২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভেস্তে গেল
- প্রকাশিত : রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬। ৩:২৯:০৯ এএম
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রশমনের লক্ষ্যে আয়োজিত এই বৈঠককে ঘিরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আশাবাদ তৈরি হয়েছিল। তবে সব প্রত্যাশা ভেঙে দিয়ে আলোচনার শেষে স্পষ্ট হয়েছে—ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র এখনো নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরেনি।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স সংবাদ সম্মেলনে জানান, টানা ২১ ঘণ্টার আলোচনা সত্ত্বেও কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। তিনি এই ফলাফলকে ‘দুঃসংবাদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র গুরুত্বপূর্ণ শর্তগুলো পরিষ্কারভাবে উপস্থাপন করলেও ইরান তা গ্রহণ করতে রাজি হয়নি। ফলে সমঝোতা ছাড়াই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল মূলত ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দাবি ছিল—ইরানকে স্পষ্ট ও স্থায়ীভাবে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তবে তেহরান এই দাবিকে ‘অতিরিক্ত চাপ’ হিসেবে বিবেচনা করে এবং নিজেদের সার্বভৌম অধিকারের প্রশ্ন তুলে কঠোর অবস্থান নেয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র মনে করে ইরানের বর্তমান পারমাণবিক সক্ষমতা অনেকাংশে ধ্বংস করা হয়েছে। তবুও ভবিষ্যতে তারা যেন নতুন করে অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সে জন্য একটি দৃঢ় ও নির্ভরযোগ্য অঙ্গীকার জরুরি। কিন্তু সেই আস্থা এখনো অর্জিত হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন।
অন্যদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই আলোচনাকে ‘গভীর ও নিবিড়’ বলে উল্লেখ করলেও ব্যর্থতার দায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপিয়েছে। তাদের দাবি, ওয়াশিংটনকে ‘অবৈধ ও একতরফা শর্ত’ আরোপ থেকে সরে আসতে হবে। ইরানের মতে, সমতার ভিত্তিতে আলোচনা না হলে কোনো চুক্তিই সম্ভব নয়।
এই বৈঠকের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ভূমিকা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। ভ্যান্স পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সামরিক নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, তারা অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে এই আলোচনার আয়োজন করেছেন এবং একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন।
এদিকে আলোচনার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তাদের নৌবাহিনীর ডেস্ট্রয়ারগুলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল করেছে এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণের কার্যক্রম শুরু করেছে। তবে ইরান এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
অন্যদিকে ইসরায়েল লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এই প্রসঙ্গে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, তিনি লেবাননের সঙ্গে একটি দীর্ঘস্থায়ী শান্তি চুক্তি চান, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি এখনো অনেক দূরে। তথ্যসূত্র : বিবিসি
বিশ্ব | ১২ এপ্রিল ২০২৬
২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা ভেস্তে গেল





















