ইরানে দীর্ঘ যুদ্ধ নয়, স্বল্পমেয়াদি হামলার দিকেই ঝুঁকছেন ট্রাম্প
- প্রকাশিত : রবিবার, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬। ৯:১৪:১৪ এএম
ইরানের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী কোনো যুদ্ধে জড়াতে চান না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বরং খুব অল্প সময়ের মধ্যে সীমিত কিন্তু কার্যকর হামলার পরিকল্পনার দিকেই এগোচ্ছেন তিনি। দ্রুত কীভাবে এই হামলা চালানো যেতে পারে, সে বিষয়ে কাজ করতে নিজের প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে উল্লেখযোগ্য সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। যুদ্ধজাহাজ ও সেনাসদস্যদের এমন কৌশলগত অবস্থানে রাখা হয়েছে, যেখান থেকে সহজেই ইরানে হামলা চালানো সম্ভব। এখন মূল সিদ্ধান্ত ট্রাম্পের—এই বাহিনী কীভাবে এবং কখন ব্যবহার করা হবে।
ওয়ালস্ট্রিট জার্নালের তথ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হবে এমন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের মধ্যে জড়িয়ে পড়তে না হয়। বর্তমানে ইরানের ওপর ব্যাপক বোমাবর্ষণের বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যার প্রভাব দেশটির সরকারের স্থিতিশীলতা পর্যন্ত নড়বড়ে করে দিতে পারে।
একই সঙ্গে বিকল্প পরিকল্পনাও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। এর আওতায় প্রথমে ইরানের সরকারি অবকাঠামোর ওপর প্রতীকী বা সীমিত হামলা চালানো হতে পারে। এরপর ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া শর্তে রাজি না হয়, তাহলে ধাপে ধাপে হামলার মাত্রা বাড়ানোর সুযোগ রাখা হবে।
এর আগে গত বুধবার ট্রাম্প নিজেই ঘোষণা দেন, ইরানের দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল যুদ্ধজাহাজ বহর রওনা দিয়েছে। সে সময় তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে ইরানকে। অন্যথায়, আগের চেয়েও ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হতে হবে দেশটিকে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একটি সূত্র ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামনে একগুচ্ছ কঠোর শর্ত উপস্থাপন করেছে। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে—ইরানকে তাদের পারমাণবিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে, সমৃদ্ধকৃত ইউরেনিয়াম তৃতীয় কোনো দেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করতে হবে এবং ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা কমাতে হবে, যেন সেগুলো ইসরায়েল পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারে। পাশাপাশি হিজবুল্লাহ, হুতি ও হামাসের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সব ধরনের সহায়তা বন্ধের দাবিও জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমগুলোর মতে, ইরান হয়তো পারমাণবিক কার্যক্রম নিয়ে কিছুটা ছাড় দিতে পারে, তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নয় তেহরান। তাদের দাবি, আগের মতো এবারও ট্রাম্প ইরানের জন্য একটি সময়সীমা বেঁধে দেবেন—যা ইরান পূরণ করতে পারবে না। এরপর সেই সময়সীমা শেষ হলেই হামলার নির্দেশ দেওয়া হতে পারে।
উল্লেখ্য, গত বছর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক ইস্যুতে আলোচনা চলছিল। এর মধ্যেই ১৩ জুন আকস্মিকভাবে ইরানে হামলা চালায় ইসরায়েল। পরে সেই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রও যুক্ত হয় এবং ইরানের চারটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমাবর্ষণ করা হয়।
ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা নিয়ে এক ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, ট্রাম্প এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাননি। একই সময়ে তুরস্ক, কাতার, সৌদি আরব, ওমান ও মিসর যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসরায়েলি সূত্র ও কয়েকজন বিশ্লেষকের মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে কিছুটা নমনীয় অবস্থান নিতে পারেন। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত শর্তে কোনো ছাড় দেওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বললেই চলে। তথ্যসূত্র : ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল
বিশ্ব | ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ইরানে দীর্ঘ যুদ্ধ নয়, স্বল্পমেয়াদি হামলার দিকেই ঝুঁকছেন ট্রাম্প


























