শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির আহ্বান এরদোগানের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • প্রকাশিত : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬। ৪:২২:১২ এএম

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি এমন দেশগুলোর প্রতি নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার কাঠামো সংস্কার করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোগান বলেন, বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ বর্তমান কাঠামোর কারণে কার্যকরভাবে এগোতে পারছে না। তাঁর মতে, ৮১ বছর আগে যে লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমান কাঠামো সেই উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রভাবের সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের সামগ্রিক ইচ্ছা মাত্র পাঁচটি দেশের সিদ্ধান্ত ও স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক করতে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান।

গাজার পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি সেখানে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। গাজার পুনর্গঠন দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোগান। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার কারণে আব্বাস টানা দ্বিতীয় বছর নিউইয়র্কে সশরীরে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি। এ পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অবিচার হিসেবে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, আব্বাস উপস্থিত থাকতে না পারলেও তুরস্ক স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে।

এরদোগান জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, যারা এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তারা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তুরস্কের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর সমালোচনা করে আসছে। আঙ্কারা এসব কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ইসরাইল গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

বিশ্ব | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির আহ্বান এরদোগানের

বিস্তারিত | dainikamarnews.com

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির আহ্বান এরদোগানের

Update Time : ০৪:২২:১২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে এখনো স্বীকৃতি দেয়নি এমন দেশগুলোর প্রতি নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। একই সঙ্গে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ক্ষমতার কাঠামো সংস্কার করে বিশ্ব ব্যবস্থাকে আরও ন্যায়সংগত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোগান বলেন, বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘ বর্তমান কাঠামোর কারণে কার্যকরভাবে এগোতে পারছে না। তাঁর মতে, ৮১ বছর আগে যে লক্ষ্য ও আদর্শ নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমান কাঠামো সেই উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয়।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রভাবের সমালোচনা করে এরদোগান বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের সামগ্রিক ইচ্ছা মাত্র পাঁচটি দেশের সিদ্ধান্ত ও স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। তিনি নিরাপত্তা পরিষদকে আরও বিস্তৃত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক করতে জরুরি সংস্কারের আহ্বান জানান।

গাজার পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি সেখানে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের কথা তুলে ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও কার্যকর পদক্ষেপের আহ্বান জানান। গাজার পুনর্গঠন দ্রুত শুরু করার পাশাপাশি ইসরাইলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর কথাও বলেন তিনি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অনুপস্থিতির বিষয়টিও তুলে ধরেন এরদোগান। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না দেওয়ার কারণে আব্বাস টানা দ্বিতীয় বছর নিউইয়র্কে সশরীরে জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি। এ পরিস্থিতিকে ফিলিস্তিনিদের প্রতি অবিচার হিসেবে উল্লেখ করে এরদোগান বলেন, আব্বাস উপস্থিত থাকতে না পারলেও তুরস্ক স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে কথা বলে যাবে।

এরদোগান জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, যারা এখনো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি, তারা যেন নিজেদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে। ১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে এবং পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তুরস্কের অবস্থানও তুলে ধরেন তিনি।

গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান নিয়ে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরেই কঠোর সমালোচনা করে আসছে। আঙ্কারা এসব কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছে। তবে ইসরাইল গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স

বিশ্ব | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতির আহ্বান এরদোগানের

বিস্তারিত | dainikamarnews.com