সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্থানীয় নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না-তৃণমূল নেতাদের তারেক রহমানের বার্তা

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬। ৪:৫৯:৫০ এএম

আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আমলের মতো দলের বা সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ও প্রভাব থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর তাই তিনি নির্বাচনে যোগ্যপ্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি এখনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনগণের কাছে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা আছে, জনগণের ভোটে জয়ী হবেন এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাড়ে ৪০০ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তবে ওই সভায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার ছিলো না। সভা শেষে দলের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মূলত আসন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সেই সাথে তিনি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে দলের মাঠ নেতাকর্মী তথা জনগণের কাছে নতুন বার্তা দিয়েছেন।

তার বক্তব্যে মূলবার্তা ছিলো বিগত সরকারের মতো দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানেই বিজয়ী সেই সুযোগ এবার থাকবে না। জনগণের সমর্থন নিয়ে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য এবং যেকোন প্রকার প্রভাবমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। দলের নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী সাংগঠনিক সভায় নেতা-কর্মীদের আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গ্রহণযোগ্যতা আছে, জিতে আসতে পারেন এমন প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনে সরকার অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলেও জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেতা-কর্মীদের আরো সজাগ থাকতে হবে। সবাই যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে ৫০ ভাগ অপরাধ কমে যাবে। নিজেদেরও কোনো অপরাধে জড়ানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।

তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের বলেন, আপনি যদি চান আপনার এলাকায় মাদকের সমস্যা কমে আসতে পারে। আপনি যদি চান আপনার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আপনি যদি চান বিভিন্ন রকমের যে চুরি-বাটপারি আছে সেগুলো কমে আসতে পারে। এই চাওয়াটা আপনাদেরই হতে হবে, শুধু প্রশাসনিকভাবে হলে হবে না। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তি জনগণ। রাজনৈতিক শক্তি যদি সঠিক চায় তাহলে কিন্তু অনেক খারাপ কাজ কমে যাবে। আপনারা যদি চান, ইনশাআল্লাহ তাহলে আমরা পারব। যে প্রত্যাশাটা মানুষের মধ্যে আছে, যে প্রত্যাশাটা মানুষ চেয়েছে বা তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে কিন্তু আমরা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবায়িত করতে পারি। সভায় উপস্থিত কয়েকজন নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামের বর্তমান সরকারের নামে ছড়ানো নানা গুজব ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতার্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের ভালো কাজগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান নেতাকর্মীদের রাজপথের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, সভায় উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষ গত ১৭ বছর বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মিথ্যা মামলা এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারপরও তারা রাজপথে ছিলেন। বিএনপি রাজপথে ১৭ বছর ধরে অত্যাচারিত ছিল বলেই কিন্তু সমস্ত পৃথিবীর মানুষ জানতে পেরেছে। ১৭ বছর বাংলাদেশে একটি স্বৈরাচারী শাসন আমল চলেছে। বিএনপির লক্ষ কোটি কর্মীর কারণে বিশ্ববাসী উপলব্ধি করতে পেরেছিল বাংলাদেশে স্বৈরাচার ছিল।

সাংগঠনিক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। সন্ধ্যার আগেই দলের তৃণমূল নেতারা দলের চেয়ারম্যানের সাথে মতবিনিময় করতে সভাস্থলে অবস্থান করেন। প্রধানমন্ত্রী নগরীর জে এম সেন হলের অনুষ্ঠান শেষে সভায় আসেন রাত দশটা নাগাদ। সময় স্বল্পতার কারণে দলের নেতারা বক্তব্য দিতে পারেন নি বলে জানা গেছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশিদ হারুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন, মোস্তফা কামাল পাশা এমপি, নুরুল আমিন এমপি, সরোয়ার আলমগীর এমপি, সরোয়ার জামাল নিজাম এমপি, আবু সুফিয়ান এমপি, সাঈদ আল নোমান এমপি, এনামুল হক এনাম এমপি, জসিম উদ্দিন এমপি, মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর প্রমুখ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজাম-প পরিদর্শন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাতে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে আসেন। সামরিক বিমানযোগে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে জে এম সেন হল পূজাম-প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জে এম সেন হল ও র‌্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউ হোটেলের সামনে উৎসুক লোকজন ও নেতাকর্মীরা ভিড় জমান। তারা মিছিলে সেøাগানে পুরো এলাকা মাতিয়ে রাখেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের উৎসাহ দেন। জে এম সেন হল থেকে বের হয়ে তারেক রহমান প্রকোটল ভেঙে মিছিলরত নেতাকর্মীদের ভিড়ে মিশে যান। জে এম সেন হল থেকে মোমিন রোড হয়ে চেরাগি পাহাড় পর্যন্ত তিনি সবার সাথে হেঁটে পরে গাড়িতে উঠেন। র‌্যাডিসন থেকে বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময়ও নেতাকর্মীরা তাকে বিদায় জানান।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান গত ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও মহানগরীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে হোটেল র‌্যাডিসনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন।

জাতীয় | ২২ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না-তৃণমূল নেতাদের তারেক রহমানের বার্তা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com
বিষয় :

স্থানীয় নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না-তৃণমূল নেতাদের তারেক রহমানের বার্তা

Update Time : ০৪:৫৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

আগামীতে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ফ্যাসিস্ট আমলের মতো দলের বা সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ ও প্রভাব থাকবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আর তাই তিনি নির্বাচনে যোগ্যপ্রার্থী বাছাইয়ের পাশাপাশি এখনি সম্ভাব্য প্রার্থীদের জনগণের কাছে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে যে প্রার্থীর গ্রহণযোগ্যতা আছে, জনগণের ভোটে জয়ী হবেন এমন প্রার্থীকে বেছে নিতে হবে। মঙ্গলবার রাতে নগরীর তারকা হোটেল র‌্যাডিসন ব্লুতে অনুষ্ঠিত এক সাংগঠনিক সভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

সভায় চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সাড়ে ৪০০ নেতাকর্মী অংশগ্রহণ করেন। তবে ওই সভায় গণমাধ্যম কর্মীদের প্রবেশাধিকার ছিলো না। সভা শেষে দলের বেশ কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানা যায়, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান মূলত আসন্ন সিটি করপোরেশন, উপজেলাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে দলের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। সেই সাথে তিনি স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে দলের মাঠ নেতাকর্মী তথা জনগণের কাছে নতুন বার্তা দিয়েছেন।

তার বক্তব্যে মূলবার্তা ছিলো বিগত সরকারের মতো দলীয় মনোনয়ন পাওয়া মানেই বিজয়ী সেই সুযোগ এবার থাকবে না। জনগণের সমর্থন নিয়ে সুষ্ঠু গ্রহণযোগ্য এবং যেকোন প্রকার প্রভাবমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত নির্বাচন বিজয়ী হয়ে আসতে হবে। দলের নেতারা জানান, প্রধানমন্ত্রী সাংগঠনিক সভায় নেতা-কর্মীদের আগামী স্থানীয় নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধ হয়ে গ্রহণযোগ্যতা আছে, জিতে আসতে পারেন এমন প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। নির্বাচনে সরকার অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের মতো কোনো হস্তক্ষেপ করবে না বলেও জানিয়েছেন।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য মাঠ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেতা-কর্মীদের আরো সজাগ থাকতে হবে। সবাই যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে ৫০ ভাগ অপরাধ কমে যাবে। নিজেদেরও কোনো অপরাধে জড়ানো যাবে না। এ ক্ষেত্রে কোনো ছাড় নেই।

তারেক রহমান দলের নেতাকর্মীদের বলেন, আপনি যদি চান আপনার এলাকায় মাদকের সমস্যা কমে আসতে পারে। আপনি যদি চান আপনার এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। আপনি যদি চান বিভিন্ন রকমের যে চুরি-বাটপারি আছে সেগুলো কমে আসতে পারে। এই চাওয়াটা আপনাদেরই হতে হবে, শুধু প্রশাসনিকভাবে হলে হবে না। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর শক্তি জনগণ। রাজনৈতিক শক্তি যদি সঠিক চায় তাহলে কিন্তু অনেক খারাপ কাজ কমে যাবে। আপনারা যদি চান, ইনশাআল্লাহ তাহলে আমরা পারব। যে প্রত্যাশাটা মানুষের মধ্যে আছে, যে প্রত্যাশাটা মানুষ চেয়েছে বা তৈরি হয়েছে, তার মাধ্যমে কিন্তু আমরা সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে বাস্তবায়িত করতে পারি। সভায় উপস্থিত কয়েকজন নেতা বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামের বর্তমান সরকারের নামে ছড়ানো নানা গুজব ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় নেতার্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। সরকারের ভালো কাজগুলো মানুষের কাছে তুলে ধরতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান নেতাকর্মীদের রাজপথের ত্যাগের কথাও তুলে ধরেন তার বক্তব্যে। তিনি বলেন, সভায় উপস্থিত প্রত্যেকটা মানুষ গত ১৭ বছর বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। মিথ্যা মামলা এবং নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। কিন্তু তারপরও তারা রাজপথে ছিলেন। বিএনপি রাজপথে ১৭ বছর ধরে অত্যাচারিত ছিল বলেই কিন্তু সমস্ত পৃথিবীর মানুষ জানতে পেরেছে। ১৭ বছর বাংলাদেশে একটি স্বৈরাচারী শাসন আমল চলেছে। বিএনপির লক্ষ কোটি কর্মীর কারণে বিশ্ববাসী উপলব্ধি করতে পেরেছিল বাংলাদেশে স্বৈরাচার ছিল।

সাংগঠনিক সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এমপি। সঞ্চালনা করেন সদস্য সচিব নাজিমুর রহমান। সন্ধ্যার আগেই দলের তৃণমূল নেতারা দলের চেয়ারম্যানের সাথে মতবিনিময় করতে সভাস্থলে অবস্থান করেন। প্রধানমন্ত্রী নগরীর জে এম সেন হলের অনুষ্ঠান শেষে সভায় আসেন রাত দশটা নাগাদ। সময় স্বল্পতার কারণে দলের নেতারা বক্তব্য দিতে পারেন নি বলে জানা গেছে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য গোলাম আকবর খন্দকার, এস এম ফজলুল হক, পানিসম্পদমন্ত্রী শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী, চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও ভূমি প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ভিপি হারুনুর রশিদ হারুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ ইদ্রিস মিয়া, সদস্য সচিব লায়ন হেলাল উদ্দীন, মোস্তফা কামাল পাশা এমপি, নুরুল আমিন এমপি, সরোয়ার আলমগীর এমপি, সরোয়ার জামাল নিজাম এমপি, আবু সুফিয়ান এমপি, সাঈদ আল নোমান এমপি, এনামুল হক এনাম এমপি, জসিম উদ্দিন এমপি, মহানগর বিএনপি সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসেম বক্কর প্রমুখ।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শারদীয় দুর্গোৎসবে পূজাম-প পরিদর্শন সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা জানাতে রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের জে এম সেন হলে আসেন। সামরিক বিমানযোগে সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। সেখান থেকে জে এম সেন হল পূজাম-প পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে জে এম সেন হল ও র‌্যাডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে-ভিউ হোটেলের সামনে উৎসুক লোকজন ও নেতাকর্মীরা ভিড় জমান। তারা মিছিলে সেøাগানে পুরো এলাকা মাতিয়ে রাখেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তাদের উৎসাহ দেন। জে এম সেন হল থেকে বের হয়ে তারেক রহমান প্রকোটল ভেঙে মিছিলরত নেতাকর্মীদের ভিড়ে মিশে যান। জে এম সেন হল থেকে মোমিন রোড হয়ে চেরাগি পাহাড় পর্যন্ত তিনি সবার সাথে হেঁটে পরে গাড়িতে উঠেন। র‌্যাডিসন থেকে বিমানবন্দরের পথে যাওয়ার সময়ও নেতাকর্মীরা তাকে বিদায় জানান।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান গত ৯ আগস্ট প্রথমবারের মতো চট্টগ্রাম সফরে এসেছিলেন। ওই সফরে তিনি চট্টগ্রামের বাঁশখালী, ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও মহানগরীর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে হোটেল র‌্যাডিসনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছিলেন।

জাতীয় | ২২ অক্টোবর ২০২৬

স্থানীয় নির্বাচনে কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না-তৃণমূল নেতাদের তারেক রহমানের বার্তা

বিস্তারিত | dainikamarnews.com