রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইট ভেঙেছেন, কৃষিকাজ করেছেন, সেই আমিনুল এখন বিসিএস ক্যাডার

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬। ৮:৪০:৩৭ এএম

শৈশবেই মা-বাবার স্নেহ হারানোর কষ্ট। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার মৃত্যু। এরপর চাচা-চাচির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কখনো ইট ভাঙা, কখনো কৃষিকাজ, আবার কখনো টিউশনি। অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে যে বয়সে অন্য শিশুরা খেলাধুলা আর আনন্দে মেতে থাকত, সেই বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমিনুল হককে।

খাতা-কলম থেকে পরীক্ষার ফি—পড়াশোনার খরচ চালাতে এলাকার অনেক মানুষও পাশে ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমিনুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পেয়েছেন ‘সাঁকো-প্রথম আলো ট্রাস্টের’ অদম্য মেধাবী বৃত্তি। নিজের পরিশ্রম আর মানুষের অনুপ্রেরণায় ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন তিনি। তবে এখনো গেজেট হয়নি। পরে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসেও শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পান। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। ১২ অক্টোবর তার যোগদান করার কথা আছে।

আমিনুল হকের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামে। বাবা ওয়াজউদ্দিন মিয়া কৃষিকাজ করতেন। মা আমিনা খাতুনের সঙ্গে বাবার ছাড়াছাড়ির পর চাচা আবদুল খালেক ও চাচি মিনারা খাতুন তাকে নিজেদের সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা মারা যান।

মা-বাবার বিচ্ছেদের পর থেকে চাচা আবদুল খালেক ও চাচি মিনারা খাতুনের কাছে বড় হয়েছেন আমিনুল। তাদের নিজের সন্তানের মতোই তাকে আগলে রেখেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি দাদি ও ফুফুরাও ছিলেন তার বেড়ে ওঠার সঙ্গী।

আমিনুল হক বলেন, খুব ছোটোবেলায় মা চলে গেছেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মারা যান। আমার কোনো ভাইবোন ছিল না। চাচা-চাচি, দাদি ও ফুফুরাই আমাকে আগলে রেখেছেন।

শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা তাকে অল্প বয়সেই বাস্তবতা বুঝতে শিখিয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই, এমন উপলব্ধি থেকেই লেখাপড়ার প্রতি আরও মনোযোগী হন তিনি। তবে সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না।

বন্ধুরা যখন মাঠে খেলত, বেড়াতে যেত কিংবা অবসর কাটাত, তখন আমিনুলকে ভাবতে হতো কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন। জীবনের স্বাভাবিক আনন্দগুলো থেকে নিজেকে দূরে রেখে দায়িত্ব নিতে হয়েছে অনেক আগেই।

আমিনুল বলেন, বন্ধুরা যখন মাঠে খেলত, বেড়াতে যেত, তখন আমাকে কাজ করতে হতো। শিশু হিসেবে তা কষ্টের ছিল। তখন মনে হয়েছে, আমার সামনে কোনো পথ নেই। পড়াশোনাটাই আমার একমাত্র সম্বল।

অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের শ্রমে যতটা সম্ভব খরচ চালিয়েছেন। পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার মানুষ। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ খাতা-কলম কিনে দিয়েছেন, আবার কেউ পরীক্ষার ফি কিংবা পোশাকের ব্যবস্থা করেছেন।

আমিনুলের জীবনে এই সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আর্থিক সংকটের কারণে মেধাবী অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথে থেমে যায়। কিন্তু তার ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষের বিশ্বাস ও সহায়তা এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।

আমিনুলের বেড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার চাচা আবদুল খালেক ও চাচি মিনারা খাতুনের। মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত এই শিশুকে তারা নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। অভাবের সংসারেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

চাচা আবদুল খালেক বলেন, সাত মাসের বাচ্চা থুইয়া ওর মা চলে গেছিল। অনেক কষ্ট কইরা ওরে বড় করছি। কোনো দিন ভাতিজা মনে করি নাই। আল্লাহ ওরে বড় করছেন।

চাচি মিনারা খাতুন বলেন, ‘নিজের বুকের দুধ খাওয়াইয়া ওরে বড় করছি। ওর বাবা আমার হাত ধইরা কইছিল, তোমার তিনটা ছেলে আর এইটা আরও একটা। চারজনরে এক চোখে দেখবা। আমি কোনো দিন ওরে আলাদা করি নাই।’

কান্দানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং আছিম শাহাবুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন আমিনুল। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থাকতেন স্যার এ এফ রহমান হলে।

গ্রামের সীমিত সুযোগ-সুবিধার পরিবেশ থেকে দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো ছিল তার জীবনের বড় একটি অর্জন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। নিজের খরচ চালাতে টিউশনি করেছেন। সেই সঙ্গে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া সহযোগিতাকে তিনি এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। পরিবারের ত্যাগ, গ্রামের মানুষের সহায়তা এবং বৃত্তির অর্থ তার উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করেছে। তবে সেই সুযোগ ধরে রাখতে তাকে নিজের শ্রম ও অধ্যবসায় অব্যাহত রাখতে হয়েছে।

আমিনুলের বড় আক্ষেপ—যারা তার জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন, তাদের কেউই তার সাফল্য দেখে যেতে পারেননি। তার দাদি মোছা. ওমর জান মারা গেছেন ২০২১ সালে। চাকরি পাওয়ার পর বাবা ও দাদির কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।

আমিনুল হক বলেন, ‘দাদি সব সময় বলতেন, “তুমি একদিন বড় অফিসার হবা।” চাকরি কবে হবে, জানতে চাইতেন। আমি তাঁকে বলতাম, পড়াশোনা শেষ হয়নি। দাদি আর দেখে যেতে পারলেন না, আমি ক্যাডার হয়েছি। বাবাও দেখে যেতে পারেননি। এটা সারা জীবনের আফসোস।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাবিকুন্নাহার সিনথিয়ার সঙ্গে আমিনুলের পরিচয় হয়। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা বিয়ে করেন। কঠিন সময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে মানসিক সমর্থন পেয়েছেন জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘সফলতার জন্য সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য দরকার। এর সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করতে হবে। আমি মনে করি, সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য যার মধ্যে আছে, তিনি চাকরি কিংবা ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই সফল হতে পারবেন।’

কান্দানিয়া গ্রামের এই তরুণের সাফল্যে যেমন রয়েছে তার নিজের কঠোর পরিশ্রম, তেমনি রয়েছে চাচা-চাচির নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গ্রামবাসীর অবদান এবং শিক্ষাজীবনে পাওয়া সহায়তা। ইট ভাঙা থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রা তাই একার লড়াইয়ের গল্প নয়, এটি একটি গ্রামের বিশ্বাস আর একজন তরুণের অদম্য স্বপ্ন পূরণের গল্প।

সারাদেশ | ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইট ভেঙেছেন, কৃষিকাজ করেছেন, সেই আমিনুল এখন বিসিএস ক্যাডার

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

ইট ভেঙেছেন, কৃষিকাজ করেছেন, সেই আমিনুল এখন বিসিএস ক্যাডার

Update Time : ০৮:৪০:৩৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

শৈশবেই মা-বাবার স্নেহ হারানোর কষ্ট। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবার মৃত্যু। এরপর চাচা-চাচির আশ্রয়ে বেড়ে ওঠা। নিজের পড়াশোনার খরচ জোগাতে কখনো ইট ভাঙা, কখনো কৃষিকাজ, আবার কখনো টিউশনি। অভাবের সঙ্গে লড়াই করতে গিয়ে যে বয়সে অন্য শিশুরা খেলাধুলা আর আনন্দে মেতে থাকত, সেই বয়সেই জীবনের কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হয়েছে আমিনুল হককে।

খাতা-কলম থেকে পরীক্ষার ফি—পড়াশোনার খরচ চালাতে এলাকার অনেক মানুষও পাশে ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে আমিনুল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় পেয়েছেন ‘সাঁকো-প্রথম আলো ট্রাস্টের’ অদম্য মেধাবী বৃত্তি। নিজের পরিশ্রম আর মানুষের অনুপ্রেরণায় ৪৬তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন তিনি। তবে এখনো গেজেট হয়নি। পরে ৪৯তম বিশেষ বিসিএসেও শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশ পান। গত ৩০ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত গেজেটে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হয়। ১২ অক্টোবর তার যোগদান করার কথা আছে।

আমিনুল হকের বাড়ি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলার ভবানীপুর ইউনিয়নের কান্দানিয়া গ্রামে। বাবা ওয়াজউদ্দিন মিয়া কৃষিকাজ করতেন। মা আমিনা খাতুনের সঙ্গে বাবার ছাড়াছাড়ির পর চাচা আবদুল খালেক ও চাচি মিনারা খাতুন তাকে নিজেদের সন্তানের মতো করে বড় করেছেন। ২০১২ সালে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা মারা যান।

মা-বাবার বিচ্ছেদের পর থেকে চাচা আবদুল খালেক ও চাচি মিনারা খাতুনের কাছে বড় হয়েছেন আমিনুল। তাদের নিজের সন্তানের মতোই তাকে আগলে রেখেছেন। পরিবারের অন্য সদস্যদের পাশাপাশি দাদি ও ফুফুরাও ছিলেন তার বেড়ে ওঠার সঙ্গী।

আমিনুল হক বলেন, খুব ছোটোবেলায় মা চলে গেছেন। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বাবা মারা যান। আমার কোনো ভাইবোন ছিল না। চাচা-চাচি, দাদি ও ফুফুরাই আমাকে আগলে রেখেছেন।

শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা তাকে অল্প বয়সেই বাস্তবতা বুঝতে শিখিয়েছে। নিজের ভবিষ্যৎ গড়তে হলে পড়াশোনার বিকল্প নেই, এমন উপলব্ধি থেকেই লেখাপড়ার প্রতি আরও মনোযোগী হন তিনি। তবে সেই পথ মোটেও সহজ ছিল না।

বন্ধুরা যখন মাঠে খেলত, বেড়াতে যেত কিংবা অবসর কাটাত, তখন আমিনুলকে ভাবতে হতো কীভাবে পড়াশোনা চালিয়ে যাবেন। জীবনের স্বাভাবিক আনন্দগুলো থেকে নিজেকে দূরে রেখে দায়িত্ব নিতে হয়েছে অনেক আগেই।

আমিনুল বলেন, বন্ধুরা যখন মাঠে খেলত, বেড়াতে যেত, তখন আমাকে কাজ করতে হতো। শিশু হিসেবে তা কষ্টের ছিল। তখন মনে হয়েছে, আমার সামনে কোনো পথ নেই। পড়াশোনাটাই আমার একমাত্র সম্বল।

অভাবের কারণে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হলেও তিনি হাল ছাড়েননি। নিজের শ্রমে যতটা সম্ভব খরচ চালিয়েছেন। পাশাপাশি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এলাকার মানুষ। কেউ টাকা দিয়েছেন, কেউ খাতা-কলম কিনে দিয়েছেন, আবার কেউ পরীক্ষার ফি কিংবা পোশাকের ব্যবস্থা করেছেন।

আমিনুলের জীবনে এই সহযোগিতা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, আর্থিক সংকটের কারণে মেধাবী অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনা মাঝপথে থেমে যায়। কিন্তু তার ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষের বিশ্বাস ও সহায়তা এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে।

আমিনুলের বেড়ে ওঠার পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তার চাচা আবদুল খালেক ও চাচি মিনারা খাতুনের। মা-বাবার স্নেহবঞ্চিত এই শিশুকে তারা নিজেদের সন্তানের মতো লালন-পালন করেছেন। অভাবের সংসারেও তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন।

চাচা আবদুল খালেক বলেন, সাত মাসের বাচ্চা থুইয়া ওর মা চলে গেছিল। অনেক কষ্ট কইরা ওরে বড় করছি। কোনো দিন ভাতিজা মনে করি নাই। আল্লাহ ওরে বড় করছেন।

চাচি মিনারা খাতুন বলেন, ‘নিজের বুকের দুধ খাওয়াইয়া ওরে বড় করছি। ওর বাবা আমার হাত ধইরা কইছিল, তোমার তিনটা ছেলে আর এইটা আরও একটা। চারজনরে এক চোখে দেখবা। আমি কোনো দিন ওরে আলাদা করি নাই।’

কান্দানিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০১৫ সালে এসএসসি এবং আছিম শাহাবুদ্দিন ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০১৭ সালে এইচএসসি পাস করেন আমিনুল। এরপর ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ বিভাগে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় থাকতেন স্যার এ এফ রহমান হলে।

গ্রামের সীমিত সুযোগ-সুবিধার পরিবেশ থেকে দেশের অন্যতম উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো ছিল তার জীবনের বড় একটি অর্জন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরও আর্থিক সংকট পুরোপুরি কাটেনি। নিজের খরচ চালাতে টিউশনি করেছেন। সেই সঙ্গে চালিয়ে গেছেন পড়াশোনা।

জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে পাওয়া সহযোগিতাকে তিনি এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়েছেন। পরিবারের ত্যাগ, গ্রামের মানুষের সহায়তা এবং বৃত্তির অর্থ তার উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করেছে। তবে সেই সুযোগ ধরে রাখতে তাকে নিজের শ্রম ও অধ্যবসায় অব্যাহত রাখতে হয়েছে।

আমিনুলের বড় আক্ষেপ—যারা তার জন্য সবচেয়ে বেশি কষ্ট করেছেন, তাদের কেউই তার সাফল্য দেখে যেতে পারেননি। তার দাদি মোছা. ওমর জান মারা গেছেন ২০২১ সালে। চাকরি পাওয়ার পর বাবা ও দাদির কবর জিয়ারত করেছেন তিনি।

আমিনুল হক বলেন, ‘দাদি সব সময় বলতেন, “তুমি একদিন বড় অফিসার হবা।” চাকরি কবে হবে, জানতে চাইতেন। আমি তাঁকে বলতাম, পড়াশোনা শেষ হয়নি। দাদি আর দেখে যেতে পারলেন না, আমি ক্যাডার হয়েছি। বাবাও দেখে যেতে পারেননি। এটা সারা জীবনের আফসোস।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাবিকুন্নাহার সিনথিয়ার সঙ্গে আমিনুলের পরিচয় হয়। ২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তারা বিয়ে করেন। কঠিন সময়ে স্ত্রীর কাছ থেকে মানসিক সমর্থন পেয়েছেন জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, ‘সফলতার জন্য সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য দরকার। এর সঙ্গে সৃষ্টিকর্তার কাছে দোয়া করতে হবে। আমি মনে করি, সততা, পরিশ্রম ও ধৈর্য যার মধ্যে আছে, তিনি চাকরি কিংবা ব্যবসা—সব ক্ষেত্রেই সফল হতে পারবেন।’

কান্দানিয়া গ্রামের এই তরুণের সাফল্যে যেমন রয়েছে তার নিজের কঠোর পরিশ্রম, তেমনি রয়েছে চাচা-চাচির নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, গ্রামবাসীর অবদান এবং শিক্ষাজীবনে পাওয়া সহায়তা। ইট ভাঙা থেকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার এই দীর্ঘ যাত্রা তাই একার লড়াইয়ের গল্প নয়, এটি একটি গ্রামের বিশ্বাস আর একজন তরুণের অদম্য স্বপ্ন পূরণের গল্প।

সারাদেশ | ১১ অক্টোবর ২০২৬

ইট ভেঙেছেন, কৃষিকাজ করেছেন, সেই আমিনুল এখন বিসিএস ক্যাডার

বিস্তারিত | dainikamarnews.com