হরমুজে উত্তেজনার মধ্যেই ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ’ বললেন ট্রাম্প
- প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬। ৬:০০:০৯ এএম
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বাড়ার মধ্যেও ইরানের সঙ্গে চলমান ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ’ হবে বলে আবারও দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে যুদ্ধ কীভাবে শেষ হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা তুলে ধরেননি তিনি। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে দাবি করে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।
অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের বুলহেড সিটিতে এক সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি। ট্রাম্পের দাবি, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, রাডারব্যবস্থা ও আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ধ্বংস হয়ে গেছে। যুদ্ধ ‘খুব শিগগিরই’ শেষ হবে বলেও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ট্রাম্প বলেন, দেশটির প্রথম সারির নেতাদের হারানোর পর দ্বিতীয় সারির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। তারাও নিহত হয়েছেন। পরে তৃতীয় সারির নেতাদের দায়িত্ব দেওয়া হলেও তাদের অর্ধেক নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এসব দাবির পক্ষে তিনি বিস্তারিত প্রমাণ দেননি।
ট্রাম্প বলেন, ‘তারা প্রথম সারির নেতাদের হারিয়েছে। এরপর দ্বিতীয় সারির নেতাদের বেছে নিয়েছিল। তাদেরও হারিয়েছে। এরপর তৃতীয় সারির নেতাদের বেছে নিয়েছে। তাদের অর্ধেকও চলে গেছে। তারা আমাকে আর কাউকে হত্যা না করার প্রতিশ্রুতি দিতে বলেছিল। আমি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছি।
ইরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়েও অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চলমান হামলার কারণে কার সঙ্গে আলোচনা চলছে, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘সম্ভবত আমি একটু বেশি দূর এগিয়ে গেছি। এ জন্য দুঃখিত। কারণ, এখন আর বুঝতে পারছি না, আমরা আসলে কার সঙ্গে কথা বলছি।’
যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ার বিষয়টিও স্বীকার করেন ট্রাম্প। তবে তার দাবি, যুদ্ধ শেষ হলে পেট্রলের দাম দ্রুত কমে আসবে। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম, পেট্রলের দাম বাড়বে। কিন্তু এতটা বাড়বে, তা ধারণা করিনি।’
এর আগে গত ৮ অক্টোবর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা ইতিবাচকভাবে এগোচ্ছে এবং নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। রয়টার্সের ১৪ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরান জাহাজে হামলার কৌশল ও পরিধি বাড়াচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ ও নিষেধাজ্ঞার জবাবে তেহরান এ পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে অস্থিরতার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দাম নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
বিশ্ব | ১৫ অক্টোবর ২০২৬
হরমুজে উত্তেজনার মধ্যেই ‘শিগগিরই যুদ্ধ শেষ’ বললেন ট্রাম্প


















