শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬, ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘চুক্তি স্বাক্ষর থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিলাম’: আরাগচি

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬। ৪:২১:৫৯ এএম

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তারা একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, আলোচনার ইস্যু পরিবর্তন এবং অবরোধের কারণে সেই সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়া ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে ইরান আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়েই অংশগ্রহণ করেছিল। তার ভাষায়, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া।

আরাগচি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম সরাসরি ও নিবিড় সংলাপে ইরান সদিচ্ছা নিয়েই অংশ নিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন ‘ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে, তখনই অপরপক্ষের চরম অবস্থান, আলোচনার লক্ষ্য পরিবর্তন এবং অবরোধের মুখোমুখি হতে হয়।”

তিনি এই সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে তাদের প্রাপ্তি কার্যত শূন্য। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক বার্তাও দেন—“সদিচ্ছা থেকেই সদিচ্ছার জন্ম হয়, শত্রুতা ডেকে আনে শত্রুতা,” যা বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের দ্বন্দ্ব চলছে। এই দুটি ইস্যুকে কেন্দ্র করেই চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন সংলাপ চালায় দুই দেশ। তবে সেই আলোচনাও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, যা পরবর্তী সংঘাতের পথ আরও প্রশস্ত করে।

সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালু করে তেহরানের বিরুদ্ধে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত চরমে পৌঁছে যায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সংঘাতের প্রথম দিনেই বড় ধরনের ধাক্কা খায় ইরান। দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারান এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আবারও আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে টানা বৈঠক চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়, যা শান্তির সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তথ্যসূত্র : এএফপি, দ্য ডন

বিশ্ব | ১৩ এপ্রিল ২০২৬

‘চুক্তি স্বাক্ষর থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিলাম’: আরাগচি

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

‘চুক্তি স্বাক্ষর থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিলাম’: আরাগচি

Update Time : ০৪:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিরসনে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত গুরুত্বপূর্ণ সংলাপ শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা ছাড়াই ভেস্তে গেছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, তারা একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান, আলোচনার ইস্যু পরিবর্তন এবং অবরোধের কারণে সেই সম্ভাবনা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় আরাগচি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনায় অংশ নেওয়া ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ, যেখানে ইরান আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়েই অংশগ্রহণ করেছিল। তার ভাষায়, তাদের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান ঘটানো এবং একটি স্থায়ী সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়া।

আরাগচি তার বার্তায় উল্লেখ করেন, “৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম সরাসরি ও নিবিড় সংলাপে ইরান সদিচ্ছা নিয়েই অংশ নিয়েছিল।” তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন ‘ইসলামাবাদ মেমোর‌্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ চুক্তি স্বাক্ষরের মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে, তখনই অপরপক্ষের চরম অবস্থান, আলোচনার লক্ষ্য পরিবর্তন এবং অবরোধের মুখোমুখি হতে হয়।”

তিনি এই সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে বলেন, এই আলোচনার মাধ্যমে তাদের প্রাপ্তি কার্যত শূন্য। একই সঙ্গে তিনি কূটনৈতিক বার্তাও দেন—“সদিচ্ছা থেকেই সদিচ্ছার জন্ম হয়, শত্রুতা ডেকে আনে শত্রুতা,” যা বর্তমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির একটি প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তেহরানের দ্বন্দ্ব চলছে। এই দুটি ইস্যুকে কেন্দ্র করেই চলতি বছরের ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন সংলাপ চালায় দুই দেশ। তবে সেই আলোচনাও কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়, যা পরবর্তী সংঘাতের পথ আরও প্রশস্ত করে।

সংলাপ ব্যর্থ হওয়ার পরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ চালু করে তেহরানের বিরুদ্ধে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দ্রুত চরমে পৌঁছে যায় এবং যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয়।

সংঘাতের প্রথম দিনেই বড় ধরনের ধাক্কা খায় ইরান। দেশটির দীর্ঘদিনের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন। একই হামলায় তার পরিবারের একাধিক সদস্যও প্রাণ হারান এবং তার ছেলে মোজতবা খামেনি গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাগুলো ইরানের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে আবারও আলোচনায় বসে দুই দেশের প্রতিনিধিরা। প্রায় ২১ ঘণ্টা ধরে টানা বৈঠক চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো সমঝোতা চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়, যা শান্তির সম্ভাবনাকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে। তথ্যসূত্র : এএফপি, দ্য ডন

বিশ্ব | ১৩ এপ্রিল ২০২৬

‘চুক্তি স্বাক্ষর থেকে মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে ছিলাম’: আরাগচি

বিস্তারিত | dainikamarnews.com