ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশ দলের
- প্রকাশিত : শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬। ৩:২০:৪৬ এএম
আগের ম্যাচের হারের ক্ষতে মলম লাগানোর সময়টুকুও ভালো ভাবে পায়নি অস্ট্রেলিয়া। সেই হতাশা নিয়ে সিরিজে ফেরার লড়াইয়ে নেমেই আরেক ধাক্কা। ধাক্কা না বলে মূলত বলা ভালো বিভীষিকা নয়তো দুঃস্বপ্ন। অজিরা বুঝতে পারছিল না কিছুই। ওয়ানডে ইতিহাসে ১ হাজার ২৪ ম্যাচ খেলেও এমন অভিজ্ঞতা যে তাদের হয়নি আগে কখনোই! শূন্য রানে তিন উইকেট হারিয়ে তারা ছিল যেন হতভম্ব। এরপর অবশ্য লড়াই কিছুটা করল তারা। কিন্তু জয়ের নেশায় ছুটতে থাকা প্রতিপক্ষকে থামানোর উপায় জানা ছিল না বিশ্ব চ্যাম্পিয়নদের।
গতকাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে বল হাতে অসাধারণ সেই শুরুর পথ ধরে আরও একটি দারুণ জয়ে বাংলাদেশ পেল ঐতিহাসিক সাফল্য। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে ৫ উইকেটে হারাল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের প্রথম দুটিতেই সিরিজ জয় নিশ্চিত করল বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে যে দলের বিপক্ষে জয় ছিল না ২১ বছর ধরে, সেই দলের বিপক্ষে এবার প্রথমবার সিরিজ জয়ের স্বাদও ধরা দিল। হোম অব ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়া ৪২ ওভারে ৮ উইকটে ১৮৭ রান করার পর বৃষ্টিতে বন্ধ হয় খেলা। পরে ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে বাংলাদেশের লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ১৯২। সেই রান তাড়ায় মেহেদী হাসান মিরাজের দল জিতে যায় তারা ৩৬ বল বাকি রেখেই। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমেই শুরু হয় অস্ট্রেলিয়ার বিভীষিকা। আগের ম্যাচে তাসকিনের প্রথম বলে বোল্ড হওয়া ম্যাথু শর্ট এবার টিকতে পারেন তিন বল। পরের ডেলিভারি তিনি না খেলে ছেড়ে দেন, অনেকটা ভেতরে ঢুকে বল ছোবল দেয় স্টাম্পে। সেই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগেই আরেকটি ধাক্কা। পরের ওভারে মুস্তাফিজের প্রথম বলেই কিপারের হাতে ধরা পড়েন কুপার কনোলি। অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনারের শূন্য রানে বিদায়ের মাত্র তৃতীয় ঘটনা এটি। একটু পরে সেটিই হয়ে ওঠে প্রথম এক নজির। ওভারের শেষ বলে কিপারের কাছেই ক্যাচ দেন ম্যাট রেনশ। স্কোরকার্ডের চিত্র তখন অভাবনীয়, ২ ওভার শেষে ০/৩!
প্রথম রানটি অস্ট্রেলিয়া পায় নো বল থেকে। হতভম্ব অস্ট্রেলিয়া একটু ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল পরের সময়টায়। কিন্তু অষ্টম ওভারে অ্যালেক্স কেয়ারিকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে উল্লাসের উপলক্ষ এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ২৫ রানে ৪ উইকেট হারানো দলের হয়ে পাল্টা আক্রমণের চেষ্টা করেন জশ ইংলিস। নাহিদ রানার টানা দুই বলে চার ও ছক্কা মারেন অস্ট্রেলিয়ান অধিনায়ক। পাওয়ার প্লে শেষে বাঁহাতি স্পিনার তানভির ইসলামকে ছক্কায় স্বাগত জানান ক্যামেরন গ্রিন। ইংলিসকে (৩৪) ফিরিয়ে ৪৩ রানের এই জুটি ভাঙেন তানভিরই। এই বাঁহাতি স্পিনারকে বিশাল একটি ছক্কা মারার পর তাকেই ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন গ্রিন (২৫)। অস্ট্রেলিয়ার রান তখন ৬ উইকেটে ৮১।
সাতে নামা লাবুশেন ছাড়া বাকি সবাই তখন বোলার। দেড়শ রানের নিচে অস্ট্রেলিয়াকে থামানো ছিল খুবই সম্ভব। কিন্তু বার্টলেট ক্রিজে গিয়েই দারুণ কিছু শট খেলেন। চার ও ছক্কা মারেন তিনি তাসকিনকে। লাবুশেনও সঙ্গীর ওপর ভরসা পেয়ে আগলে রাখেন আরেক প্রান্ত। গড়ে ওঠে দারুণ এক জুটি। ৪৪ বলে ফিফটি করে ফেলেন বার্টলেট, জুটির শতরান আসে ১১১ বলে। সপ্তম উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার সপ্তম শতরানের জুটি এটি, বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম। ফিফটির পর তাসকিনকে সজোরে হাঁকানোর চেষ্টায় বোল্ড হয়ে যান বার্টলেট (৪৮ বলে ৫২)। পরের বলেই দারুণ ডেলিভারিতে অ্যাডাম জ্যাম্পার বেলসও উড়িয়ে দেন অভিজ্ঞ পেসার। একটু পরই বৃষ্টিতে থেমে যায় খেলা। ৮৫ বলে ৫৫ রানে অপরাজিত থাকেন লাবুশেন।
শুরুর অস্বস্তি অবশ্য দ্রুতই বাউন্ডারির পর বাউন্ডারি আসতে থাকে। শুরুটা হয় সাইফের বদলে একাদশে ফেরা সৌম্য সরকারের ব্যাটে, শান্তও যোগ দেন পরে। ৬ ওভারের মধ্যে ৮টি চার ও একটি ছক্কা আসে দুজনের ব্যাট থেকে। সেই ধারা ধরে রেখেই আত্মবিশ্বাসী ব্যাটিংয়ে এগিয়ে যান দুজন। ১৫ ওভারে রান চলে আসে ৮৫। দুই ব্যাটসম্যানই ছিলেন ফিফটির কাছে। কিন্তু হয়নি কারও। দুজনই ফেরেন ৪২ রানে। অনিয়মিত স্পিনার রেনশকে রিভার্স সুইপ খেলে উইকেট হারান সৌম্য। রাইলি মেরেডিথকে কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন শান্ত। লিটন দাসের (২১) ব্যাটে ছিল ভালো কিছুর ইঙ্গিত। কিন্তু গ্রিনের বাড়তি লাফানো বল তার গ্লাভসে ছোবল দিয়ে চলে যায় কিপারের গ্লাভসে। আগের ম্যাচের নায়ক মোসাদ্দেক হোসেন উইকেট ছুড়ে দেন তিন চারে ১৫ রান করে। তখনও প্রয়োজন ৪৮ রান। উইকেটে শেষ স্বীকৃত জুটি। দ্রুত একটি উইকেট হারালে প্রবল বিপাকেই পড়তে হতো। কিন্তু তা হতে দেননি তাওহিদ হৃদয় ও মেহেদী হাসান মিরাজ।
খেলা | ১২ জুন ২০২৬
ঐতিহাসিক সিরিজ জয় বাংলাদেশ দলের






















