শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

অতিবৃষ্টিতে সড়কে ফাটল, তবে ঝুঁকিমুক্ত মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় ক্যাম্পাসের ভবন

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬। ১২:১৪:৪৫ পিএম

মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় ক্যাম্পাসের ৬ তলা ভবনকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে ভবনের পাশের রাস্তা ও মাটিতে ফাটল দেখা দিলেও এতে ভবনের কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাদের দাবি, ভবনটি নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত সিডিউল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে টানা অতিবৃষ্টির কারণে তৃতীয় ক্যাম্পাসের ৬ তলা ভবনের পাশের রাস্তার একটি অংশে ফাটল দেখা দেয়। ভবনের একপাশে ডোবা থাকায় অতিবৃষ্টিতে মাটি সরে গিয়ে রাস্তার পাশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার খবর প্রচারিত হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
তবে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বক্তব্যে জানা যায়, ফাটলটি ভবনের মূল কাঠামোতে নয়; বরং ভবনের পাশের রাস্তা ও মাটিতে সৃষ্টি হয়েছিল। অতিবৃষ্টির পানি ও মাটি সরে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৬ তলা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনটির কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে এবং শেষ হয় এ বছরের মার্চ মাসে।
১১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার এই ভবনটির কাজ সম্পন্ন করেন রিতা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এবিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ভবন নির্মাণের প্রতিটি ধাপ, নির্ধারিত নকশা ও সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবনের কলাম, বিম, ছাদ কিংবা দেয়ালে কোনো ধরনের কাঠামোগত ফাটল বা ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই রাস্তার পাশে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি আরও জানান, ভবনের পাশের ডোবাটি দ্রুত ভরাট করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার অংশও মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ফাটল সৃষ্টি হওয়া স্থানটি ঠিক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের দাবি, গণমাধ্যমে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছিল, সেখানে ভবনের কোনো অংশে কাঠামোগত ফাটলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখানো হয়নি। কারণ ভবনের মূল কাঠামোতে কোনো ফাটলই সৃষ্টি হয়নি। রাস্তার পাশের মাটি সরে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হওয়াকে ভবনের ঝুঁকির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
তারা বলেন, ভবন নির্মাণের মান নিয়ে কোনো আপস করা হয়নি। নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণে ভবনের আশপাশের মাটি সরে যাওয়ায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হলেও তা ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।
তারা জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবনের পাশে থাকা ডোবা ভরাট এবং পার্শ্ববর্তী জায়গা যথাযথভাবে সংস্কার করা হলে ভবনের চারপাশের মাটিও আরও স্থিতিশীল হবে।

ফলে শুধু রাস্তার পাশে মাটি সরে গিয়ে ফাটল ধরার ঘটনাকে ভিত্তি করে ৬ তলা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে।

শিক্ষা | ১৮ আগস্ট ২০২৬

অতিবৃষ্টিতে সড়কে ফাটল, তবে ঝুঁকিমুক্ত মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় ক্যাম্পাসের ভবন

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

অতিবৃষ্টিতে সড়কে ফাটল, তবে ঝুঁকিমুক্ত মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় ক্যাম্পাসের ভবন

Update Time : ১২:১৪:৪৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬

মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় ক্যাম্পাসের ৬ তলা ভবনকে ঘিরে তৈরি হওয়া উদ্বেগের অবসান হয়েছে। অতিবৃষ্টির কারণে ভবনের পাশের রাস্তা ও মাটিতে ফাটল দেখা দিলেও এতে ভবনের কাঠামোগত কোনো ক্ষতি হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। তাদের দাবি, ভবনটি নির্মাণের সময় অনুমোদিত নকশা ও নির্ধারিত সিডিউল যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে। ফলে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার কোনো কারণ নেই।

জানা গেছে, কিছুদিন আগে টানা অতিবৃষ্টির কারণে তৃতীয় ক্যাম্পাসের ৬ তলা ভবনের পাশের রাস্তার একটি অংশে ফাটল দেখা দেয়। ভবনের একপাশে ডোবা থাকায় অতিবৃষ্টিতে মাটি সরে গিয়ে রাস্তার পাশে ফাটলের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ভবন ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার খবর প্রচারিত হলে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দেয়।
তবে সরেজমিন পরিদর্শন ও সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের বক্তব্যে জানা যায়, ফাটলটি ভবনের মূল কাঠামোতে নয়; বরং ভবনের পাশের রাস্তা ও মাটিতে সৃষ্টি হয়েছিল। অতিবৃষ্টির পানি ও মাটি সরে যাওয়ার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ৬ তলা বিশিষ্ট মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের একাডেমিক ভবনটির কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে এবং শেষ হয় এ বছরের মার্চ মাসে।
১১ কোটি ৩০ লক্ষ টাকার এই ভবনটির কাজ সম্পন্ন করেন রিতা এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এবিষয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারি প্রকৌশলী মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন জানান, ভবন নির্মাণের প্রতিটি ধাপ, নির্ধারিত নকশা ও সিডিউল অনুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। ভবনের কলাম, বিম, ছাদ কিংবা দেয়ালে কোনো ধরনের কাঠামোগত ফাটল বা ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাই রাস্তার পাশে মাটি সরে যাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো ভবনকে ঝুঁকিপূর্ণ বলা বাস্তবসম্মত নয়।
তিনি আরও জানান, ভবনের পাশের ডোবাটি দ্রুত ভরাট করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার অংশও মেরামত করা হয়েছে। বর্তমানে ফাটল সৃষ্টি হওয়া স্থানটি ঠিক করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্তাব্যক্তিদের দাবি, গণমাধ্যমে ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ বলে যে তথ্য প্রচার করা হয়েছিল, সেখানে ভবনের কোনো অংশে কাঠামোগত ফাটলের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ দেখানো হয়নি। কারণ ভবনের মূল কাঠামোতে কোনো ফাটলই সৃষ্টি হয়নি। রাস্তার পাশের মাটি সরে গিয়ে ফাটল সৃষ্টি হওয়াকে ভবনের ঝুঁকির সঙ্গে এক করে দেখার সুযোগ নেই।
তারা বলেন, ভবন নির্মাণের মান নিয়ে কোনো আপস করা হয়নি। নির্ধারিত সিডিউল অনুযায়ী শতভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। অতিবৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক কারণে ভবনের আশপাশের মাটি সরে যাওয়ায় সাময়িক সমস্যা তৈরি হলেও তা ইতোমধ্যে মেরামত করা হয়েছে।
তারা জানান, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ভবনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ভবনের পাশে থাকা ডোবা ভরাট এবং পার্শ্ববর্তী জায়গা যথাযথভাবে সংস্কার করা হলে ভবনের চারপাশের মাটিও আরও স্থিতিশীল হবে।

ফলে শুধু রাস্তার পাশে মাটি সরে গিয়ে ফাটল ধরার ঘটনাকে ভিত্তি করে ৬ তলা ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করা সঠিক নয় বলে দাবি সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনটি বর্তমানে সম্পূর্ণ নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত রয়েছে।

শিক্ষা | ১৮ আগস্ট ২০২৬

অতিবৃষ্টিতে সড়কে ফাটল, তবে ঝুঁকিমুক্ত মানিকগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের তৃতীয় ক্যাম্পাসের ভবন

বিস্তারিত | dainikamarnews.com