা হয়েছিল। এরপর থেকে তাঁদের পরিবার জমিটি ভোগদখল করে আসছে। সম্প্রতি মোহাম্মদ আলীর পরিবার ওই জমির মালিকানা দাবি করছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলছে।

সুজনের দাবি আমাদের জমিতে আমারা ঘর তুলেছি। তারা ঘরভেঙে দিয়ে আমার চাচা আব্দুল মোন্নাফ, চাচাতো ভাই আনোয়ার হোসেন, চাচি রাশেদা বেগম ও দেলোয়ার হোসেন আহত হন।

অন্যদিকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মোহাম্মদ আলী ও আবুল হাশেম বলেন, জমিটি তাঁদের পরিবারের। জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন জমি দখল করে এবং চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করেন। এ নিয়ে তাঁরা স্থানীয় মাতব্বরদের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। বিষয়টি নিয়ে বসার প্রস্তাবে জোনাব আলীর পরিবারের পক্ষ থেকে সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই মঙ্গলবার সকালে তাঁরা গিয়ে ঘরটি ভেঙে দেন। এ সময় জোনাব আলীর পরিবারের লোকজন তাঁদের ওপর হামলা করেন বলে তাঁরা দাবি করেন।

সরেজমিনে পশ্চিম কামতা গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, আলীম উদ্দিনের বাড়ির পশ্চিম পাশে একটি জমিতে ধান চাষ করা হয়েছে। ওই জমির মালিকানা নিয়েই দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ। জমির দক্ষিণ পাশে জিন্নাহ দেওয়ান নামে এক ব্যক্তির পেয়ারা বাগান রয়েছে। ধানখেত ও পেয়ারা বাগানের মাঝ দিয়ে পশ্চিম দিকে প্রায় ১০ ফুট প্রশস্ত একটি রাস্তা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামবাসী মিলে রাস্তাটি তৈরি করেছে। রাস্তার পশ্চিম দিকে প্রায় ১০টি পরিবারের বসতি রয়েছে। সম্প্রতি ওই রাস্তার প্রবেশপথ বন্ধ করে ছাপড়া ঘর নির্মাণ করা হলে স্থানীয় বাসিন্দারা আপত্তি জানান। পরে বিষয়টি সালিসের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা সফল হয়নি।

রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ৭০ বছর বয়সী বাবুল দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, বলেন, ‘আমি চোখে দেখি না। এই রাস্তা দিয়েই চলাচল করতাম। রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন অনেক ঘুরে খেতের আইল দিয়ে কষ্ট করে যেতে হয়। সে জন্য বাড়ি থেকে বেশি বেড় হইনা। কারন খেতের আইল দিয়ে চলাচলে সময় পরে যায়। একই ধরনের অভিযোগ করেন স্থানীয় বাসিন্দা রাবেয়া খাতুনসহ আরও কয়েকজন।

এ বিষয়ে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, কামতা গ্রামে রাস্তা নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে মারামারির খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে তদন্ত করছেন। আমরা অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেব।

অপরাধ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাটুরিয়ায় রাস্তা বন্ধ করে ঘর নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে আহত-৭

বিস্তারিত | dainikamarnews.com