কলকাতার হোটেলে আগুন: নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত
- প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬। ৪:২৫:১০ এএম
কলকাতার নিউ মার্কেট এলাকার একটি হোটেলে আগুন লেগে নিহতদের মধ্যে কতজন বাংলাদেশি, সেই তথ্য নিয়ে অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। প্রথমে ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছিল, নিহত ৯ জনের সবাই বাংলাদেশি। চিকিৎসার জন্য তারা কলকাতায় গিয়েছিলেন।
শনাক্ত হওয়া মৃত ব্যক্তিরা হলেন- কুষ্টিয়া সদর উপজেরার আরুয়াপাড়ার দেবাশিস দত্ত (৩৭), তার শিশুসন্তান শর্ণশিষ দত্ত (২)। একই এলাকার আফসানা শিম্মিন (২৫)।
একই উপজেলার থানাপাড়া এলাকার ইয়াসিন আলীর ছেলে মো. আকরাম আলী (৬৪)। এ ছাড়া ঢাকার সাভারের বেগুনবাড়ি এলাকার শিশু আহমেদ বাবু (২) এবং ভারতের ঝাড়খণ্ডের গিরিডি জেলার ১৯ বছর বয়সী তরুণ সন্দীপ পাসওয়ান। নিহত বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে এ ঘটনায় কঠোর মনোভাব ব্যক্ত করেছে প্রশাসন। নিউ মার্কেট থানা একটি স্বতঃপ্রণৌদিত মামলা দায়ের করেছে। অনিচ্ছাকৃত খুনের (১০৫ বিএনএস) ধারা, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের (৬১ বিএনএস) এবং সমবেতভাবে অপরাধ (৩/৫ বিএনএস) ধারায় এই মামলা করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকেও পৃথক একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শ করেছেন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তিন মন্ত্রী- পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায় এবং রাজ্য মন্ত্রীসভার সদস্য পূর্ণিমা চক্রবর্তী।
ঘটনাস্থল পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে রাজ্য সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী তাপস রায়। তিনি জানান, বেআইনি কার্যকলাপ ও সুরক্ষাবিধি অমান্য করার বিষয়ে সরকার বিন্দুমাত্র আপস করবে না।
গণমাধ্যমের সামনে তাপস রায় বলেন, এ ধরনের মর্মান্তিক বা বিপজ্জনক ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এই সব ক্ষেত্রে আমাদের অবস্থান একেবারেই স্পষ্ট- আমরা ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে চলব।
তিনি আরো বলেন, শহরের আনাচে-কানাচে শতাধিক ও হাজার হাজার বাড়ি এবং গেস্ট হাউস চলছে। এগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় পারমিশন, লাইসেন্স বা অগ্নিনির্বাপক ছাড়পত্র আছে কি না, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হবে। নিয়ম অমান্য করে বেআইনিভাবে চলা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হবে এবং আইন অনুযায়ী কঠোর পদক্ষেপ করা হবে।
কলকাতা পৌরসভা ও স্থানীয় প্রশাসনের গাফিলতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়ে তিনি বলেন, পৌরসভা বা মেয়রের যদি কোনো ভুল বা গাফিলতি থাকে, তবে সেটাও চাপা দেওয়ার সুযোগ নেই। যার বিরুদ্ধে গাফিলতির প্রমাণ মিলবে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত বলে অভিমত জানান তিনি।
এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত পৌর ও নগর উন্নয়নমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং মন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পাশাপাশি দ্রুত সহায়তা, উদ্ধারকার্য ও তদন্তপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার নির্দেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে কলকাতার নিউ মার্কেটের কাছে মির্জা গালিব স্ট্রিটের হোটেলটিতে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের দীর্ঘ তৎপরতায় প্রায় ৮০ জনকে উদ্ধার করা হয়। তবে ৯ জনকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধারের পর হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হোটেলটিতে ২৫ জন বাংলাদেশি ছিলেন।
বিশ্ব | ২০ আগস্ট ২০২৬
কলকাতার হোটেলে আগুন: নিহতদের মধ্যে ৫ বাংলাদেশির পরিচয় শনাক্ত

























