শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এবার ডিবি হারুনকে সরানো নিয়ে ফ্যাসিস্ট কাদের-কামালের ফোনালাপ ফাঁস

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : বুধবার, ১২ আগস্ট ২০২৬। ৮:০৮:৪২ এএম

ডিবি কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের খাবার খাওয়ানোর ছবি তোলা ও তা গণমাধ্যমে প্রকাশের সিদ্ধান্ত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত একাধিক অডিও কলের তথ্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ফোনালাপে এই বিষয়ে নানা বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে।

আজ বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন এই কল রেকর্ডগুলো প্রমাণ হিসেবে জমা দেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে গত সাত দিন ধরে টানা তাগিদ দিচ্ছিলেন হারুনকে ডিবির দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ফাইল ও অনুমোদনের বার্তা আসার পরই তিনি বদলির ব্যবস্থা করছেন।

ওবায়দুল কাদের এই সিদ্ধান্তে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংকটকালীন মুহূর্তে রাজনৈতিক র্যালি বা আইনশৃঙ্খলা সামলানোর কাজে প্রভাব পড়বে এবং সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে পুরো পুলিশ বাহিনী “ডিমোরালাইজড” (মনোবলহীন) হয়ে পড়বে।

ওবায়দুল কাদেরের আশঙ্কার জবাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও স্বীকার করেন যে, পুলিশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হবে এবং বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাবে। তিনি বলেন, সেটাই তো আমি বলতে বলতে টায়ার্ড হয়ে গেছি, সব ডিমোরালাইজড হয়ে যাবে, কাউকে দিয়ে আর কাজ করানো যাবে না।

ওবায়দুল কাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাড়াহুড়ো না করে বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে এবং প্রধানমন্ত্রীকে পুলিশের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জানাতে পরামর্শ দেন। কামাল জানান, তিনি আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারেই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

জাতীয় | ১২ আগস্ট ২০২৬

এবার ডিবি হারুনকে সরানো নিয়ে ফ্যাসিস্ট কাদের-কামালের ফোনালাপ ফাঁস

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

এবার ডিবি হারুনকে সরানো নিয়ে ফ্যাসিস্ট কাদের-কামালের ফোনালাপ ফাঁস

Update Time : ০৮:০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

ডিবি কার্যালয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কদের খাবার খাওয়ানোর ছবি তোলা ও তা গণমাধ্যমে প্রকাশের সিদ্ধান্ত তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশেই নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তৎকালীন ডিবি প্রধান হারুন অর রশীদ। বুধবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত একাধিক অডিও কলের তথ্য এবং সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের ফোনালাপে এই বিষয়ে নানা বিস্ফোরক তথ্য সামনে এসেছে।

আজ বুধবার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে প্রসিকিউশন এই কল রেকর্ডগুলো প্রমাণ হিসেবে জমা দেয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানান, তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে গত সাত দিন ধরে টানা তাগিদ দিচ্ছিলেন হারুনকে ডিবির দায়িত্ব থেকে সরানোর জন্য। প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে ফাইল ও অনুমোদনের বার্তা আসার পরই তিনি বদলির ব্যবস্থা করছেন।

ওবায়দুল কাদের এই সিদ্ধান্তে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, সংকটকালীন মুহূর্তে রাজনৈতিক র্যালি বা আইনশৃঙ্খলা সামলানোর কাজে প্রভাব পড়বে এবং সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়িত হলে পুরো পুলিশ বাহিনী “ডিমোরালাইজড” (মনোবলহীন) হয়ে পড়বে।

ওবায়দুল কাদেরের আশঙ্কার জবাবে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালও স্বীকার করেন যে, পুলিশের মধ্যে প্রতিক্রিয়া হবে এবং বাহিনীর মনোবল ভেঙে যাবে। তিনি বলেন, সেটাই তো আমি বলতে বলতে টায়ার্ড হয়ে গেছি, সব ডিমোরালাইজড হয়ে যাবে, কাউকে দিয়ে আর কাজ করানো যাবে না।

ওবায়দুল কাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাড়াহুড়ো না করে বিষয়টি নিয়ে পুনর্বিবেচনা করতে এবং প্রধানমন্ত্রীকে পুলিশের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টি জানাতে পরামর্শ দেন। কামাল জানান, তিনি আইজিপিসহ ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে বৈঠক করে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুসারেই পদক্ষেপ নিয়েছেন।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান আসামি।

প্রসিকিউশনের তথ্য অনুযায়ী, মামলার সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। পরে গত ২ আগস্ট মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়। তদন্ত কর্মকর্তাসহ মোট ২৮ জন সাক্ষী এ মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন। বর্তমানে মামলাটির যুক্তিতর্ক উপস্থাপন চলছে।

জাতীয় | ১২ আগস্ট ২০২৬

এবার ডিবি হারুনকে সরানো নিয়ে ফ্যাসিস্ট কাদের-কামালের ফোনালাপ ফাঁস

বিস্তারিত | dainikamarnews.com