আওয়ামী লীগ গেল, বিএনপি এলো: হাত বদলে আবারও সরকারি জমি দখলে মেতেছেন চকহরিচরণের সুমন!
- প্রকাশিত : বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬। ৪:০৪:১২ এএম
সরকার বদল হলেও বদলায়নি চকহরিচরণ গ্রামের বহুল বিতর্কিত সেই শাকির হোসেন সুমনের স্বভাব। রাজনৈতিক ছত্রছায়া বদলে আবারও সরকারি জমি দখলের এক মহোৎসবে মেতে উঠেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দাপট দেখিয়ে জমি দখল করার পর প্রশাসন তা উচ্ছেদ করলেও, ক্ষমতার পটপরিবর্তনের পর বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ফলে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে— কে এই সুমন? আর কার ইশারাতেই বা তিনি একের পর এক এই অপকর্ম করার সাহস পাচ্ছেন?
আওয়ামী আমলে ছাত্রলীগের ডানা, এখন কার ডানা?
অনুসন্ধানে জানা গেছে, চকহরিচরণ গ্রামের আব্দুর রহমান রহমের ছেলে বিগত আওয়ামী সরকারের আমলে অনীয়মের দায়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে চাকরিচ্যুত হওয়ার পর বাড়িতে এসে সুমন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে স্থানীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমানের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে সে সময় তিনি দেদারসে সরকারি জমি দখল করে বহুতল বিল্ডিং, আবাসিক বাসা-বাড়ী ও দোকানপাট নির্মাণসহ নিরীহ মানুষের নামে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে মামলা করে হয়রানি করেন এবং অন্যদের জমি দখল করেন। অভিযোগ রয়েছে তিনি চকহরিচরন লায়ন্স ক্লাব ভেঙে জায়গা দখল করে তার নিজের স্থাপনা গড়ে তুলেন।
এছাড়া তিনি তার নিজের নামে আওয়ামী লীগের অফিস বানিয়ে আওয়ামী সরকারের গুণগান ও বিভিন্ন কর্মকাণ্ড প্রচার করে বেড়িয়েছে। পরবর্তীতে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপে সুমনের সেই অবৈধ স্থাপনাগুলো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সরকারি জমি উদ্ধার করে সরকার পক্ষ। পটপরিবর্তনেও থামেনি তার দাপট, প্রশাসনকে মামলার ভয় দেখিয়ে দাপটের সাথে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গত ৫ই আগস্ট আওয়ামী সরকারের বিদায়ের পর সাধারণ মানুষ ভেবেছিল এবার হয়তো সুমনের এই অবৈধ কর্মকাণ্ডের অবসান ঘটবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ উল্টো। ক্ষমতার পটপরিবর্তন হওয়া মাত্রই সুমন রাতারাতি তার রঙ বদলে ফেলেন। বর্তমানে বিএনপি সরকারের আমল শুরু হতেই তিনি আবারও সেই উদ্ধার হওয়া সরকারি জমি দখলে মেতে উঠেছেন।
নেপথ্যে কে সেই গডফাদার?
একই জমিতে বারবার উচ্ছেদের পরও সুমন কীভাবে পুনরায় দখল নেওয়ার সাহস পান, তা নিয়ে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন: সাবেক ছাত্রলীগ নেতার আশ্রয় থেকে বেরিয়ে এখন সুমন কার চাদরের নিচে লুকিয়ে আছেন? বর্তমান বিএনপি সরকারের আমলেই বা কোন প্রভাবশালী নেতার ইন্ধনে তিনি এই দুঃসাহস দেখাচ্ছেন?
এবিষয়ে চকহরিচরন লায়ন্স ক্লাবের সভাপতি আব্দুল মতিন মাস্টার বলেন, ১৯৯১ সালে চকহরিচরন লায়ন্স ক্লাব গঠিত হয়।ওই সময়ের জেলা বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ ,এমপি ক্লাব উদ্ধোধন করেন এবং আর্থিক অনুদান প্রদান করেন। পরবর্তীতে ঘরটি ঝড়ে ভেঙ্গে গেলে ওখানেই পড়ে থাকে। কয়েক বছর পর আওয়ামী সরকারের আমলে কে বা কাহারা রাতের আঁধারে সড়িয়ে ফেলে কিছুদিন পর সুমন জমি দখল করে নিজে বিল্ডিং বানিয়ে নিজের দখলে রাখে। অথচ তার পিতা আব্দুর রহমান রহম ক্লাবের নামে রেজিষ্ট্রি করে দেন।এই জায়গা টি পূর্ণ উদ্ধার করে আবার নতুন করে ক্লাবটি উঠাতে পারি সে বিষয়ে মানিকগঞ্জ -১ আসনের এমপি এস এ জিন্নাহ কবির ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী সিকান্দার আলী বলেন, শাকির হোসেন সুমন একজন ভুমি খেকু সে আওয়ামী সরকারের আমলে ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আতোয়ার রহমানের ছত্রছায়ায় সরকারি জমি দখল মহাউৎসব করে।পরে সরকার পক্ষ তার সকল স্থাপনা ভেঙ্গে দিয়ে জমি গুলো উদ্ধার করে। পরবর্তীতে আওয়ামী সরকারের পতনের পর আবার ক্ষমতাশালী এক যুবদলের নেতা ও বিএনপি নেতাকে ব্যাক্তিগত অফিস বানিয়ে দিয়ে তাদের ইন্দনে আবার জমি দখলের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এই সুমন খুব খারাপ লোক আমার নামে ৪/৫ টি মিথ্যা মামলা দিয়ে আমাকে অনেক হয়রানি করছে। আমি সরকারের কাছে দাবি জানাই এই সুমনের বিভিন্ন অপকর্মের সঠিক তদন্ত স্বাপেক্ষে কঠিন বিচার দাবী জানাই।
এলাকাবাসী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অবিলম্বে এই ভূমিদস্যু সুমনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নেপথ্যে থাকা গডফাদারকে চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন।
অপরাধ | ১৭ জুন ২০২৬
আওয়ামী লীগ গেল, বিএনপি এলো: হাত বদলে আবারও সরকারি জমি দখলে মেতেছেন চকহরিচরণের সুমন!



















