বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব ঘর ফাঁকা, বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

মোঃ পারভেজ ইসলাম, সাটু‌রিয়া প্রতি‌নি‌ধি:
  • প্রকাশিত : সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬। ১১:২০:০১ এএম

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭টি ঘর বছরের পর বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকলেও তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় খলিশাডহুরা এলাকায় ১৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেট নির্মাণে সরকারি ব্যয় ছিল এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। নির্মাণ শেষে ঘরগুলো বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের ১৭টি ঘরের সবগুলো ঘরই তালাবদ্ধ। দীর্ঘদিন বসবাস না করায় ঘরগুলোর চারপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। বারান্দায় জমেছে আবর্জনা, কোথাও রাখা হয়েছে ট্রাক্টর, মাটি, গোবর ও ধানেরখর। কয়েকটি ঘরের দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছিল। ফলে প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলো ঘর না পেয়ে বরাদ্দ পেয়েছেন প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরের বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি, হাজীপুর ও খলিলাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা। বরাদ্দপ্রাপ্ত কয়েকজন জানান, তাদের কর্মস্থল ও ব্যবসা বালিয়াটি এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন এত দূর থেকে যাতায়াত করে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই তারা ঘরগুলো ব্যবহার করছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানুষের বসবাস না থাকায় চারপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন ঘরের বারান্দায় ট্রাক্টর, মাটি, গোবর ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখেছে। এতে সরকারি সম্পদ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো জঙ্গলে ঢেকে গেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লা বলেন, প্রকল্পটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ১৭টি ঘরের সবকটিই তালাবদ্ধ এবং সেখানে কোনো উপকারভোগী বসবাস করছেন না। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, যারা ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

সারাদেশ | ৬ জুলাই ২০২৬

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব ঘর ফাঁকা, বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব ঘর ফাঁকা, বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

Update Time : ১১:২০:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার বরাইদ ইউনিয়নের খলিশাডহুরা এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ১৭টি ঘর বছরের পর বছর ধরে তালাবদ্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো আশ্রয়ের অপেক্ষায় থাকলেও তারা এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০-২০২১ অর্থবছরে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় খলিশাডহুরা এলাকায় ১৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে দুটি কক্ষ, একটি রান্নাঘর ও একটি টয়লেট নির্মাণে সরকারি ব্যয় ছিল এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। নির্মাণ শেষে ঘরগুলো বরাদ্দপ্রাপ্তদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সোমবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, প্রকল্পের ১৭টি ঘরের সবগুলো ঘরই তালাবদ্ধ। দীর্ঘদিন বসবাস না করায় ঘরগুলোর চারপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। বারান্দায় জমেছে আবর্জনা, কোথাও রাখা হয়েছে ট্রাক্টর, মাটি, গোবর ও ধানেরখর। কয়েকটি ঘরের দেয়ালেও দেখা দিয়েছে ফাটল। স্থানীয়দের অভিযোগ, যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়েছিল। ফলে প্রকল্প এলাকার আশপাশে বসবাসকারী প্রকৃত ভূমিহীন ও দরিদ্র পরিবারগুলো ঘর না পেয়ে বরাদ্দ পেয়েছেন প্রায় ১২ থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরের বালিয়াটি ইউনিয়নের বালিয়াটি, হাজীপুর ও খলিলাবাদ গ্রামের বাসিন্দারা। বরাদ্দপ্রাপ্ত কয়েকজন জানান, তাদের কর্মস্থল ও ব্যবসা বালিয়াটি এলাকায় হওয়ায় প্রতিদিন এত দূর থেকে যাতায়াত করে ওই আশ্রয়ণ প্রকল্পে বসবাস করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ কারণেই তারা ঘরগুলো ব্যবহার করছেন না। স্থানীয় বাসিন্দা শাহানাজ বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পে মানুষের বসবাস না থাকায় চারপাশ জঙ্গলে ছেয়ে গেছে। স্থানীয় লোকজন ঘরের বারান্দায় ট্রাক্টর, মাটি, গোবর ও বিভিন্ন জিনিসপত্র রেখেছে। এতে সরকারি সম্পদ দিন দিন নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. রমজান আলী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলো জঙ্গলে ঢেকে গেছে। প্রকৃত ভূমিহীনদের এসব ঘর বরাদ্দ দেওয়ার জন্য একাধিকবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করা হলেও এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে সাটুরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা খলিলুর রহমান মোল্লা বলেন, প্রকল্পটি পরিদর্শন করে দেখা গেছে, ১৭টি ঘরের সবকটিই তালাবদ্ধ এবং সেখানে কোনো উপকারভোগী বসবাস করছেন না। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলাম জানান, যারা ঘরে বসবাস করছেন না, তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হবে।

সারাদেশ | ৬ জুলাই ২০২৬

আশ্রয়ণ প্রকল্পের সব ঘর ফাঁকা, বঞ্চিত প্রকৃত ভূমিহীনরা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com